কপালে সনাতনী রীতি অনুযায়ী তিলক পরতে অস্বীকার করে সোশ্যাল মিডিয়ায় জোর বিতর্কের মুখে পড়লেন বলিউডের প্রখ্যাত কোরিওগ্রাফার ও পরিচালক ফারহা খান (Farah Khan)। একটি অনুষ্ঠানে স্বাগতম জানানোর ট্র্যাডিশনাল মুহূর্তে ফারহার এই ধরনের আচরণের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই নেটপাড়া দুইভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে।

ঘটনাটি ঠিক কী ঘটেছিল?
সম্প্রতি একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন ফারহা খান। সেখানে তাঁকে ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় প্রথায় বরণ করে নেওয়ার জন্য একজন মহিলা যখন তাঁর কপালে তিলক পরাতে এগিয়ে আসেন, তখনই বাধা দেন ‘ম্যায় হু না’ খ্যাত এই পরিচালক। তিনি কপালে তিলক না নিয়ে নিজের হাত বাড়িয়ে দেন এবং কপালে দেওয়ার বদলে হাতের ওপর তিলক এঁকে দিতে অনুরোধ জানান। মহিলাটি তাঁর হাতেই তিলক পরিয়ে দিলে তা গ্রহণ করেন ফারহা।
সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনদের তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ট্রোলিং:
ভিডিওটি ভাইরাল হতেই নেটিজেনদের একাংশ ফারহার এই ভূমিকায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। ট্রোলারদের অভিযোগ, হিন্দু রীতিকে অসম্মান করতেই তিনি কপালে তিলক নিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। এক নেটিজেন ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন— ‘ইসলামে নেলপালিশ পরাও নিষেধ, কিন্তু সেটাকে ফ্যাশন স্টেটমেন্ট হিসেবে পরা যায়, অথচ বরণ করার সনাতনী তিলক কপালে নিতে অনীহাপ্রকাশ করা হয়! এটাই বলিউডের তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ রূপ।’ অন্য একজন লেখেন— ‘একজন মহিলা যখন তিলক দিয়ে স্বাগত জানাতে এলেন, তখন তিনি কেন অসন্তুষ্ট হয়ে কপালে তিলক নিলেন না’।
ফারহার পাশে দাঁড়িয়ে অনুরাগী ও নেটিজেনদের যুক্তি:
{{/usCountry}}ফারহার পাশে দাঁড়িয়ে অনুরাগী ও নেটিজেনদের যুক্তি:
{{/usCountry}}তবে বিতর্কের মাঝে অনেকেই ফারহা খানের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ও পছন্দের স্বাধীনতাকে সমর্থন করে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। সমর্থকদের বক্তব্য, কাউকে জোর করে কোনো রীতির মধ্যে টেনে আনা উচিত নয় এবং এটা সম্পূর্ণ তাঁর নিজস্ব পছন্দ। এক সমর্থক লেখেন— ‘তিনি হাতে হলেও তিলকটি গ্রহণ করেছেন এবং বিনয়ের সাথেই বারণ করেছেন। আমরা জানি না সেদিন তাঁর মেকআপ বা মেজাজ কেমন ছিল, একটি অতি সাধারণ বিষয় নিয়ে সাম্প্রদায়িক বিতর্ক তৈরি করার কোনো মানে হয় না।’
প্রসঙ্গত, ফারহা খানের স্বামী শিরিষ কুন্দর হিন্দু, তবে বিয়ের পরও ফারহা নিজের ধর্মই মেনে চলেন। তাঁদের তিন সন্তান আপতত আমেরিকায় পড়াশোনা করছে।ফারহা খান সম্প্রতি রিতেশ দেশমুখের সাথে জনপ্রিয় শো 'লক আপ: সাচ বা সাজা'-র দ্বিতীয় মরসুমের সঞ্চালনা সম্পন্ন করেছেন।