হিন্দি সিনেমার প্রখ্যাত অভিনেত্রী জিনাত আমান তাঁর সময়ের শীর্ষ অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। নিজের ক্যারিয়ারে জিনাত অনেক ব্লকবাস্টার সিনেমা উপহার দিয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, জিনাতকে একজন সাহসী (বোল্ড) অভিনেত্রী হিসেবেও দেখা হত। তিনি সিনেমায় অনেক বোল্ড দৃশ্য দিয়েছেন, যার কারণে তাঁকে 'সেক্স সিম্বল' তকমা পেতে হয়েছিল। এবিষয়ে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন জিনাত। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টের মাধ্যমে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন।

গত ২৮ অক্টোবর ইনস্টাগ্রামে নিজের তিনটি ছবি ভাগ করে নিয়ে জিনাত লেখেন, জনসমক্ষে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠার পর তাঁকে বারবার ‘সেক্স সিম্বল’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সিনেমার জগতের অংশ হিসেবেই বিষয়টিকে মেনে নিয়েছিলেন তিনি। নিজের কাজকে মনপ্রাণ দিয়ে ভালোবাসলেও ক্যামেরার সামনে তৈরি হওয়া ভাবমূর্তির সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত স্বভাবের মিল খুব একটা নেই। বরং তিনি স্বভাবে বেশ ব্যক্তিগত পরিসরে থাকতে পছন্দ করেন, কিছুটা অন্তর্মুখীও। নিজের কাজে সম্পূর্ণ ডুবে থাকতে পারলেই সবচেয়ে বেশি আনন্দ পান বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বলতে গিয়ে জিনাতের বক্তব্য, অন্যরা আমাদের সবসময় প্রকৃত রূপে দেখতে পান না। প্রত্যেকেই নিজের অভিজ্ঞতা, প্রত্যাশা কিংবা কল্পনার ভিত্তিতে অন্যকে বিচার করেন। কারও চোখে কোনও মানুষ রহস্যময়, কারও কাছে আবার ভীতিকর। অথচ দীর্ঘ বিমানে পাশাপাশি বসা কোনও অচেনা ব্যক্তির সঙ্গেও কখনও এমন কথা ভাগ করে নেওয়া যায়, যা পরিচিতদের কাছেও বলা হয়ে ওঠে না। মানুষের এই বিচিত্র মানসিকতাকেই মজার বলে মনে করেন তিনি।
তাই নিজের সম্পর্কে তৈরি হওয়া প্রতিটি ভুল ধারণা শুধরে দেওয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন না জিনাত। তাঁর মতে, অন্যদের যেমন নিজেদের মতো করে কাউকে দেখার অধিকার রয়েছে, তেমনই প্রত্যেকের নিজের সত্যি অনুযায়ী বেঁচে থাকার অধিকারও রয়েছে। এই দুই দৃষ্টিভঙ্গি সবসময় এক হবে, এমন কোনও কথা নেই।
{{/usCountry}}তাই নিজের সম্পর্কে তৈরি হওয়া প্রতিটি ভুল ধারণা শুধরে দেওয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন না জিনাত। তাঁর মতে, অন্যদের যেমন নিজেদের মতো করে কাউকে দেখার অধিকার রয়েছে, তেমনই প্রত্যেকের নিজের সত্যি অনুযায়ী বেঁচে থাকার অধিকারও রয়েছে। এই দুই দৃষ্টিভঙ্গি সবসময় এক হবে, এমন কোনও কথা নেই।
{{/usCountry}}পোস্টের শেষ দিকে অভিনেত্রী পাঠকদের কাছেও জানতে চেয়েছেন, কখনও তাঁদের সম্পর্কে কেউ ভুল ধারণা তৈরি করেছেন কি না। কিংবা তাঁরাও কখনও অন্য কাউকে ভুলভাবে বিচার করেছেন কি না। জিনাতের বিশ্বাস, প্রত্যেকের জীবনেই এমন অভিজ্ঞতা রয়েছে, আর সেই গল্পগুলো শুনতেই আগ্রহী তিনি।
জিনাত আমানের কাজের কথা বললে, 'হরে রাম হরে কৃষ্ণ' (১৯৭১), 'ইয়াদোঁ কি বারাত' (১৯৭৩) এবং রাজ কাপুরের 'সত্যম শিবম সুন্দরম' (১৯৭৮)-এর মতো সিনেমা দিয়ে তিনি নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন। 'সত্যম শিবম সুন্দরম' সিনেমায় তাঁর 'রূপা' চরিত্রটিকে যেভাবে বোল্ডভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, তা তাঁর গ্ল্যামারাস ও ছকভাঙা স্ক্রিন ইমেজকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছিল। এ ছাড়া জিনাত তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও বেশ চর্চায় ছিলেন।