...
...
Next Story

রাখির দিনে ব্যাংক কি বন্ধ থাকবে? বন্ধের মাঝেও সচল থাকবে যেসব পরিষেবা—ইউপিআই, এটিএম, নিফট ও ডিজিটাল ব্যাংকিং

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে—রক্ষা বন্ধনের দিনে ব্যাঙ্কের শাখাগুলো কি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে? যদি শাখা বন্ধ থাকে, তবে জরুরি আর্থিক লেনদেন বা উপহার কেনাকাটার টাকা কীভাবে পাঠাবেন?

Published on: Aug 26, 2026, 08:39:23 IST
Advertisement

ভাই-বোনের স্নেহের বন্ধন উদযাপনের পবিত্র উৎসব রক্ষা বন্ধন (Raksha Bandhan)। ২০২৬ সালের রক্ষা বন্ধন উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলোতে ছুটির নির্দেশ জারি করেছে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI)। উৎসবের মরসুমে ভাই-বোনের উপহার কেনাকাটা, আর্থিক লেনদেন কিংবা দূরদূরান্তে টাকা পাঠানোর জন্য ব্যাঙ্কের কাজ মেটানো অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়ে।

রাখির দিনে ব্যাংক কি বন্ধ থাকবে? বন্ধের মাঝেও সচল থাকবে কোন কোন পরিষেবা
রাখির দিনে ব্যাংক কি বন্ধ থাকবে? বন্ধের মাঝেও সচল থাকবে কোন কোন পরিষেবা

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে—রক্ষা বন্ধনের দিনে ব্যাঙ্কের শাখাগুলো কি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে? যদি শাখা বন্ধ থাকে, তবে জরুরি আর্থিক লেনদেন বা উপহার কেনাকাটার টাকা কীভাবে পাঠাবেন? রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ছুটির তালিকা অনুযায়ী ব্যাঙ্ক পরিষেবা বন্ধ থাকলেও আপনার দৈনন্দিন ব্যাঙ্কিং যাতে ব্যাহত না হয়, তার জন্য অনলাইন ও ডিজিটাল পরিষেবাগুলি সচল থাকবে। এই উৎসবের দিনে কোন কোন ব্যাঙ্কিং পরিষেবা চালু থাকছে এবং কীভাবে টাকা লেনদেন করবেন—তার একটি খুঁটিনাটি গাইডলাইন নিচে তুলে ধরা হলো।

১. রক্ষা বন্ধনে ব্যাঙ্কের শাখা বন্ধের নিয়মাবলী (RBI Holiday List)

রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার (RBI) ছুটির তালিকা অনুযায়ী, রক্ষা বন্ধন একটি আঞ্চলিক উৎসব হওয়ার কারণে ভারতের সব রাজ্যে কিন্তু একসাথে ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকে না।

  • আঞ্চলিক ছুটি (State-wise Holidays): যেসব রাজ্যে রক্ষা বন্ধন উৎসব প্রধানত সাড়ম্বরে উদযাপিত হয় (যেমন—পশ্চিমবঙ্গ, উত্তর প্রদেশ, রাজস্থান, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ, দিল্লি ও হরিয়ানা), সেই সব রাজ্যে ব্যাঙ্কের ভৌত শাখাগুলো (Physical Branches) গ্রাহকদের জন্য বন্ধ থাকবে।
  • কর্মদিবস বা খুচরো পরিষেবা বন্ধ: ছুটির দিনে ব্যাঙ্কের ক্যাশ কাউন্টার, পাসবই আপডেট, ড্রাফট তৈরি কিংবা চেকের ক্লিয়ারেন্স সংক্রান্ত সরাসরি শাখাভিত্তিক সমস্ত কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। তাই কোনো জরুরি কাজ থাকলে তা ছুটির আগের দিনই সেরে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ।

২. ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকলেও যে ৫টি ডিজিটাল পরিষেবা সচল ও চালু থাকবে

ক) ইউপিআই পরিষেবা (UPI Transactions): গুগল পে (Google Pay), ফোনপে (PhonePe), পেটিএম (Paytm) কিংবা ব্যাঙ্কের নিজস্ব BHIM UPI-এর মাধ্যমে ক্যাশলেস কেনাকাটা ও টাকা পাঠানো পুরোপুরি চালু থাকবে। রাখি কেনাকাটা বা বোনকে অনলাইনে টাকা উপহার দেওয়ার জন্য এটিই সবচেয়ে দ্রুত মাধ্যম।

খ) এটিএম পরিষেবা (ATM & CDM Services): দেশের সমস্ত এটিএম (ATM) বুথ থেকে নগদ টাকা তোলার সুবিধা স্বাভাবিক থাকবে। পাশাপাশি নগদ টাকা জমা করার ক্যাশ ডিপোজিট মেশিন (CDM)-ও ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে।

গ) ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং ও মোবাইল ব্যাঙ্কিং (Net Banking & Mobile Apps): ব্যাঙ্কের মোবাইল অ্যাপ ও ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং সার্ভিস চালু থাকবে। অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স চেক করা, ফান্ড ট্রান্সফার করা কিংবা ক্রেডিট কার্ডের বিল মেটানোর কাজ খুব সহজেই করা যাবে।

ঘ) আইএমপিএস ও এনইএফটি (IMPS & NEFT Transfer): ইমিডিয়েট পেমেন্ট সার্ভিস (IMPS) দিয়ে তৎক্ষণাৎ যেকোনো অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো যাবে। এ ছাড়া রিজার্ভ ব্যাঙ্কের অনলাইন এনইএফটি (NEFT) এবং আরটিজিএস (RTGS) পরিষেবা ছুটির দিনেও স্বাভাবিকভাবে কাজ করে।

ঙ) কার্ড ও পস মেশিন (Debit/Credit Cards & POS): দোকান বা শপিং মলে শপিং করার সময় ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড সোয়াইপ এবং অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়েগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করবে।

৩. উৎসবে ডিজিটাল লেনদেনের সময় খেয়াল রাখুন এই সতর্কতাগুলি

উৎসবের মরসুমে যখন অনলাইন লেনদেন বহু গুণ বেড়ে যায়, তখন কিছু নিরাপত্তা মেনে চলা উচিত:

  • ১. সন্দেহজনক অফার থেকে দূরে থাকুন: উৎসবে উপহারের নামে আসা ভুয়ো মেসেজ বা অচেনা লিঙ্কে ক্লিক করবেন না।
  • ২. পিন (PIN) গোপন রাখুন: ইউপিআই বা এটিএম পিন কখনো কারও সাথে শেয়ার করবেন না।
  • ৩. নেটওয়ার্ক সমস্যা এড়াতে আগে লেনদেন করুন: উৎসবের দিনে অতিরিক্ত ট্রাফিকের কারণে অ্যাপে বিলম্ব হতে পারে, তাই বড় লেনদেন আগে সেরে নেওয়া ভালো।

২০২৬ সালের রক্ষা বন্ধনে আপনার শহরের ব্যাঙ্কের শাখাগুলো বন্ধ থাকলেও আধুনিক ডিজিটাল ব্যাঙ্কিংয়ের দৌলতে কোনো আর্থিক লেনদেনই আটকে থাকবে না। এটিএম, ইউপিআই এবং মোবাইল ব্যাঙ্কিং ব্যবহার করে আপনি খুব সহজেই কোনো চিন্তা ছাড়াই পরিবারের সাথে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিতে পারবেন।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON