টলিপাড়ায় এখন কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে যে, বিচ্ছেদের পথে রণজয় বিষ্ণু আর শ্য়ামৌপ্তি মুদলি। চলতি বছরের ভ্য়ালেন্টাইন্স ডে-র দিন একেবারে রাজকীয় আয়োজনে, টলিউডের তারকাদের উপস্থিতিতে তাঁরা ঘুরেছিলেন সাত পাকে। শ্যামৌপ্তির সিঁথিতে সিঁদুরে দেন রণজয়। কিন্তু মাসখানেক যেতে না যেতেই বিষাদের সুর। দাম্পত্যে বিচ্ছেদের খবর নিয়ে চর্চা চারদিকে।

স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, হ্য়াপি গো লাকি কাপল হিসেবে পরিচিত দুই তারকার কী হল! শোনা যাচ্ছে, সমস্যা চলছে বেশ কয়েকমাস ধরে। এমনকী, দুজনের ছাদও নাকি বর্তমানে আলাদা। মা-বাবার কাছে ফিরে গিয়েছেন শ্যামৌপ্তি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুঁ মারলে দেখা যাবে অভিনেত্রী বরের সঙ্গে শেষ পোস্ট রণজয়ের জন্মদিনে। লিখেছিলেন, ‘যদিও প্রতিটা দিনই তোমার দিন, কিন্তু জন্মদিন বলে কথা একটু তো স্পেশাল হতেই হবে.এক রাশ ভালোবাসা নিয়ে ভালো কাটুক আগামী জীবন. যত্নে থাকুক তোমার ভিতরের ছেলেমানুষটা। শুভ জন্মদিন বর।’ সেটা মার্চ মাস। এরপর অিনেত্রীর প্রোফাইলে হয় তাঁর সিনেমা ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড নিয়ে ছবি বা ফোটোশ্যুটের। মাঝে দুজনের কিছু ব্র্যান্ড শ্যুটের ফোটো ভিডিয়ো এলেও, ব্যক্তিগত মুহূর্ত অধরা।
টলিপাড়ার ‘লাভার বয়’ রণজয় কিন্তু এর পরেও বউয়ের সাথে ফোটো দিয়েছেন। নববর্ষে। বন্ধুদের সঙ্গে করেছিলেন পার্টি। প্রসঙ্গত, এপ্রিলেই 'ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড'-এর প্রিমিয়ারে একসঙ্গে এসেছিলেন কর্তা-গিন্নি। ডিভোর্সচর্চার মাঝেই ঐশ্বর্য সেনের জন্মদিনের পার্টিতে একাকী গিয়েছেন শ্য়ামৌপ্তি। সেই অনুষ্ঠানের ছবি-ভিডিয়োও রিপোস্ট করে চলেছেন।
এদিকে রণজয় ও শ্য়ামৌপ্তির বিয়ে ভাঙা নিয়ে একাধিত তত্ত্ব সামনে আসছে। যার মধ্যে ‘পরকীয়া’ও রয়েছে। নায়িকার সঙ্গে নাম জুড়েছে শহরের এক ক্যাফে মালিকের। আর রণজয়ের সঙ্গে তাঁর প্রতিজ্ঞা সহ-অভিনেত্রী অভিকা মালাকারের।
তবে যা-ই রটুক না কেন, ডিভোর্সের গুঞ্জন হাওয়ায় উড়িয়ে দিয়েছেন রণজয়। সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘জানি না এসব কীভাবে রটল! আমার সাথে এইমাত্র কথা হল শ্যামৌপ্তির।’ এদিকে তাঁর বউ ‘হ্যাঁ’-ও করেননি, ‘না’-ও বলেননি। বরং একটু বিরক্তি নিয়েই জবাব, ‘এই ব্যাপারে এখন কোনো মন্তব্য করতে চাই না’! তবে আপাতত সোশ্যাল মিডিয়ায় এখনো ফলো করছেন একে-অপরকে। এমনকী, দুজনে কেউ কোনো ছবিও মুছে ফেলেননি। বাদবাকি ডিভোর্স-চর্চা আদৌ সত্য, না পুরোপুরি মিথ্যে রটনা, সে জবাব দেবে সময়।
প্রসঙ্গত, গুড্ডি ধারাবাহিকে কাজ করার সময় আলাপ। সেটে প্রথমদিকে কথাও হত না। পরে বন্ধুত্ব হয়, তারপর প্রেম। এমনকী, ২০২৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তাঁরা আইনি বিয়ে করলেও, রেজিস্ট্রি ম্যারেজ করে রেখেছিলেন আগেই। যদিও ব্যাপারটা পুরোপুরি চেপে গিয়েছিলেন।