Ahiritola Sarbojanin Puja Theme 2026: বাংলার প্রিয় মিষ্টির ইতিহাস বলবে উত্তর কলকাতার এই পুজো! আহিরীটোলার বিশেষ চমক
Ahiritola Sarbojanin Puja Theme 2026: বাংলার মিষ্টির ইতিহাস তুলে ধরা হচ্ছে আহিরীটোলা সর্বজনীন দুর্গোৎসবে। মিষ্টির স্বাদে বাংলার সম্প্রীতির মেলবন্ধন: ৮৭ তম বর্ষে আহিরীটোলার চমক 'মাধুরী মৈত্রী-অন্বেষণে'।
Ahiritola Sarbojanin Puja Theme 2026: উত্তর কলকাতার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও ল্যান্ডমার্ক দুর্গোৎসব আহিরীটোলা সার্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতি এ বছর পদার্পণ করল ৮৭ তম বর্ষে। দীর্ঘ আট দশকেরও বেশি সময় ধরে সংস্কৃতি ও শিল্পের যে ধারক হিসেবে আহিরীটোলা নিজেকে তুলে ধরেছে, সেই ঐতিহ্যকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে এ বছর তাদের মণ্ডপে ফুটে উঠছে বাংলার জনজীবন, মিষ্টির অতীত এবং সমাজ জীবনের এক অপূর্ব আখ্যান— ‘মাধুরী মৈত্রী-অন্বেষণে’।

মিষ্টির ইতিহাসই আসলে বাংলার সামাজিক ইতিহাস
বাংলার মিষ্টি কেবল জিভের স্বাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; তা বাংলার মানুষের সংস্কৃতি, শ্রম, সৃজনশীলতা এবং পারস্পরিক সহাবস্থানের দীর্ঘ ও মধুময় ইতিহাস। প্রাচীন যুগের গুড়, চাল, নারকেল ও ক্ষীরের সাবেকি পদ থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে ছানা, সন্দেশ, রসগোল্লা কিংবা পান্তুয়া—মিষ্টির এই বিবর্তনের প্রতিটি পদক্ষেপে লুকিয়ে রয়েছে সময়ের ছাপ ও কারিগরের অসাধারণ নৈপুণ্য।
একটি মিষ্টি কখনও শুধু খাবার হয়ে থাকে না; তার সাথে জড়িয়ে থাকে সম্পর্কের মেলবন্ধন, পারিবারিক উৎসব, সামাজিক উদযাপন আর পারস্পরিক ভালোবাসার স্মৃতি। উৎসবের দিনে প্রতিবেশীর হাতে মিষ্টির প্যাকেট তুলে দেওয়া বা এক বাক্স রসগোল্লা নিয়ে আত্মীয়ের বাড়ি যাওয়ার এই ছোট্ট আচারগুলির মধ্যেই বেঁচে থাকে বাংলার বৃহত্তর মানবিকতার গল্প। মিষ্টির দোকান কেবল কেনাবেচার স্থান নয়, তা যেন পাড়ার সামাজিক আড্ডা ও মেলবন্ধনের এক অনন্য মিলনক্ষেত্র।
কবিগুরুর দর্শনে সম্প্রীতির বার্তা
জাত, ধর্ম ও সামাজিক বিভাজন ভুলে মিষ্টি যেভাবে মানুষকে এক সূত্রে গাঁথে, সেই সম্প্রীতির ক্যানভাসকেই মণ্ডপসজ্জায় ফুটিয়ে তুলছে আহিরীটোলা। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই অমর বাণী— ‘বিচিত্রের মধ্যে ঐক্যই ভারতবর্ষের সত্য’—এই থিমের মূল চালিকাশক্তি।
পুজো কমিটির সদস্যরা কী বলছেন?
পুজো কমিটির মুখ্য উপদেষ্টা পুজো গুপ্ত বলেছেন, 'আমাদের প্রধান কর্ণধার শ্রী শমীক কুমার সাহার নেতৃত্বে এ বছর আমরা বাংলার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির আবহমান ইতিহাসকে তুলে ধরছি। উৎসবের মিষ্টিমুখ কীভাবে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষকে একসূত্রে বাঁধতে পারে, কবিগুরুর সেই সত্যকেই আমরা শিল্পরূপে রূপান্তরিত করছি।'
অর্গানাইজিং সেক্রেটারি গৌরব পণ্ডা বলেন, ‘হারিয়ে যাওয়া মিষ্টির স্বাদ এবং যে কারিগররা রাতদিন পরিশ্রম করে এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রেখেছেন, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। একটি সাধারণ মিষ্টির দোকান কীভাবে পাড়ার আড্ডার কেন্দ্র ও সম্প্রীতির প্রতীক হয়ে ওঠে, তা দর্শনার্থীরা আমাদের মণ্ডপে দেখতে পাবেন।’
এবারের পুজোয় শিল্পী কারা?
১) সৃজন শিল্পী (মণ্ডপ সজ্জা): মানস দাস ও তাঁর সহযোগী দল
২) প্রতিমা শিল্পী: সুব্রত মৃধা
৩) আবহ সঙ্গীত: দীপময় দাস
৪) আলোকসজ্জা: সৌমেন চক্রবর্তী
৫) গবেষণা ও তথ্যসংগ্রহ (ভাবনা সহায়তা): পৌলমী বসু
E-Paper

