২০২৬ সালের সবচেয়ে আলোচিত সিনেমা নিঃসন্দেহে ‘হনুমান অংশ’। কোনো প্রত্যাশা ছাড়াই এটি মুক্তি পায়। আর মাত দিয়েছে টক্সিকের মতো সিনেমাকেও। এখন এর দ্বিতীয় পর্বের মুক্তির জন্য অনেকেই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে যে, ভারতীয় ক্রিকেটার বিরাট কোহলি এবং অভিনেত্রী অনুষ্কা শর্মা এই দ্বিতীয় পর্বে অভিনয় করতে পারেন। বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি ছবিটির প্রযোজক নম্রতা সিং এই তারকা দম্পতির সঙ্গে আলোচনাও করেছেন।
হনুমান অংশ ২-এ থাকছেন বিরাট-অনুষ্কা?

বিরাট কোহলি এবং অনুষ্কা শর্মা দুজনেই নিম করোলি বাবার একনিষ্ঠ ভক্ত। তাঁরা তাঁদের মেয়ে ভামিকার সঙ্গে কাইঞ্চি ধামেও গিয়েছেন। ‘হনুমান অংশ’-এর প্রযোজক নম্রতা সিংকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয় যে এই ভক্তিমূলক নাটকের দ্বিতীয় পর্বে তারকা দম্পতি অভিনয় করতে পারেন কি না, তখন প্রযোজক উত্তর দেন, ‘আমি সিনেমাটি নিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, এবং তারা ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে জানেন।’
তবে, বিরাট এবং অনুষ্কা শর্মা হনুমান অংশ ২-এর অংশ হবেন কিনা, সে বিষয়ে তাঁদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি।
হনুমান অংশ ট্রিলজি কীভাবে এগোবে?
একটি বিনোদন পোর্টালের সঙ্গে কথোপকথনে নম্রতা সিং আরও জানান যে, হনুমান অংশ তৈরির আগে তিনি ছবিটি তিন ভাগে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। প্রথম ভাগে নিম করোলি বাবার শৈশব থেকে সিদ্ধি (শক্তি) লাভ এবং দেশজুড়ে তাঁর তীর্থযাত্রার কাহিনী তুলে ধরা হবে। দ্বিতীয় ভাগে, নির্মাতারা তাঁর কাইঞ্চি ধাম এবং সেইসব ভক্তদের অধ্যায় তুলে ধরবেন, যাঁদের জীবন নিম করোলি বাবার দ্বারা উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত হয়েছিল।
তৃতীয় পর্বে বিশ্বজুড়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের উপর এই মহান সাধকের আধ্যাত্মিক প্রভাব দেখানো হবে। ছবিটি ভারত এবং বিশ্বজুড়ে দুর্দান্ত ব্যবসা করছে। ইতিমধ্যে হোমবালে ফিল্মস এটি বিদেশেও মুক্তি দিয়েছে।
কে নিম করোলি বাবা?
{{/usCountry}}তৃতীয় পর্বে বিশ্বজুড়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের উপর এই মহান সাধকের আধ্যাত্মিক প্রভাব দেখানো হবে। ছবিটি ভারত এবং বিশ্বজুড়ে দুর্দান্ত ব্যবসা করছে। ইতিমধ্যে হোমবালে ফিল্মস এটি বিদেশেও মুক্তি দিয়েছে।
কে নিম করোলি বাবা?
{{/usCountry}}ভক্তরা বিশ্বাস করেন নিম করোলি বাবা স্বয়ং বজরংবলীর অংশ। তিনি ‘মহারাজজি’ হিসেবেও পরিচিত। তাঁর সঙ্গে দেখা করতে ছুটে এসেছিলেন মার্ক জুকারবার্গ থেকে স্টিভ জোবস। তাঁর ভক্ত তালিকায় রয়েছে রাম দাস, ভগবান দাস, কৃষ্ণ দাস ও জাই উত্তালের মতো নামও। উত্তরাখণ্ডের নৈনিতালের কাছে কাইঞ্চি ধামে এসেছিলেন জুলিয়া রবার্টসও।
নিম করোলি বাবা-র আধ্যাত্মিক দর্শন কোনো জটিল আচার-অনুষ্ঠানের ওপর ভিত্তি করে ছিল না। মানুষকে ভালোবাসা, অভুক্তকে খাবার দেওয়া, ঈশ্বরকে স্মরণ করা এবং জীবনের জটিলতাকে অযথা বাড়িয়ে না তোলা-- এই মূল মন্ত্রেই বিশ্বাসী ছিলেন তিনি। ১৯৭৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর প্রয়াত হন তিনি। তবে মৃত্যুর এতগুলো বছর পরেও, নিম করোলি বাবা-র মাহাত্য একইভাবে তাঁর ভক্তদের মধ্যে।
তাঁর আসল নাম ছিল লক্ষ্মীনারায়ণ শর্মা। আনুমানিক ১৯০০ সালে, উত্তরপ্রদেশের আকবরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম হয়েছিল। অল্প বয়সে গৃহত্যাগ করে উত্তর ভারতজুড়ে সাধনা ও ভ্রমণের পর তিনি পরিবারের অনুরোধে ফিরে এসে সংসার করেন। তাঁর দুই পুত্র ও এক কন্যা ছিল। তবে সংসারে টেকেনি মন। ফের বেরিয়ে পড়েন সংসার ত্যাগ করে। সেই সময় একাধিক নামে পরিচিত ছিলেন ভক্তদের মাঝে--- বাবা লক্ষ্মণ দাস, হান্ডি ওয়াল্লাহ বাবা, চমৎকারী বাবা এবং তিকোনিয়া ওয়াল্লা বাবা। তাঁর জীবদ্দশায় কাইঞ্চি ও বৃন্দাবনে দুটি প্রধান আশ্রম নির্মিত হয়েছিল। বৃন্দাবনের একটি হাসপাতালে ডায়াবেটিক কোমায় মারা যান তিনি।