...
...
Next Story

এই ১০টি লক্ষণ দেখলেই সাবধান! এগুলি ডিমেনশিয়ার আভাস হতে পারে

বর্তমানে বিশ্বে বয়স্কদের মধ্যে ‘ডিমেনশিয়া’ বা স্মৃতিভ্রংশ একটি বড় স্বাস্থ্যগত উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডিমেনশিয়া কেবল সাধারণ ভুলে যাওয়া নয়, এটি মস্তিষ্কের এমন একটি অবস্থা যা মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে।

Published on: Dec 19, 2025, 09:35:13 IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

স্মৃতিশক্তি একটু কমে যাওয়া মানেই কি বার্ধক্য? নাকি এটি বড় কোনো স্নায়বিক সমস্যার শুরু? বর্তমানে বিশ্বে বয়স্কদের মধ্যে 'ডিমেনশিয়া' (Dementia) বা স্মৃতিভ্রংশ একটি বড় স্বাস্থ্যগত উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডিমেনশিয়া কেবল সাধারণ ভুলে যাওয়া নয়, এটি মস্তিষ্কের এমন একটি অবস্থা যা মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা শুরু করলে এর গতি ধীর করা সম্ভব।

এই ১০টি লক্ষণ দেখলেই সাবধান! এগুলি ডিমেনশিয়ার আভাস হতে পারে
এই ১০টি লক্ষণ দেখলেই সাবধান! এগুলি ডিমেনশিয়ার আভাস হতে পারে

ডিমেনশিয়ার এমন ১০টি সতর্কতামূলক লক্ষণ যা দেখা দিলেই সাবধান হওয়া প্রয়োজন, জেনে নিন।

ডিমেনশিয়ার ১০টি প্রাথমিক লক্ষণ: যা অবহেলা করা ঠিক নয়

ডিমেনশিয়া বা অ্যালঝাইমার্স রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলো খুব সূক্ষ্ম হতে পারে। নিচে ১০টি প্রধান লক্ষণের তালিকা দেওয়া হলো:

১. দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত করার মতো স্মৃতিভ্রম

অল্প সময়ের ব্যবধানে কোনো তথ্য ভুলে যাওয়া বা গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ও ঘটনা বারবার ভুলে যাওয়া ডিমেনশিয়ার অন্যতম প্রাথমিক লক্ষণ। একই কথা বারবার জিজ্ঞাসা করা এর অন্তর্ভুক্ত।

২. পরিকল্পনা বা সমস্যা সমাধানে অক্ষমতা

পারিবারিক হিসাব রাখা, কোনো রেসিপি অনুসরণ করে রান্না করা বা পরিচিত কোনো বিল পরিশোধের মতো সাধারণ গাণিতিক ও যৌক্তিক কাজগুলো করতে হিমশিম খাওয়া।

৩. পরিচিত কাজ সম্পন্ন করতে অসুবিধা

পরিচিত গন্তব্যে গাড়ি চালিয়ে যাওয়া, প্রিয় কোনো খেলার নিয়ম মনে রাখা বা ফোনের সেটিংস ঠিক করার মতো প্রাত্যহিক কাজগুলো হঠাৎ কঠিন মনে হওয়া।

৪. সময় ও স্থান সম্পর্কে বিভ্রান্তি

দৃষ্টিশক্তির সমস্যা না থাকলেও কিছু পড়া, দূরত্ব পরিমাপ করা বা রঙের পার্থক্য বুঝতে সমস্যা হতে পারে। এটি হাঁটাচলা বা গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

৬. কথা বলা বা লিখতে গিয়ে শব্দ খুঁজে না পাওয়া

কথোপকথনের মাঝে খেই হারিয়ে ফেলা বা পরিচিত কোনো জিনিসের নাম মনে করতে না পারা (যেমন: চাবির বদলে 'খোলার জিনিস' বলা)।

৭. জিনিস হারিয়ে ফেলা ও খুঁজে না পাওয়া

অস্বাভাবিক কোনো স্থানে জিনিস রাখা (যেমন: ফ্রিজের ভেতর চশমা রাখা) এবং পরে সেটি কোথায় রেখেছিলেন তা মনে করতে না পারা।

৮. বিচার-বুদ্ধি ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হ্রাস

টাকার হিসাব বুঝতে ভুল করা, অপরিচ্ছন্ন থাকা বা পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হওয়া।

৯. সামাজিক মেলামেশা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া

পছন্দের শখ, সামাজিক অনুষ্ঠান বা খেলাধুলা থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখা। অনেক সময় কথা বলতে অসুবিধা হওয়ার ভয়ে তারা মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলেন।

১০. মেজাজ ও ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন

খুব দ্রুত মেজাজ পরিবর্তন হওয়া। কারণ ছাড়াই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত, বিষণ্ণ, ভীত বা সন্দেহপ্রবণ হয়ে ওঠা।

কখন ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন?

যদি নিজের বা পরিবারের বয়স্ক সদস্যের মধ্যে উপরের এই লক্ষণগুলোর একাধিক লক্ষ্য করেন, তবে দেরি না করে একজন নিউরোলজিস্ট বা সাইকিয়াট্রিস্টের পরামর্শ নিন। অনেক ক্ষেত্রে ভিটামিনের অভাব বা থাইরয়েডের সমস্যার কারণেও এমন হতে পারে, যা চিকিৎসার মাধ্যমে নিরাময় সম্ভব।

দরকারি কথা

ডিমেনশিয়া আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন পরিবারের সহযোগিতা ও সহানুভূতি। এই লক্ষণগুলো সম্পর্কে সচেতনতা কেবল সঠিক চিকিৎসায় সাহায্য করে না, বরং আক্রান্ত ব্যক্তির জীবনযাত্রার মান উন্নত করতেও ভূমিকা রাখে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON