রুপোলি পর্দার ‘থালাপথি’ এবার রাজনীতির ময়দানেও ‘অ্যাকশন’ মুডে। তামিলনাড়ুর মদ্যপান সমস্যা নিয়ে বরাবরই সরব হয়েছেন অভিনেতা বিজয়। সম্প্রতি রাজ্যে বেশ কিছু সরকারি মদের দোকান (TASMAC) বন্ধের জোরালো দাবির পর, এবার তাঁর লক্ষ্য অপ্রাপ্তবয়স্কদের মদ্যপান রোখা। সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে বিজয় স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, মদ বিক্রির ক্ষেত্রে ২১ বছরের বয়সসীমার যে আইনি নিয়ম রয়েছে, তাতে কোনওভাবেই ঢিলেমি দেওয়া চলবে না।

মদমুক্ত তামিলনাড়ুর লক্ষ্যে:
বিজয়ের রাজনৈতিক দল TVK-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র মদের দোকান বন্ধ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। নজর দিতে হবে যাতে কমবয়সী ছেলেমেয়েরা এই নেশার কবলে না পড়ে। তামিলনাড়ুর বর্তমান আইন অনুযায়ী, ২১ বছরের নিচে কারও কাছে মদ বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু বাস্তবে এই নিয়মের প্রয়োগ নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। বিজয়ের দাবি, প্রতিটি দোকানে পরিচয়পত্র যাচাই করা বাধ্যতামূলক করতে হবে এবং নিয়ম ভাঙলে লাইসেন্স বাতিল করতে হবে।
কেন এই কঠোরতা?
তামিলনাড়ুতে গত কয়েক বছরে বিষমদ এবং অনিয়ন্ত্রিত মদ্যপানের ফলে অসংখ্য প্রাণহানি ঘটেছে। বিজয় মনে করেন, একটি সুস্থ সমাজ গড়তে গেলে যুবসমাজকে নেশামুক্ত রাখা জরুরি। তাঁর দলের নির্বাচনী ইশতেহারেও ‘ধাপে ধাপে মদ নিষিদ্ধকরণ’-এর কথা বলা হয়েছে। বিজয়ের এই অবস্থান একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়োচ্ছে, অন্যদিকে বর্তমান সরকারের জন্য তৈরি করছে বড় চ্যালেঞ্জ।
চাপে প্রশাসন:
{{/usCountry}}চাপে প্রশাসন:
{{/usCountry}}বিজয়ের অনুরাগী সংখ্যা লক্ষাধিক, যার বড় অংশই তরুণ প্রজন্ম। প্রিয় তারকার এই ‘অ্যান্টি-লিকার’ অবস্থান যুবসমাজের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছেন সমাজতত্ত্ববিদরা। বিজয় প্রশাসনকে সাফ বার্তা দিয়েছেন— রাজস্ব আদায়ের চেয়ে মানুষের জীবন অনেক বেশি দামী।
রাজনীতি ও সমাজসেবা:
অভিনয় ছেড়ে পুরোপুরি রাজনীতিতে আসার ঘোষণা করার পর থেকেই বিজয় একের পর এক জনকল্যাণমুখী ইস্যুতে সরব হচ্ছেন। মদের দোকান বন্ধ করা এবং বয়সসীমা কঠোর করার এই দাবি কেবল রাজনৈতিক চমক নাকি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা, তা সময়ই বলবে। তবে ‘থালাপথি’ যে নিজের লক্ষ্যে অবিচল, তা তাঁর এই সাম্প্রতিক পদক্ষেপ থেকেই পরিষ্কার।