টলিউডের ‘ইন্ডাস্ট্রি’ তথা মহাতারকা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়-এর বালিগঞ্জের বাসভবন ‘উত্সব’-এ এক ঐতিহাসিক এবং হাই-প্রোফাইল সাক্ষাৎ ঘটল। প্রসেনজিতের বাড়িতে সোমবার বিকালে সশরীরে হাজির হয়েছিলেন দেশের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এবং সৌজন্যমূলক এই সাক্ষাৎ ঘিরে এই মুহূর্তে রাজনৈতিক এবং বিনোদন মহলে চর্চা তুঙ্গে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজে তাঁর আন্তরিক সফরের একগুচ্ছ ছবি সমাজমাধ্যমে শেয়ার করে বাংলা চলচ্চিত্র জগতের এই প্রবাদপ্রতীম নায়কের প্রতি গভীর সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, পালটা ধন্যবাদ জানান ‘বুম্বাদা’।
‘আপনাকে বাড়িতে স্বাগত জানাতে পেরে সম্মানিত’— প্রসেনজিৎ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ওঁর বাসভবনে আসার মুহূর্তটিকে জীবনের অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন প্রসেনজিৎ। নিজের অফিশিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে কাটানো চমৎকার মুহূর্তের ছবি শেয়ার করে বাংলায় তিনি লিখেছেন, ‘আপনাকে আমার বাড়িতে স্বাগত জানাতে পেরে আমি সত্যিই সম্মানিত বোধ করেছি, অমিত শাহজি। আপনার আন্তরিক আগমন, এবং আমাকে উপহার হিসেবে দেওয়া বইগুলির জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনার সঙ্গে কাটানো সময়, আমার কাছে অত্যন্ত স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আপনার এই সৌজন্যের নিদর্শন আমি সযত্নে লালন করব। আপনার এই আগমনে আমি গভীরভাবে সম্মানিত ও কৃতজ্ঞ।’
উপহারে বই এবং মিষ্টি আড্ডা
ছবিগুলোতে দেখা যাচ্ছে, প্রসেনজিতের ড্রয়িংরুমে বসে দুজনে বেশ হালকা মেজাজে দীর্ঘক্ষণ আড্ডা দিচ্ছেন। বুম্বাদার আতিথেয়তায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও ছিলেন বেশ সাবলীল। এই সৌজন্যমূলক সাক্ষাতের সময় অমিত শাহ অভিনেতার হাতে বেশ কিছু চিন্তাশীল ও মূল্যবান বই উপহার হিসেবে তুলে দেন। প্রসেনজিৎও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উত্তরীয় পরিয়ে এবং পুষ্পস্তবক দিয়ে তাঁর নিজস্ব বাসভবনে অভ্যর্থনা জানান। এদিন অমিত শাহ-র সঙ্গে অভিনেতার বাড়িতে পৌঁছেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও।
রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, নাকি নিছকই সৌজন্য?
সাধারণত বিনোদন জগতের শীর্ষ তারকাদের সাথে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের এই ধরণের সাক্ষাৎ নতুন কিছু নয়। তবে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রাখলে, প্রসেনজিতের বাড়িতে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এভাবে পা রাখাটা বিশেষ তাত্পর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। যদিও প্রসেনজিৎ বরাবরই নিজেকে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে রেখে একজন নিরপেক্ষ শিল্পী হিসেবেই বাঁচতে ভালোবাসেন। তাই এদিনের সাক্ষাৎটিকেও তিনি সম্পূর্ণ রূপে একটি ‘সৌজন্য সফর’ এবং ‘ব্যক্তিগত আড্ডা’ হিসেবেই তুলে ধরেছেন, যেখানে রাজনীতির চেয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধই বড় হয়ে উঠেছে। তবে বুম্বাদা-র ফেসবুকের কমেন্ট বক্সে অনেকেই একটা বিষয়কে বারবার টেনেছেন। বয়সে বুম্বাদা-র চেয়ে ছোট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী। হ্য়াঁ, ৬৩ বছর বয়সী প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের পাশে ৬১ বছরের অমিত শাহ-কে দেখে হতবাক অনেকেই।