...
...
Next Story

Trina-Neel: ‘আমার আর নীলের ডিভোর্স হয়নি’, নায়কের জন্মদিনের পার্টিতে অনুপস্থিতি নিয়ে জবাব তৃণার

বিয়ে তাঁর জীবনের একটি অংশ মাত্র, সমগ্র জীবন নয়, স্পষ্ট জানালেন পরশুরাম নায়িকা তৃণা। নীলের সঙ্গে একছাদের তলায় থাকেন না তিনি, এ কথা কারুর অজানা নয়। তবে নায়িকা বলছেন, তাঁদের ডিভোর্স হয়নি।

Published on: Jun 25, 2026, 09:30:27 IST
Advertisement

টলিউড তথা বাংলা টেলিভিশন জগতের অন্যতম জনপ্রিয় ‘পাওয়ার কাপল’ নীল ভট্টাচার্য এবং তৃণা সাহা। তবে বিগত কিছুদিন ধরে তাঁদের দাম্পত্য জীবনের টানাপোড়েন ও বিচ্ছেদের (Divorce) গুঞ্জন নিয়ে উত্তাল নেটপাড়া। বিশেষ করে জুনের শুরুতে নীলের জন্মদিনের পার্টিতে তৃণার অনুপস্থিতি, সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে উইশ না করা এবং পরিবর্তে কিছু ইঙ্গিতপূর্ণ বা রহস্যময় (Cryptic) পোস্ট শেয়ার করা— তাঁদের ডিভোর্সের জল্পনাকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। নীল আর তৃণা যে এখন ছাদের তলায় থাকেন না, সেটাও টলিপাড়ায় কারুর অজানা নয়।

‘আমার আর নীলের ডিভোর্স হয়নি’, নায়কের জন্মদিনের পার্টিতে অনুপস্থিতিতে জবাব তৃণার
‘আমার আর নীলের ডিভোর্স হয়নি’, নায়কের জন্মদিনের পার্টিতে অনুপস্থিতিতে জবাব তৃণার

এবার এই সমস্ত বিতর্ক, ট্রোলিং এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট ও কড়া ভাষায় নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন পর্দার পরশুরামের ‘তটিনী’ ওরফে তৃণা সাহা।

‘বিয়ে আমার জীবনের একটা অংশ মাত্র’

নীল ভট্টাচার্যের সাথে সম্পর্ক এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় চলতে থাকা ডিভোর্সের গুঞ্জন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তৃণা সোজা ব্যাটে খেলে টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে জানান যে তিনি তাঁর কাজ এবং ক্যারিয়ার নিয়ে এখন ভীষণ ব্যস্ত। নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে লাইমলাইটের বাইরে রাখার ইঙ্গিত দিয়ে তৃণা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে বলেন, ‘বিবাহিত হওয়াটা আমার জীবনের একটা অংশ মাত্র; এটা আমার গোটা জীবন বা আমার সমগ্র অস্তিত্ব নয়।’ তবে তৃণা স্পষ্ট করেছেন, তাঁর আর নীলের ডিভোর্স হয়নি। তাঁরা এখনও বিবাহিত।

অভিনেত্রীর এই একটি উক্তিই স্পষ্ট করে দেয় যে তিনি তাঁর বৈবাহিক সম্পর্কের ঊর্ধ্বে নিজের আলাদা পরিচয়, ক্যারিয়ার এবং স্বাধীনতাকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন।

চলতি মাসের ৮ই জুন নীল ভট্টাচার্যের জন্মদিনে তৃণা সাহাকে কোথাও দেখা যায়নি। নীল যখন অন্য বন্ধুদের সাথে পার্টি ও নাচে মশগুল ছিলেন, তৃণা তখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ইঙ্গিতে একাধিক বিস্ফোরক পোস্ট করেন। তবে সাক্ষাৎকারে তৃণা বলেন, তিনি নীলকে ব্যক্তিগতভাবে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। আগের বছরগুলোতে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করলেও এবার কী এমন বদলে গেল, তা নিয়ে সরাসরি কথা না বললেও, তৃণা বুঝিয়ে দেন যে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে বাইরে কে কী ভাবছে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় কারা ট্রোল করছে, তা নিয়ে তিনি বিন্দুমাত্র চিন্তিত নন। তিনি নিজের মতো করে জীবন কাটাতে এবং নিজের মা-বাবার দায়িত্ব নিতে ভালোবাসেন।

নীলের জন্মদিনের পার্টিতে অনুপস্থিতির জবাবে, স্বামীর দিকেই বল ঠেলে দেন তৃণা। বলেন, ‘নীলের খুশিই প্রাধান্য পাবে এখানে, ওহ যেমনভাবে চেয়েছিল সেলিব্রেট করেছে’।

নীলের নাম না নিলেও তৃণা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তিনি মনে মনে কারও প্রতি ক্ষোভ পুষে রাখায় বা কারও ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার মানসিকতায় একদমই বিশ্বাস করেন না। তাঁর মতে, কেউ যদি তাঁর সাথে খারাপ ব্যবহার করে বা তাঁকে আঘাত দেয়, তবে তিনি পাল্টা আঘাত করার পেছনে নিজের মূল্যবান সময় ও শক্তি নষ্ট করতে চান না।

কর্মফলে বিশ্বাসী তৃণা

জীবনে থমকে না থেকে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়াকে বেশি গুরুত্ব দেন পর্দার তটিনী। এই প্রসঙ্গে তিনি কর্মফল ও ঈশ্বরের ওপর নিজের অগাধ বিশ্বাসের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘নিজের জন্য একটা লাক্সারি গাড়ি কেনো, পপকর্ন খাও এবং বাকিটা ঈশ্বরের ওপর ছেড়ে দাও।’

তৃণা বিশ্বাস করেন, যারা অন্যের ক্ষতি করে বা কাউকে নিয়ে নোংরা সমালোচনা করে, তাদের বিচার করার দায়িত্ব ভগবানের। তাই নিজে প্রতিশোধের কথা না ভেবে নিজের জীবনকে উপভোগ করা এবং শান্তিতে থাকাটাই সবচেয়ে বড় জবাব।

নিজের মানসিক শান্তিকে প্রাধান্য দেওয়া

তৃণার মতে, মানুষের জীবনে দুঃখ, কষ্ট বা বিবাদ আসবেই। কিন্তু অতীতকে আঁকড়ে ধরে মন খারাপ করে বসে থাকার কোনও মানে হয় না। তিনি একজন 'ইনট্রোভার্ট' (অন্তর্মুখী) মানুষ হওয়া সত্ত্বেও নিজের আবেগ বা দুর্বলতাকে মেনে নিয়ে সাহসের সাথে জীবনে এগিয়ে চলেন। তিনি মনে করেন, নিজের ভালো থাকা এবং নিজের পরিবারের দায়িত্ব নেওয়াটাই আসল কাজ, বাকি সমস্ত নেতিবাচকতা ভুলে এগিয়ে যাওয়াই জীবনের মূল মন্ত্র।

 
ABOUT THE AUTHOR
Priyanka Mukherjee

প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe