আরজি কর কাণ্ড থেকে শুরু করে রাজ্যের রাজনৈতিক দুর্নীতি— সমাজমাধ্যমে বরাবরই নিজের স্পষ্ট ও কড়া মতামতের জন্য চর্চায় থাকেন টলিউড অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী হিংসায় নিহত সোনারপুরের তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে হেনস্থার শিকার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা নিয়ে এক চরম বিস্ফোরক পোস্ট করলেন বামমনস্ক অভিনেত্রী। ঘটনাটির একটি ভিডিও স্ক্রিনগ্র্যাব নিজের ফেসবুক দেওয়ালে শেয়ার করে অভিষেককে স্রেফ কটাক্ষই করলেন না, বরং গোটা বিষয়টিকে কর্মফল বলে দেগে দিলেন শ্রীলেখা।

সোশ্যালে বিষোদ্গার! আহা রে... কর্মা!
সোনারপুরে অভিষেকের ওপর হওয়া হামলার খবর ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ক্ষোভ ও উপহাস উগরে দেন শ্রীলেখা। তিনি লেখেন, ‘তৃণমূলের যুবরাজ নাকি সোনারপুরে আজ গণধোলাই খেয়েছেন শুনলাম। কোথায় যাঁরা কথায় কথায় ওনার নাম নিতেন, তাঁরা যান একটু বাঁচান ছেলেটাকে। মাথায় হেলমেট তো পরেছেন, আর কোথায় কোথায় কী পরতে হবে নিয়ে যান, আহা রে..…কর্মফল’।
অভিনেত্রীর এই একটি পোস্টই এখন রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে তোলপাড় ফেলে দিয়েছে। যেখানে তিনি স্পষ্ট ইঙ্গিত করেছেন যে, অতীতে সাধারণ মানুষের ওপর হওয়া নানা অন্যায়ের পাল্টা হিসেবেই আজ প্রকৃতির এই বিচার বা কর্মফলের মুখোমুখি হতে হয়েছে তৃণমূল সাংসদকে।
ইট-পাথর-ডিম নিয়ে হামলা, খুনের চেষ্টার অভিযোগ অভিষেকের
ঠিক কী ঘটেছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে? জানা গিয়েছে, ভোট-পরবর্তী হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে আচমকাই ওঁর ওপর চড়াও হয় একদল উত্তেজিত জনতা। অভিষেককে লক্ষ্য করে দেদার ইট, পাথর এবং ডিম ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। এই হামলায় চোখের ওপর মারাত্মক চোট পান তৃণমূল সাংসদ।
এই ঘটনাকে সরাসরি বিজেপি-আশ্রিত হামলা এবং তাঁকে খুনের চক্রান্ত বলে দাবি করেছেন অভিষেক। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জানান, তারা আমাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল। পুরো ঘটনাটি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। আমরা নিশ্চিতভাবে এই বিষয়টি হাইকোর্ট এবং রাজ্যপালকে জানাব। আমি আদালতের দ্বারস্থ হব। শরীরকে হয়তো আঘাত করা যায়, কিন্তু আমার মানসিক জেদ এবং উৎসাহ আরও দৃঢ় হয়েছে। এই মাথা কোনোদিনও নত হবে না। এই ঘটনার পর খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও অভিযোগ তোলেন যে, হামলার পর অভিষেককে যাতে হাসপাতালে ভর্তি না নেওয়া হয়, তার জন্য চাপ দিচ্ছে বিজেপি।
{{/usCountry}}এই ঘটনাকে সরাসরি বিজেপি-আশ্রিত হামলা এবং তাঁকে খুনের চক্রান্ত বলে দাবি করেছেন অভিষেক। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জানান, তারা আমাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল। পুরো ঘটনাটি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। আমরা নিশ্চিতভাবে এই বিষয়টি হাইকোর্ট এবং রাজ্যপালকে জানাব। আমি আদালতের দ্বারস্থ হব। শরীরকে হয়তো আঘাত করা যায়, কিন্তু আমার মানসিক জেদ এবং উৎসাহ আরও দৃঢ় হয়েছে। এই মাথা কোনোদিনও নত হবে না। এই ঘটনার পর খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও অভিযোগ তোলেন যে, হামলার পর অভিষেককে যাতে হাসপাতালে ভর্তি না নেওয়া হয়, তার জন্য চাপ দিচ্ছে বিজেপি।
{{/usCountry}}এটা জনগণের আসল ক্ষোভ! আক্রমণ বিজেপি মন্ত্রী অগ্নিমিত্রার
অন্যদিকে, রবিবার এই ঘটনা প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন রাজ্যের বর্তমান বিজেপি সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল। তবে অভিষেকের ওপর হওয়া এই হামলাকে তিনি হিংসা নয়, বরং প্রাক্তন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের প্রতিফলন হিসেবেই দেখছেন।
তৃণমূলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে অগ্নিমিত্রা বলেন, গত ১৫ বছর ধরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেস যে অত্যাচার, প্রতিহিংসার রাজনীতি এবং হিংসাত্মক পরিবেশ তৈরি করে রেখেছিল, এটা তারই বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের আসল ক্ষোভ। আমরা এখন সরকারে এসেছি, তাই পরিষ্কার জানিয়ে দিতে চাই— মমতা বা অভিষেক, আপনারা যদি আবার নিজেদের চেনা খলনায়ক সুলভ হিংসার রাজনীতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন, তবে আমরা তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করব না। সব মিলিয়ে, সোনারপুরের এই রক্তক্ষয়ী কাণ্ড এবং তার ওপর শ্রীলেখার এই ক্ষুরধার মন্তব্য— দুইয়ে মিলে বঙ্গে রাজনীতির পারদ এখন এক ধাক্কায় তুঙ্গে।