...
...
Next Story

Vijaya Mehta: নানা পাটেকর, রিমা লাগুদের নিজের হাতে গড়েছেন, প্রয়াত কিংবদন্তী নাট্যব্যক্তিত্ব বিজয়া মেহতা

মারাঠি থিয়েটারের জগতে তাজা বাতাস নিয়ে এসেছিলেন তিনি। ষাটের দশকে মুম্বইয়ের সাংস্কৃতিক নবজাগরণের অন্যতম কাণ্ডারী বিজয়া মেহতা প্রয়াত।

Published on: Jul 1, 2026, 11:48:27 IST
Advertisement

মুম্বইয়ের ১৯৬০-এর দশকের সাংস্কৃতিক নবজাগরণের অন্যতম কান্ডারী এবং মারাঠি থিয়েটার জগতের ভোল বদলে দেওয়া প্রখ্যাত অভিনেত্রী তথা পরিচালিকা বিজয়া মেহতা (Vijaya Mehta) আর নেই। মঙ্গলবার মুম্বাইয়ের নেপিয়ান সি রোডের নিজস্ব বাসভবনে দীর্ঘদিনের বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে ওঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। তিনি রেখে গেলেন ওঁর থিয়েটার ব্যক্তিত্ব কন্যা অনাহিতা এবং দুই পুত্রকে।

নানা পাটেকর, রিমা লাগুদের নিজের হাতে গড়েছেন, প্রয়াত কিংবদন্তী নাট্যব্যক্তিত্ব বিজয়া মেহতা
নানা পাটেকর, রিমা লাগুদের নিজের হাতে গড়েছেন, প্রয়াত কিংবদন্তী নাট্যব্যক্তিত্ব বিজয়া মেহতা

বিংশ শতাব্দীর ভারতীয় থিয়েটার ও সমসাময়িক নাট্য আন্দোলনে ওঁর অবদান অবিস্মরণীয়। ‘ব্যারিস্টার’, ‘হামিদাবাইচি কোঠি’, ‘পুরুষ’ এবং ‘ওয়াদা চিড়েবন্দি’-র মতো ল্যান্ডমার্ক নাটকের মাধ্যমে তিনি থিয়েটারের চেনা ছক ভেঙে এক নতুন ধারার সূচনা করেছিলেন।

মরাঠি থিয়েটারে আধুনিকতার হাওয়া এবং ‘রঙ্গায়ন’-এর প্রতিষ্ঠা

একটি মধ্যবিত্ত কায়স্থ পরিবারে জন্ম নেওয়া বিজয়া মেহতা মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হওয়ার পর পার্সি থিয়েটারের পুরোধা আদি মার্জবানের দলে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা (NSD)-র কিংবদন্তি ইব্রাহিম আলকাজির কাছে অভিনয়ের পাঠ নেন।

মরাঠি নাটকে শেকসপিয়রের ‘ওথেলো’র অনুবাদে ডেসডিমোনা চরিত্রে অভিনয় করে তাঁর অভিনয় জীবন শুরু হয়। এরপর নাট্যকার বিজয় তেন্ডুলকর, অভিনেতা ডঃ শ্রীরাম লাগু, সুলভা দেশপান্ডে, অরবিন্দ দেশপান্ডেদের সাথে নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বিখ্যাত থিয়েটার গ্রুপ ‘রঙ্গায়ন’ (Rangayan)। তেন্ডুলকর-মেহতা-লাগু— এই ত্রয়ী ভারতীয় থিয়েটারের ধরণ, ভাষা এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পুরোপুরি বদলে দিয়েছিলেন।

রঙ্গায়নের পর বিজয়া মেহতা বাণিজ্যিক থিয়েটারে মন দেন এবং বার্টোল্ট ব্রেখটের ‘ককশিয়ান চক সার্কেল’-এর মারাঠি অনুবাদ ‘আজব ন্যায় বার্তুলাচা’ পরিচালনা করে বিপুল প্রশংসিত হন। মহেশ এলকুঞ্চওয়ার, জয়বন্ত ডালভির মতো নতুন নতুন কালজয়ী নাট্যকারদের তিনি মঞ্চে তুলে এনেছিলেন।

থিয়েটার পরিচালনার পাশাপাশি তিনি দূরদর্শনের দুনিয়াতেও পা রেখেছিলেন। ১৯৮०-র দশকে চিকিৎসাব্যবস্থা ও হাসপাতালের পটভূমিতে তৈরি ওঁর পরিচালিত জনপ্রিয় টিভি সিরিয়াল ‘লাইফ লাইন’ দর্শকমহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। এছাড়া বিখ্যাত আন্তর্জাতিক পরিচালক পিটার ব্রুকের ‘মহাভারত’ চলচ্চিত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছিলেন। এনসিপিএ (NCPA) এবং এনএসডি (NSD)-র মতো মর্যাদাপূর্ণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের শীর্ষ প্রশাসনিক দায়িত্বও সামলেছেন তিনি।

নানা পাটেকর থেকে রীমা লাগু— বিজয়ার তৈরি নক্ষত্ররা

বিজয়া মেহতা শুধু নিজে অভিনয় বা পরিচালনা করেননি, তিনি ছিলেন এক দক্ষ মেন্টর বা শিক্ষক। ভারতীয় বিনোদন জগতের বহু মহীরুহ ওঁর হাত ধরেই অভিনয় জীবনের প্রথম পাঠ পেয়েছিলেন। ওঁর গ্রুম করা অভিনেতা-অভিনেত্রীদের তালিকায় রয়েছেন: নানা পাটেকর, রীমা লাগু,অশোক সরাফ, বিক্রম গোখলে, নীনা কুলকার্নি, ভারতী আচরেকর এবং বন্দনা গুপ্তেরা।

তাঁর প্রয়াণে ভারতীয় নাট্যজগতে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হলো। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজয়া মেহতার ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে বিনোদন জগতের শীর্ষ ব্যক্তিত্বরা গভীর শোক প্রকাশ করছেন।

 
ABOUT THE AUTHOR
Priyanka Mukherjee

প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe