...
...
Next Story

৯৭ বছর বয়সে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের ইচ্ছাপ্রকাশ করেন জাতীয় পুরস্কারজয়ী এই অভিনেত্রী! একশোর বেশি সিনেমায় করেন কাজ

জোহরা সেহগাল তাঁর অনবদ্য স্টাইলের জন্য পরিচিত। তার হৃদয়ে যা কিছু ছিল, তিনি কোনও দ্বিধা ছাড়াই তা সামনে আনতেন। কেরিয়ারে তিনি একশোরও বেশি সিনেমায় কাজ করেছেন। জোহরা ১০২ বছর বয়সে প্রয়াত হন।

Published on: Jun 18, 2026, 14:44:23 IST
Advertisement

বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেত্রী জোহরা সেহগলকে চেনেন না এমন মানুষ খুব কমই আছেন। অভিনেত্রী হওয়ার পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ নৃত্যশিল্পীও। কাপুর পরিবারের এক বা দুই নয়, চার প্রজন্মের সঙ্গে তিনি পর্দা ভাগ করে নিয়েছেন। নিজের দীর্ঘ কর্মজীবনে শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন জোহরা। ১০২ বছর বয়সে তিনি পৃথিবীকে বিদায় জানান। তবে ৯৭ বছর বয়সে তিনি এমন একটি ইচ্ছার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন, যা শুনে অনেকেই অবাক হয়ে গিয়েছিলেন।

৯৭ বছর বয়সেও যৌনতাকে গুরুত্বপূর্ণ বলেছিলেন জোহরা

জোহরা সেহগল।
জোহরা সেহগল।

জোহরা সেহগল তাঁর স্পষ্টভাষী স্বভাবের জন্য বরাবরই পরিচিত ছিলেন। মনের কথা বলতে তিনি কখনও দ্বিধা করতেন না। ৯৭ বছর বয়সে তিনি টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। সেই সাক্ষাৎকারে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, এই বয়সেও তাঁর প্রাণবন্ত ও উদ্যমী থাকার রহস্য কী?

প্রশ্নের উত্তরে জোহরা একেবারেই নির্ভীক ভঙ্গিতে বলেছিলেন, তাঁর জীবনীশক্তির মূল রহস্য হল হাস্যরস এবং যৌনতা। তিনি জানিয়েছিলেন, এত বয়সেও যৌনতা তাঁর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর এই অকপট মন্তব্য সেই সময় ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছিল এবং অনেকেই তাঁর খোলামেলা মনোভাব দেখে বিস্মিত হয়েছিলেন।

জোহরা সেহগলের ছোটবেলা থেকেই নাচ এবং অভিনয়ের প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল। সেই আগ্রহ আরও বেড়ে যায় যখন তিনি দেরাদুনে বিখ্যাত নৃত্যশিল্পী ও কোরিওগ্রাফার উদয় শঙ্করের নৃত্য পরিবেশনা দেখেন। তাঁর প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে পরে জোহরা উদয় শঙ্করের নৃত্য অ্যাকাডেমিতে যোগ দেন।

থিয়েটারের সঙ্গে দীর্ঘ ১৪ বছরের সম্পর্ক

জোহরা সেহগল শুধু চলচ্চিত্রেই নয়, দীর্ঘ ১৪ বছর থিয়েটারের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। অভিনয় জীবনে তিনি ‘নীচা নগর’, ‘আফসর’, ‘দিল সে’, ‘সাওয়ারিয়া’ এবং ‘চিনি কম’-এর মতো একাধিক উল্লেখযোগ্য ছবিতে অভিনয় করেছেন।

চলচ্চিত্রের পাশাপাশি টেলিভিশনেও তাঁর উপস্থিতি ছিল সমানভাবে প্রশংসিত। ‘তন্দুরি নাইটস’, ‘দ্য জুয়েল ইন দ্য ক্রাউন’ এবং ‘আম্মা অ্যান্ড ফ্যামিলি’-র মতো জনপ্রিয় টিভি শোতেও তিনি অভিনয় করেছেন।

আট দশকেরও বেশি সময় ধরে চলচ্চিত্র ও অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি নিজের জন্য একটি অনন্য স্থান তৈরি করেছিলেন। শুধু তাই নয়, আন্তর্জাতিক মঞ্চে পরিচিতি পাওয়া ভারতের প্রথম দিকের মহিলা অভিনেত্রীদের অন্যতম হিসেবেও তাঁকে গণ্য করা হয়।

একাধিক সম্মানে সম্মানিত হয়েছেন জোহরা সেহগল

ভারতীয় শিল্প ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের জন্য জোহরা সেহগলকে একাধিক মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়েছিল। ১৯৯৮ সালে তিনি পদ্মশ্রী সম্মান পান। এরপর ২০০১ সালে কালিদাস সম্মান এবং ২০০৪ সালে সঙ্গীত নাটক আকাদেমি পুরস্কারে ভূষিত হন।

পরে ২০১০ সালে ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান পদ্মবিভূষণ প্রদান করা হয় তাঁকে। তাঁর দীর্ঘ শিল্পজীবনের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মানগুলি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।কামেশ্বর বয়সে জোহরার থেকে আট বছরের ছোট ছিলেন। কিন্তু বয়সের পার্থক্য তাঁদের সম্পর্কের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও তাঁরা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন এবং শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্তেই অটল থাকেন।

জোহরা সেহগলে প্রয়াণের পরেও, তাঁর অসাধারণ অভিনয়, প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্ব, সাহসী জীবনদর্শন এবং সামাজিক রীতিনীতিকে চ্যালেঞ্জ করার মানসিকতা তাঁকে ভারতীয় বিনোদন জগতের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Tulika Samadder

হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe