বিগ বস বাংলা ৩’-এর ঘর থেকে বিদায় নেওয়ার পর থেকেই মারাত্মক সাইবার বুলিং ও কুরুচিকর আক্রমণের মুখে প্রয়াত জনপ্রিয় অভিনেতা তাপস পাল ও নন্দিনী পালের কন্যা সোহিনী পাল। সামাজিক মাধ্যমে ক্রমাগত ট্রোলিংয়ে অতিষ্ঠ সোহিনীর পরিবার। আর এই কটাক্ষের মূল হাতিয়ার করা হচ্ছে ২০১৪ সালে তাপস পালের করা সেই চরম বিতর্কিত মন্তব্য— ‘ঘরে ছেলে ঢুকিয়ে দেব’। বাবার ১২ বছর পুরোনো একটি অতীত মন্তব্য টেনে এনে লাগাতার কুরুচিকর সাইবার হামলার বিরুদ্ধে এবার আর চুপ থাকলেন না মা নন্দিনী পাল। ক্ষোভে, কষ্টে ও যন্ত্রণায় বিস্ফোরক পোস্ট করে সন্তানকে সুরক্ষার আর্জি জানালেন তিনি। তাঁর সাফ কথা, ‘উক্তিটি চিরকাল ঘৃণ্য থাকবে, কিন্তু সহিনী কেন শাস্তি পাবে?’

নন্দিনী পাল অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান, তিনি বা তাঁর পরিবার কখনই তাপস পালের করা সেই মন্তব্যকে সমর্থন করেন না। তিনি লেখেন, ‘উক্তিটি ২০১৪ সালের হোক কিংবা ১৮০৪ সালের— সেটি অত্যন্ত নক্কারজনক, ঘৃণ্য এবং পরিবার হিসেবে আমরা তার জন্য চরম লজ্জিত। যিনি এই কথা বলেছিলেন, তিনি নিজে বারবার ক্ষমা চেয়েছেন, লজ্জিত হয়েছেন এবং তারপর মারাও গিয়েছেন। উক্তিটি চিরকাল ঘৃণ্যই থাকবে এবং তা জাস্টিফাই করার প্রশ্নই ওঠে না।’ কিন্তু বাবার অপরাধের জন্য কেন বারবার মেয়েকে কাঠগড়ায় তোলা হবে, সেই প্রশ্ন তুলে নন্দিনী লেখেন, ‘একজন মানুষের করা অপরাধের দায় তাঁর মেয়ে সোহিনীর হতে পারে না। কথা নেই বার্তা নেই, বাবার পুরোনো একটি কথা তুলে এনে মেয়েকে অপমান করা, কোণঠাসা করা বন্ধ হওয়া উচিত। বাবার ভুলের জন্য কি মেয়েকে সারাজীবন শাস্তি পেতে হবে? সে কি সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারবে না? '
'বিগ বসের ৪ সপ্তাহের জন্য এত নিষ্ঠুরতা কেন?
{{/usCountry}}'বিগ বসের ৪ সপ্তাহের জন্য এত নিষ্ঠুরতা কেন?
{{/usCountry}}বিগ বসের ঘরে মাত্র চার সপ্তাহ কাটিয়েছেন সোহিনী। মা নন্দিনীর প্রশ্ন, ‘কাউকে পছন্দ না হতেই পারে, সমালোচনা করার অধিকার সবার আছে। কিন্তু সমালোচনা মানে চরিত্রহনন বা নিষ্ঠুরতা নয়। ফেক বা অ্যানোনিমাস অ্যাকাউন্ট থেকে এসে বিষাক্ত মন্তব্য করা কোনো ফ্যানডম নয়, এটা কাপুরুষতা।’
‘ENOUGH IS ENOUGH’ — আইনি সুরক্ষার দাবি:
মানসিক হেনস্থা আর সহ্য করতে না পেরে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে নন্দিনী প্রশ্ন তোলেন, 'আমি একজন মা হয়ে আজ চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে গিয়েছি। আমায় কি এবার রাস্তায় মেয়েকে দাঁড় করিয়ে বলে দিতে হবে, যারা ট্রোল করছ এসো ওকে মেরে ফেলে যাও, যাতে অন্তত ও শান্তিতে থাকতে পারে?' তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মানে যা খুশি তাই গালিগালাজ করার ছাড়পত্র নয়। অনলাইন ট্রোলিং কেবল একটা ‘মজা’ হতে পারে না, এটি একটি গুরুতর অপরাধ। বিশেষ কোনো সুবিধার জন্য নয়, বরং একজন নাগরিক হিসেবে মেয়ের স্বাভাবিক জীবনযাপন, মানসিক সুরক্ষা এবং মর্যাদার দাবি জানিয়ে সব শেষে ফুঁসে ওঠেন প্রবীণ অভিনেতার স্ত্রী— ‘ENOUGH IS ENOUGH!’