আজ ৮ এপ্রিল বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রদীপ্ত নক্ষত্র বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি কেবল একজন ঔপন্যাসিক বা প্রাবন্ধিক ছিলেন না, তিনি ছিলেন আধুনিক বাংলার নবজাগরণের পুরোধা ব্যক্তিত্ব। তাঁর লেখনী পরাধীন ভারতের বুকে জ্বালিয়েছিল দেশপ্রেমের আগুন।
তাঁর অমোঘ বাণী (Quote of the Day)

‘আত্মোপকারীকে বনবাসে বিসর্জন করা যাহাদিগের প্রকৃতি, তাহারা চিরকাল আত্মোপকারীকে বনবাসে দিবে—কিন্তু যতবার বনবাসিত করুক না কেন, পরের কাষ্ঠাহরণ করা যাহার স্বভাব, সে পুনর্বার পরের কাষ্ঠাহরণে যাইবে।’
বঙ্কিমচন্দ্রের জীবনের কিছু অনুপ্রেরণামূলক অ্যানেকডোট (Anecdotes)
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জীবন ছিল শৃঙ্খলা এবং আত্মমর্যাদাবোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তাঁর জীবন থেকে নেওয়া কিছু ছোট গল্প আমাদের আজও অনুপ্রাণিত করে:
১. রাজকীয় মেজাজ ও নির্ভীকতা: বঙ্কিমচন্দ্র ছিলেন তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের উচ্চপদস্থ ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। একবার এক ইংরেজ সিভিলিয়ান তাঁর সাথে অসদাচরণ করেছিলেন। বঙ্কিমচন্দ্র বিন্দুমাত্র পিছপা না হয়ে আইনি পথে এবং নিজের ব্যক্তিত্ব দিয়ে সেই ইংরেজকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেছিলেন। তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে, রাজকর্মচারী হলেও তিনি আত্মসম্মান কখনো বিসর্জন দেন না।
২. ‘বন্দে মাতরম’ ও সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত: কথিত আছে, বঙ্কিমচন্দ্র যখন ‘বন্দে মাতরম’ গানটি রচনা করেন, তখন অনেকে এর গুরুত্ব বুঝতে পারেননি। তাঁর মেয়ে এই গানের অর্থ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করলে বঙ্কিমচন্দ্র আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেছিলেন, "এই গান একদিন গোটা দেশ গাইবে, দেশমাতৃকার মুক্তির মূলমন্ত্র হবে এটি।" পরবর্তীকালে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে এই গানটিই হয়ে উঠেছিল প্রধান জ্বালানি।
৩. শরৎচন্দ্রের চোখে বঙ্কিম: কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বঙ্কিমচন্দ্রকে গুরু জ্ঞান করতেন। শরৎচন্দ্র একবার বলেছিলেন, "বঙ্কিমবাবু না থাকলে হয়তো আমি লেখকই হতাম না।" বঙ্কিমচন্দ্রের ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকা যেভাবে নতুন লেখকদের পথ দেখিয়েছিল, তা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছিল।
সংক্ষিপ্ত জীবনী (Short Biography)
- জন্ম ও শিক্ষা: ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটির কাছে কাঁঠালপাড়া গ্রামে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম হয়। তিনি ছিলেন মেধাবী ছাত্র। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম স্নাতক হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি ১৮৫৮ সালে।
- পেশাগত জীবন: স্নাতক হওয়ার পরপরই তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। দীর্ঘ প্রায় ৩৩ বছর তিনি অত্যন্ত সততার সাথে সরকারি দায়িত্ব পালন করেন। কাজের চাপে থাকলেও সাহিত্যের প্রতি তাঁর টান কখনো কমেনি।
- সাহিত্য সাধনা: বঙ্কিমচন্দ্রের প্রথম ইংরেজি উপন্যাস ‘রাজমোহন’স ওয়াইফ’ হলেও তাঁর আসল খ্যাতি আসে ১৮৬৫ সালে ‘দুর্গেশনন্দিনী’ প্রকাশের পর। এটিই ছিল প্রথম স্বার্থক বাংলা উপন্যাস। এরপর তিনি ‘কপালকুণ্ডলা’, ‘মৃণালিনী’, ‘বিষবৃক্ষ’, ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’-এর মতো কালজয়ী সব উপন্যাস উপহার দেন। তবে তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি ‘আনন্দমঠ’, যার অন্তর্ভুক্ত ‘বন্দে মাতরম’ গানটি আজও ভারতের জাতীয় স্তোত্র হিসেবে অমর হয়ে আছে।
- জীবনাবসান: ১৮৯৪ সালের ৮ এপ্রিল কলকাতার নিজ বাসভবনে মাত্র ৫৫ বছর বয়সে এই সাহিত্য সম্রাটের জীবনাবসান ঘটে। তাঁর প্রয়াণে বাংলা সাহিত্যের এক স্বর্ণযুগের অবসান ঘটেছিল।
কেন তিনি আজও অপরিহার্য?
{{/usCountry}}৩. শরৎচন্দ্রের চোখে বঙ্কিম: কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বঙ্কিমচন্দ্রকে গুরু জ্ঞান করতেন। শরৎচন্দ্র একবার বলেছিলেন, "বঙ্কিমবাবু না থাকলে হয়তো আমি লেখকই হতাম না।" বঙ্কিমচন্দ্রের ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকা যেভাবে নতুন লেখকদের পথ দেখিয়েছিল, তা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছিল।
সংক্ষিপ্ত জীবনী (Short Biography)
- জন্ম ও শিক্ষা: ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটির কাছে কাঁঠালপাড়া গ্রামে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম হয়। তিনি ছিলেন মেধাবী ছাত্র। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম স্নাতক হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি ১৮৫৮ সালে।
- পেশাগত জীবন: স্নাতক হওয়ার পরপরই তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। দীর্ঘ প্রায় ৩৩ বছর তিনি অত্যন্ত সততার সাথে সরকারি দায়িত্ব পালন করেন। কাজের চাপে থাকলেও সাহিত্যের প্রতি তাঁর টান কখনো কমেনি।
- সাহিত্য সাধনা: বঙ্কিমচন্দ্রের প্রথম ইংরেজি উপন্যাস ‘রাজমোহন’স ওয়াইফ’ হলেও তাঁর আসল খ্যাতি আসে ১৮৬৫ সালে ‘দুর্গেশনন্দিনী’ প্রকাশের পর। এটিই ছিল প্রথম স্বার্থক বাংলা উপন্যাস। এরপর তিনি ‘কপালকুণ্ডলা’, ‘মৃণালিনী’, ‘বিষবৃক্ষ’, ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’-এর মতো কালজয়ী সব উপন্যাস উপহার দেন। তবে তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি ‘আনন্দমঠ’, যার অন্তর্ভুক্ত ‘বন্দে মাতরম’ গানটি আজও ভারতের জাতীয় স্তোত্র হিসেবে অমর হয়ে আছে।
- জীবনাবসান: ১৮৯৪ সালের ৮ এপ্রিল কলকাতার নিজ বাসভবনে মাত্র ৫৫ বছর বয়সে এই সাহিত্য সম্রাটের জীবনাবসান ঘটে। তাঁর প্রয়াণে বাংলা সাহিত্যের এক স্বর্ণযুগের অবসান ঘটেছিল।
কেন তিনি আজও অপরিহার্য?
{{/usCountry}}বঙ্কিমচন্দ্রই প্রথম বাঙালির অন্তরে এই বিশ্বাস বুনে দিয়েছিলেন যে, সাহিত্য কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং এটি সমাজ ও জাতির মেরুদণ্ড গঠনের পথ। তাঁর যুক্তি নির্ভর প্রবন্ধ সংগ্রহ ‘লোকরহস্য’ বা ‘কমলাকান্তের দপ্তর’ আজও পাঠকদের সমাজ ও ধর্ম সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে শেখায়। আধুনিক বাংলার মনন গঠনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।