ভারতীয় সিনেমার 'ডিস্কো ডান্সার' তথা মেগাস্টার মিঠুন চক্রবর্তী (Mithun Chakraborty)-র আজ বিপুল খ্যাতি, অগাধ সম্পত্তি এবং তিন-তিনটি জাতীয় পুরস্কার সহ দাদাসাহেব ফালকে সম্মান! কিন্তু সাফল্যের এই চূড়ায় পৌঁছানোর পেছনের ইতিহাসটা ভীষণ মর্মান্তিক ও লড়াইয়ে ভরা। সম্প্রতি কোরিওগ্রাফার-পরিচালক ফারাহ খানের (Farah Khan) ইউটিউব ভ্লগে এসে নিজের জীবনের সেই চরম অনাহার ও ফুটপাতে দিন কাটানোর স্মৃতি শেয়ার করলেন 'মহাগুরু'!

ফারাহ খান এবং মিঠুন চক্রবর্তী দুজনেই সেই শুরুর দিনের হৃদয়বিদারক সংগ্রামের গল্প শোনান।
বিনামূল্যে নাচ আর একমুঠো খাবারের লড়াই
ভ্লগে ফারাহ খানকে স্মৃতিচারণ করে বলেন, 'আমি যখন ছোট ছিলাম, আমার মামা কে. কে. শুক্লা অমিতাভ বচ্চনের জন্য সিনেমার গল্প লিখতেন। তাঁর বাড়ির পার্টিতে আমার মামা মিঠুনদাকে ডেকে আনতেন। শুধু রাতে একমুঠো বিনামূল্যে খাবার পাওয়ার জন্য মিঠুনদা পার্টিতে এসে নাচতেন! কোনো টাকা নিতেন না, বিনিময়ে কেবল রাতের খাবার পেতেন। আজকাল সবাই বললেই 'স্ট্রাগল' শব্দটা ব্যবহার করে, কিন্তু আসল সংগ্রাম কাকে বলে তা মিঠুনদাকে দেখে শেখা উচিত।'
‘হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে ফুটপাতে শুয়ে পড়তাম’: মিঠুন চক্রবর্তী
{{/usCountry}}‘হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে ফুটপাতে শুয়ে পড়তাম’: মিঠুন চক্রবর্তী
{{/usCountry}}ফারহার কথার উত্তরে আবেগঘন মিঠুন চক্রবর্তী জানান, তাঁর এই কষ্ট কেবল সাধারণ সংগ্রামের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি বলেন, ‘এটা সংগ্রামের থেকেও বেশি কিছু। আমি কত শত দিন ফুটপাতে, পার্কে ঘুমিয়েছি! হাঁটতে হাঁটতে যখন শরীর আর চলত না, চরম ক্লান্তিতে রাস্তায় দাঁড়িয়েই মাথা ঘুরে যেত, আমি ফুটপাতে ধপ করে শুয়ে পড়তাম। যখন চোখ খুলতাম, দেখতাম আমি ফুটপাতেই পড়ে আছি।’
ফারাহ খান আরও যোগ করেন, মিঠুন চক্রবর্তীই ভারতীয় ইন্ডাস্ট্রির একমাত্র তারকা যিনি একেবারে জুনিয়র আর্টিস্ট হিসেবে কেরিয়ার শুরু করে আজ মেগাস্টার হয়েছেন!
১৯৭৬ সালে মৃণাল সেনের 'মৃগয়া' ছবি দিয়ে যাত্রা শুরু করে 'সুরক্ষা', 'ডিস্কো ডান্সার', 'ডান্স ডান্স'-এর মতো একের পর এক ব্লকবাস্টার ছবি উপহার দেওয়া মিঠুনদাকে ২০২৪ সালে 'পদ্মভূষণ' ও 'দাদাসাহেব ফালকে' সম্মানে ভূষিত করা হয়। অনাহার থেকে সাফল্যের এই রাজকীয় যাত্রাই তাঁকে টলিউড ও বলিউডের সর্বকালের অন্যতম সেরা লেজেন্ড বানিয়ে তুলেছে! বাঙালির আইকন মিঠুন চক্রবর্তী এখন ৪০০ কোটির মালিক। তাঁর ১৬টি বাংলো রয়েছে দেশের নানান প্রান্তে। স্ত্রী,সন্তান নিয়ে সুখের সংসার মহাগুরুর। তবে জীবনের সেই লড়াইের দিনগুলো আজও মনে রেখেছেন মিঠুনদা।