প্রয়াত অভিনেতা ঋষি কাপুর তাঁর আত্মজীবনী খুল্লাম খুল্লা (Khullam Khulla)-তে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন যে, ১৯৯৩ সালের মুম্বই বিস্ফোরণের বহু আগে দুবাইয়ে দু'বার তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছিল অপরাধ জগতের কুখ্যাত ব্যক্তিত্ব দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে।

ঋষি কাপুরের দাবি, প্রথম সাক্ষাৎটি হয় ১৯৮৮ সালে। একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দুবাই পৌঁছনোর পর বিমানবন্দরেই তাঁর কাছে একটি ফোন আনা হয় এবং জানানো হয়, ‘দাউদ সাহেব কথা বলবেন।’ পরে দাউদের আমন্ত্রণে তিনি এক অজ্ঞাত স্থানে যান। অভিনেতার বর্ণনায়, তাঁকে একটি বিলাসবহুল রোলস-রয়েসে করে এমনভাবে ঘোরানো হয়েছিল যাতে তিনি গন্তব্যস্থল চিনতে না পারেন। সেখানে কয়েক ঘণ্টা ধরে চা ও আড্ডার মাধ্যমে তাঁদের কথোপকথন চলে।
ঋষি লিখেছেন, দাউদ তাঁকে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন এবং প্রয়োজনে অর্থ বা অন্য যে কোনো সাহায্যের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। তবে অভিনেতা জানান, তিনি সেই প্রস্তাবে সাড়া দেননি।
এক বছর পরে, ১৯৮৯ সালে, স্ত্রী নীতু কাপুরের সঙ্গে দুবাইয়ে কেনাকাটা করার সময় হঠাৎ করেই আবার দাউদের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। সেই সময় দাউদ তাঁর পছন্দের জিনিস কিনে দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও ঋষি তা প্রত্যাখ্যান করেন। আত্মজীবনীতে তিনি উল্লেখ করেন, কথোপকথনের এক পর্যায়ে দাউদ ভারতের বিচারব্যবস্থা ও রাজনীতিবিদদের নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন, কিন্তু তিনি নিজেকে সেই আলোচনা থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে বলেন, ‘আমি একজন অভিনেতা, আমাকে এসবের মধ্যে জড়াবেন না।’
ঋষি কাপুর স্পষ্টভাবে লিখেছিলেন যে, এই সাক্ষাৎগুলোর সময় তিনি দাউদকে দেশের শত্রু হিসেবে দেখতেন না, কারণ তখনও ১৯৯৩ সালের ভয়াবহ মুম্বই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেনি। তাঁর মতে, সেই সময়ে দুবাইয়ে অনেক ভারতীয় ব্যবসায়ী ও পরিচিত ব্যক্তির মতো তিনিও আমন্ত্রণটিকে অস্বাভাবিক বলে মনে করেননি।
{{/usCountry}}ঋষি কাপুর স্পষ্টভাবে লিখেছিলেন যে, এই সাক্ষাৎগুলোর সময় তিনি দাউদকে দেশের শত্রু হিসেবে দেখতেন না, কারণ তখনও ১৯৯৩ সালের ভয়াবহ মুম্বই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেনি। তাঁর মতে, সেই সময়ে দুবাইয়ে অনেক ভারতীয় ব্যবসায়ী ও পরিচিত ব্যক্তির মতো তিনিও আমন্ত্রণটিকে অস্বাভাবিক বলে মনে করেননি।
{{/usCountry}}পরবর্তীতে দাউদ ইব্রাহিমের নাম ১৯৯৩ সালের মুম্বই ধারাবাহিক বোমা বিস্ফোরণ-সহ একাধিক অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। প্রসঙ্গত দাউদ D-Company-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং ভারতের অন্যতম মোস্ট ওয়ান্টেড পলাতক আসামি হিসেবে পরিচিত। জাতিসংঘও তাঁকে বৈশ্বিক সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।