...
...
Next Story

মন দিয়ে কোনও কাজই করতে পারছেন না? এই ৫ জাপানি কায়দা শিখে নিন, দারুণ সুফল পাবেন

জাপানিরা তাঁদের কঠোর পরিশ্রম এবং অবিশ্বাস্য মনোসংযোগের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। তাদের সংস্কৃতির গভীরে লুকিয়ে আছে এমন কিছু প্রাচীন ও বৈজ্ঞানিক জীবনদর্শন, যা মেনে চললে আপনিও ফিরে পেতে পারেন আপনার হারিয়ে যাওয়া ফোকাস।

Published on: Jan 05, 2026 01:48 PM IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

কাজে প্রচণ্ড অনীহা? টেবিলে বসলেই হাজারো চিন্তা মাথায় ভিড় করছে? আমরা অনেকেই দিনভর মোবাইল স্ক্রলিং বা আলস্যে সময় নষ্ট করি, অথচ কাজের তালিকায় জমা হয় পাহাড় সমান কাজ। এই মানসিক অস্থিরতা বা মনোসংযোগের অভাব কেবল আপনার একার সমস্যা নয়, এটি বর্তমান সময়ের এক বড় চ্যালেঞ্জ।

মন দিয়ে কোনও কাজই করতে পারছেন না? এই ৫ জাপানি কায়দা শিখে নিন, দারুণ সুফল পাবেন
মন দিয়ে কোনও কাজই করতে পারছেন না? এই ৫ জাপানি কায়দা শিখে নিন, দারুণ সুফল পাবেন

তবে জাপানিরা তাদের কঠোর পরিশ্রম এবং অবিশ্বাস্য মনোসংযোগের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। তাদের সংস্কৃতির গভীরে লুকিয়ে আছে এমন কিছু প্রাচীন ও বৈজ্ঞানিক জীবনদর্শন, যা মেনে চললে আপনিও ফিরে পেতে পারেন আপনার হারিয়ে যাওয়া ফোকাস। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আপনার জীবনকে আরও প্রোডাক্টিভ করতে জেনে নিন জাপানিদের সেই ৫টি জাদুকরী নিয়ম।

কাজে ও পড়াশোনায় মনোসংযোগ বাড়াতে ৫টি জাপানি নিয়ম

১. ইকুইগাই (Ikigai) - জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে বের করা

আপনার কাজে মন না বসার প্রধান কারণ হতে পারে আপনি কাজটির মধ্যে কোনো সার্থকতা খুঁজে পাচ্ছেন না। জাপানিরা বিশ্বাস করে 'ইকুইগাই' বা 'বেঁচে থাকার সার্থকতা'র ওপর।

  • কী করবেন: আপনি কী করতে ভালোবাসেন, কোন কাজে আপনি দক্ষ এবং কোনটি পৃথিবীর প্রয়োজন—এই তিনের সমন্বয়ই হলো ইকুইগাই। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার একটি শক্তিশালী কারণ খুঁজে নিন। উদ্দেশ্য স্পষ্ট থাকলে মন বসানো সহজ হয়।

২. কাইজেন (Kaizen) - ক্ষুদ্র পরিবর্তনের শক্তি

জাপানি কর্মক্ষেত্রে সময়কে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে নেওয়ার পদ্ধতি খুব জনপ্রিয়। এটি মস্তিষ্ককে ক্লান্ত হতে দেয় না।

  • কী করবেন: ২৫ মিনিট টানা কাজ বা পড়াশোনা করুন, তারপর ৫ মিনিটের একটি বিরতি নিন। একে বলে এক একটি 'পোমোডোরো সেশন'। বিরতির সময় মোবাইল না ঘেঁটে জল পান করুন বা একটু পায়চারি করুন। এতে মস্তিষ্কের রিফ্রেশমেন্ট বাড়ে।

৪. হারা হাচি বু (Hara Hachi Bu) - পরিমিত আহার

অতিরিক্ত খাবার খেলে শরীরে আলস্য আসে এবং মনোযোগ নষ্ট হয়। জাপানিদের এই নিয়মটি বলে—পেট ৮০ শতাংশ পূর্ণ হলেই খাওয়া বন্ধ করুন।

  • কী করবেন: খুব বেশি পেট ভরে খেলে রক্ত সঞ্চালন পাকস্থলীর দিকে বেশি প্রবাহিত হয়, ফলে মস্তিষ্কে অক্সিজেনের মাত্রা কমে ঘুম পায়। পরিমিত খেলে আপনি অনেক বেশি সজাগ এবং কর্মক্ষম থাকবেন।

৫. শিনরিন-ইয়োকু (Shinrin-yoku) - প্রকৃতির সান্নিধ্য

প্রকৃতির সাথে সময় কাটানো জাপানিদের এক অন্যতম স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। একে বলা হয় 'ফরেস্ট বাদিং'।

  • কী করবেন: যদি কিছুতেই মন বসাতে না পারেন, তবে ঘরের কোণ থেকে বেরিয়ে ১৫-২০ মিনিট পার্ক বা গাছের নিচে সময় কাটান। প্রকৃতির সবুজ রঙ এবং বিশুদ্ধ বাতাস মস্তিষ্কের 'কর্টিসল' (মানসিক চাপের হরমোন) কমিয়ে মনোসংযোগের ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

শেষ কথা

মনোযোগ কোনো জাদু নয়, এটি একটি অভ্যাস। জাপানিদের এই নিয়মগুলো একদিনে আপনার জীবন পাল্টে দেবে না, কিন্তু নিয়মিত অনুশীলনে আপনি নিজেই নিজের পরিবর্তন লক্ষ্য করবেন। আজ থেকেই ছোট একটি লক্ষ্য স্থির করুন এবং নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করুন।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON