ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন কীভাবে একজন ক্রীড়াবিদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে, তারই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন ভারতীয় স্পিনার যুজবেন্দ্র চাহাল। ধনশ্রী বর্মার সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। সমাজমাধ্যমে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে লাগাতার আলোচনা এবং কটাক্ষ পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছিল। প্রাক্তন ভারতীয় ওপেনার আকাশ চোপড়ার ‘বৈঠ অ্যান্ড বল’ পডকাস্টে হাজির হয়ে সেই সময়ের কথা জানিয়েছেন চাহাল।

ক্রিকেটারের কথায়, জনসমক্ষে পরিচিত মুখ হওয়ার কারণে ব্যক্তিগত জীবনের ঘটনা নিয়ে মানুষের চর্চা তাঁকে আরও বেশি চাপে ফেলেছিল। সমাজমাধ্যমে নানা মন্তব্য তাঁকে আঘাত করত। ধীরে ধীরে সেই মানসিক চাপের প্রভাব পড়তে শুরু করে তাঁর ক্রিকেটের উপরেও।
‘প্যানিক অ্যাটাকের সময় কথাও বলতে পারতাম না’
পডকাস্টে চাহাল জানান, উদ্বেগের মুহূর্তগুলি কখনও কখনও এমন পর্যায়ে পৌঁছত যে তাঁর হৃদস্পন্দন দ্রুত বেড়ে যেত এবং মুখের পেশিতে টান ধরত। তিনি বলেন, প্যানিক অ্যাটাকের সময় তাঁর মুখ সংকুচিত হয়ে যেত, এমনকী কথাও বলতে পারতেন না। কখনও ঠোঁট শক্ত হয়ে একদিকে বেঁকে যেত। আশপাশের মানুষও বুঝতে পারতেন যে তাঁর কিছু একটা সমস্যা হচ্ছে।
এর আগে কখনও এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হননি বলে জানিয়েছেন চাহাল। একটা সময় তিনি বুঝতে পারেন, সমাজমাধ্যমে কে কী বলছেন, তা নিয়ন্ত্রণ করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তাই অন্যের মন্তব্য নিয়ে না ভেবে নিজের জীবনকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
কেন ক্রিকেট থেকে বিরতি নিয়েছিলেন চাহাল?
এই কঠিন সময়েই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে সাময়িক বিরতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন স্পিনার। চাহাল জানান, সেই পর্যায়ে মাত্র দু’টি সাদা বলের ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। কিন্তু মানসিকভাবে প্রতিযোগিতায় নামার জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। নিজের সেরাটা দিতে পারছেন না বুঝতে পেরে বিরতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। একই সঙ্গে নিজের সমস্যার প্রভাব যাতে দলের পারফরম্যান্সে না পড়ে, সেটাও নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন তিনি।
{{/usCountry}}এই কঠিন সময়েই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে সাময়িক বিরতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন স্পিনার। চাহাল জানান, সেই পর্যায়ে মাত্র দু’টি সাদা বলের ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। কিন্তু মানসিকভাবে প্রতিযোগিতায় নামার জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। নিজের সেরাটা দিতে পারছেন না বুঝতে পেরে বিরতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। একই সঙ্গে নিজের সমস্যার প্রভাব যাতে দলের পারফরম্যান্সে না পড়ে, সেটাও নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন তিনি।
{{/usCountry}}এই বিষয়ে প্রাক্তন বিসিসিআই কোষাধ্যক্ষ অনিরুদ্ধ চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলেন চাহাল। তাঁর সিদ্ধান্তে সমর্থন পেয়েছিলেন বলেও জানান ক্রিকেটার।
উল্লেখ্য, পেশায় কোরিওগ্রাফার ও সমাজমাধ্যমের পরিচিত মুখ ধনশ্রী বর্মার সঙ্গে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে বিয়ে হয়েছিল চাহালের। ২০২৫ সালের মার্চে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ চূড়ান্ত হয়। তাঁদের বিচ্ছেদ নিয়ে সমাজমাধ্যমে বিস্তর আলোচনা হয়েছিল, যা সামলানো তাঁর পক্ষে সহজ ছিল না বলে স্বীকার করেছেন চাহাল।
২৬ দিন রিহ্যাবেও ছিলেন ক্রিকেটার
পডকাস্টে নিজের জীবনের আরও একটি কঠিন দিক তুলে ধরেছেন চাহাল। বিবাহবিচ্ছেদের আশপাশের সময়ে তাঁর মদ্যপানের পরিমাণ বেড়ে গিয়েছিল বলে জানান তিনি। আইপিএলে খেলার শুরুর দিকে বন্ধুদের সঙ্গে সামাজিক আড্ডার অংশ হিসেবেই মদ্যপান করতেন। কিন্তু পরে পরিস্থিতি তাঁর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে শুরু করে।
চাহাল উপলব্ধি করেন, এভাবে চলতে থাকলে যে ক্রিকেটকে তিনি সবচেয়ে বেশি ভালবাসেন, সেটাই হারিয়ে ফেলতে পারেন। এরপর পেশাদার সাহায্য নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি এবং ২৬ দিন একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে কাটান। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে নিজের জীবন ও আবেগের উপর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে সাহায্য করেছে বলে জানান স্পিনার।
এই কঠিন সময়ে পরিবারের সদস্য এবং তাঁর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধুও পাশে ছিলেন বলে জানিয়েছেন চাহাল। বর্তমানে মানসিকভাবে অনেকটাই ভাল রয়েছেন তিনি। নিজের ফিটনেস এবং ব্যক্তিগত সুস্থতার দিকেও বিশেষ নজর দিচ্ছেন। চাহালের কাছে এই প্রত্যাবর্তন শুধু আবার উইকেট নেওয়ার লড়াই নয়, বরং নিজের জীবনকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনারও গল্প।