সঞ্জয় দত্তর প্রথম পক্ষের কন্যা ত্রিশলা দত্ত। ১৯৮৮ সালে সঞ্জয় ও রিচা শর্মার কোলে জন্ম তাঁর। কিন্তু ১৯৯৬ সালে মারণ রোগ ব্রেন টিউমারে মায়ের মৃত্যুর পর থেকেই ত্রিশলার জীবন বদলে যায়। দাদু-দিদিমার কাছে আমেরিকাতেই বড় হয়েছেন তিনি। বলিউডের গ্ল্যামার থেকে হাজার মাইল দূরে থাকলেও, এক সময় ত্রিশলার মনে হয়েছিল মায়ানগরীতে পা রাখার কথা। তবে সেই ইচ্ছার পিছনে ছিল এক যন্ত্রণাময় সত্য।

সঞ্জয় দত্তর থেকে দূরে থাকার কষ্ট:
সম্প্রতি একটি পডকাস্টে ত্রিশলা জানিয়েছেন, ছোটবেলায় যখন তিনি বলিউডে আসার কথা ভেবেছিলেন, তখন অভিনয় তাঁর ‘প্যাশন’ ছিল না। ত্রিশলার কথায়, “আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন বলিউডে যাওয়ার কথা ভেবেছিলাম ঠিকই। কিন্তু সেটা অভিনেত্রী হওয়ার জন্য নয়। আমি শুধু চেয়েছিলাম আমার বাবার (সঞ্জয় দত্ত) কাছাকাছি থাকতে, তাঁর সাথে বেশি সময় কাটাতে।” আমেরিকায় বড় হওয়ার কারণে বাবার সান্নিধ্য সেভাবে পাননি তিনি, আর সেই শূন্যতা থেকেই এই ভাবনা।
বাবার পরামর্শ ও বাস্তবের মুখোমুখি:
ত্রিশলার এই ইচ্ছার কথা শুনে সঞ্জয় দত্ত তাঁকে বাস্তবের মাটিতে নামিয়ে আনেন। সঞ্জয় নিজে জীবনের অনেক চড়াই-উতরাই দেখেছেন। তিনি মেয়েকে সোজাসুজি প্রশ্ন করেন, ‘অভিনয় কি সত্যিই তোমার ভেতর থেকে আসছে? তোমার মনের টান কি ওদিকেই?’ ত্রিশলা যখন জানান তিনি শুধু বাবার সাথে থাকতে চান, তখন সঞ্জয় তাঁকে বোঝান যে স্রেফ কারোর মেয়ে হলেই ‘এ-লিস্ট’ অভিনেত্রী হওয়া যায় না। তিনি ত্রিশলাকে পরামর্শ দেন নিজের ভালো লাগার বিষয়টি খুঁজে বের করতে।
মনোবিদ হওয়ার নেপথ্য কাহিনী:
{{/usCountry}}মনোবিদ হওয়ার নেপথ্য কাহিনী:
{{/usCountry}}নিজের জীবনের মানসিক টানাপোড়েন এবং স্ট্রাগল থেকেই ত্রিশলা ঠিক করেন তিনি মনোবিদ (Psychiatrist) হবেন। ত্রিশলা বলেন, “আমি থেরাপিস্ট হয়েছি মানুষকে এটা বোঝাতে যে লড়াই করাটা স্বাভাবিক। বলিউড পরিবার থেকে আসায় আমি দেখেছি সেখানে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কেউ কথা বলে না। আমি মানুষকে বোঝাতে চেয়েছি যে গ্ল্যামার জগতের আড়ালেও আমরা রক্তমাংসের মানুষ, আমাদেরও কষ্ট হয়।”
বর্তমানে আমেরিকার এক সফল থেরাপিস্ট হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ত্রিশলা। তিনি আজ মনে করেন, বাবার পরামর্শ মেনে বলিউডের চাকচিক্যে গা না ভাসিয়ে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করাটাই ছিল তাঁর জীবনের সেরা সিদ্ধান্ত।