...
...
Next Story

নেই বলিপ্রথা! ষষ্ঠী টু নবমী নিরামিষ তবে দশমীতে মেটে-চচ্চড়ি মাস্ট, মল্লিক বাড়ির পুজোর বিশেষত্ব জানেন?

প্রতিমার গয়না পরান মেয়েরা, অস্ত্র তোলেন পুরুষেরা! জানুন রঞ্জিত-কোয়েলের মল্লিকবাড়ির পুজো ও 'মেটে চচ্চড়ি'র বিশেষত্ব।

Published on: Oct 2, 2026, 13:00:28 IST
Advertisement

তিলোত্তমার বুকে সাবেকি দুর্গাপুজোর কথা উঠলেই যে ক’টি নাম প্রথম সারিতে ভেসে ওঠে, তার মধ্যে অন্যতম ভবানীপুরের বিখ্যাত ‘মল্লিক বাড়ি’। রঞ্জিত মল্লিক ও কোয়েল মল্লিকের ঐতিহ্যবাহী এই বাড়ির দুর্গোৎসবের রূপ-ঐতিহ্য সবসময়ই আলাদা কৌতূহল তৈরি করে। ১৯২৫ সালে শুরু হওয়া এই প্রাচীন পুজোর ইতিহাস কেবল আভিজাত্য নয়, বরং নানা অনন্য রীতি আর নিয়মের মেলবন্ধনে সমৃদ্ধ।

নেই বলিপ্রথা! ষষ্ঠী টু নবমী নিরামিষ তবে দশমীতে মেটে-চচ্চড়ি মাস্ট, মল্লিক বাড়ির পুজোর বিশেষত্ব জানেন?
নেই বলিপ্রথা! ষষ্ঠী টু নবমী নিরামিষ তবে দশমীতে মেটে-চচ্চড়ি মাস্ট, মল্লিক বাড়ির পুজোর বিশেষত্ব জানেন?

গুপ্তিপাড়া থেকে ভবানীপুর:

এই পরিবারের দুর্গাপুজোর সূচনা ১৯২৫ সালে, রাধাগোবিন্দ মল্লিকের পুত্র সুরেন্দ্রমাধব মল্লিকের হাত ধরে। তবে ভবানীপুরের আগে হুগলির গুপ্তিপাড়ায় তাঁদের আদি নিবাসে দেবী আরাধনার প্রচলন ছিল। নতুন ঠিকানায় পুজো শুরু হলেও পুরনো সংস্কার ও নিয়ম অটুট রয়েছে আজও। শুধু রঞ্জিত বা কোয়েলই নন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত এবং ‘ইকমিক কুকার’-এর উদ্ভাবক ইন্দুমাধব মল্লিক কিংবা বিখ্যাত রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী প্রমিতা মল্লিকের নামও জড়িয়ে রয়েছে এই ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সঙ্গে।

গয়না পরান নারীরা, অস্ত্র দেন পুরুষেরা:

জন্মাষ্টমীর দিন দেবীর কাঠামো পুজোর মাধ্যমে প্রস্তুতি শুরু হয় মল্লিক বাড়িতে। একচালা সাবেকি এক প্রতিমায় ডাকের সাজে সজ্জিত থাকেন দেবী দুর্গা। তবে প্রতিমার সাজসজ্জার ক্ষেত্রে রয়েছে এক চমকপ্রদ নিয়ম— দেবীর গায়ে সোনার অলঙ্কার পরাণ পরিবারের মেয়েরা, আর এরপর দেবীর হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়ার দায়িত্ব থাকে পরিবারের পুরুষ সদস্যদের।

মল্লিক বাড়ি আদ্যোপান্ত বৈষ্ণব মতাবলম্বী। ফলে এখানে কোনো বলির প্রথা নেই। ষষ্ঠী থেকে নবমী পর্যন্ত সমস্ত নিয়ম মেনে নিরামিষ আহার চলে। অষ্টমীতে ১০৮টি প্রদীপের আলোয় সেজে ওঠে উঠোন, অনুষ্ঠিত হয় কুমারীপুজো ও সন্ধিপুজো। প্রথা মেনে পুজোর ক’দিন দেবীর প্রসাদে থাকে লুচি, রকমারি ভাজাভুজি, নাড়ু, ফল ও ক্ষীর।

দশমীর রাত ও ঐতিহ্যবাহী 'মেটে চচ্চড়ি':

বিসর্জনের পর দশমীর রাতে বাড়িতে আমিষ রান্নার অনুমতি মেলে। আর সেই বিশেষ ভোজের আকর্ষণ হলো বহুকালের ঐতিহ্যবাহী ‘মেটে চচ্চড়ি’। প্রজন্ম বদলে গেলেও দশমীর রাতের এই বিশেষ পদের স্বাদ আজও মল্লিক পরিবারের পুজোর আমেজকে অটুট রেখেছে।

কর্মসূত্রে পৃথিবীর যে প্রান্তে যিনিই থাকুন না কেন, পুজোর এই চার-পাঁচ দিন পরিবারের সব সদস্য একসঙ্গে মল্লিক বাড়িতে হাজির হন। অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকও শুটিংয়ের ব্যস্ততা ভুলে পুরোদস্তুর ‘ঘরের মেয়ে’ হয়ে কুমারীপুজো থেকে অতিথি আপ্যায়ন—সব দায়িত্ব সামলান নিজের হাতে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Priyanka Mukherjee

প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks