বলিউডের সত্তর-আশির দশকের অন্যতম জনপ্রিয় এবং দাপুটে অভিনেত্রী বিন্দু (Bindu)। খলনায়িকার চরিত্রে তাঁর অনবদ্য অভিনয় আজও সিনেপ্রেমীদের মনে উজ্জ্বল। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলোর এক অজানা ও অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করলেন বর্ষীয়ান এই অভিনেত্রী। ১৯৭৩ সালে মুক্তি পাওয়া প্রখ্যাত পরিচালক যশ চোপড়ার ‘জোশিলা’ (Joshila) সিনেমার সেটে আচমকাই তাঁকে একটি বিকিনি দৃশ্য শুট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যা শুনে কার্যত আকাশ থেকে পড়েছিলেন বিন্দু!

পরিচালককে না জানিয়ে এবং নিজের আপত্তির কথা স্পষ্ট করে কীভাবে তিনি প্রায় দুই ঘণ্টা শুটিং স্তব্ধ করে দিয়েছিলেন, সেই গল্পই এতদিনে শোনালেন অভিনেত্রী।
১. “আগে থেকে কিচ্ছু জানানো হয়নি, সেটে এসে জানতে পারি”— বিন্দু
প্রখ্যাত বিনোদন সাংবাদিক ভিকি লালওয়ানিকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে বিন্দু জানান, ছবিতে বিকিনি দৃশ্য থাকার কথা তাঁকে আগে থেকে কেউই জানায়নি। সেটে পৌঁছানোর পরই ওনাকে ওই পোশাকটি পরতে দেওয়া হয়।
পুরোনো স্মৃতি হাতড়ে বিন্দু বলেন:
“আমি প্রায় দুই ঘণ্টা শুটিং বন্ধ করে দিয়েছিলাম, কারণ আমি প্রপার বিকিনি পরার জন্য মানসিকভাবে একদমই প্রস্তুত ছিলাম না। বিকিনি তো বিকিনিই হয়! আমি সরাসরি যশ জি-কে (যশ চোপড়া) গিয়ে বললাম, ‘প্লিজ... আপনি তো আমাকে এই বিষয়ে আগে কিছুই জানাননি।’ সেটে এসে আমি প্রথম এটা জানতে পারি। আমার আপত্তি দেখে বেচারা দেব আনন্দ জি (Dev Anand) চুপচাপ একপাশে বসে রইলেন, কিচ্ছু বললেন না। আমি শুধু ভাবছিলাম, উনি আমার ব্যাপারে কী ভাবছেন! কিন্তু যশ জি পরিস্থিতি সামাল দেন।'
বিন্দুর অস্বস্তি দূর করতে দৃশ্যই বদলে ফেললেন যশ চোপড়া!
{{/usCountry}}বিন্দুর অস্বস্তি দূর করতে দৃশ্যই বদলে ফেললেন যশ চোপড়া!
{{/usCountry}}অভিনেত্রীর আপত্তির কথা বুঝতে পেরে পরিচালক যশ চোপড়া জোর জবরদস্তি না করে বিন্দুর কমফোর্টকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছিলেন। বিন্দু যাতে ক্যামেরার সামনে কুঁকড়ে না যান, তার জন্য পুরো দৃশ্যটির শুটিংয়ের কায়দাই বদলে ফেলেন পরিচালক।
বিন্দু জানান, ‘যশজি আমাকে আশ্বস্ত করে বললেন, ‘আমরা সামলে নেব, তুমি চিন্তা কোরো না।’ এরপর ওনারা আমাকে জলের মধ্যে নামিয়ে দেন এবং বলেন যতটা সম্ভব জলের নিচেই থাকতে। ক্যামেরা এমনভাবে সেট করা হয়েছিল যাতে আমার শুধু সাইড এবং ব্যাক শট (Side and Back shots) নেওয়া যায়। শুটিং শেষ হওয়ার পর আমি সিনেমাটোগ্রাফার ফালি মিস্ত্রিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম আমাকে কেমন লাগছে? উনি বলেছিলেন, ‘চিন্তা কোরো না, তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে, মোটেও অশ্লীল লাগছে না।’ ওঁর ওই কথার পর আমি স্বস্তি পাই।’
এক নজরে ব্লকবাস্টার ‘জোশিলা’
১৯৭৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘জোশিলা’ ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন দেব আনন্দ, হেমা মালিনী, রাখী এবং বিন্দু। ছবিতে দেব আনন্দকে দ্বৈত চরিত্রে দেখা গিয়েছিল।
দার্জিলিং কানেকশন: এই ছবির সিংহভাগ আউটডোর শুটিং হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের শৈলশহর দার্জিলিংয়ের মনোরম লোকেশনে। ছবিটি মূলত জেমস হ্যাডলি চেজের ১৯৫৯ সালের বিখ্যাত উপন্যাস ‘শক ট্রিটমেন্ট’-এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল।
ভ্যাম্প ঘরানার রানি বিন্দু
সত্তর ও আশির দশকের হিন্দি সিনেমার অন্যতম গ্ল্যামারাস খলনায়িকা ছিলেন বিন্দু। চার দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ১৬০টিরও বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। ১৯৬২ সালে মাত্র ২১ বছর বয়সে ‘অনপড়’ ছবি দিয়ে ডেবিউ করার পর, ১৯৭০ সালে ‘কাটি পতঙ্গ’ ছবিতে ‘শবনম’ চরিত্রে ওঁর অভিনয় এবং প্রেম চোপড়ার সাথে ওঁর অনস্ক্রিন জুটি আজও আইকনিক হয়ে রয়েছে। ২০০৮ সালে অজয় দেবগন ও মনীষা কৈরালা অভিনীত ‘মেহবুবা’ ছবিতে তাঁকে শেষবারের মতো বড় পর্দায় দেখা গিয়েছিল।