...
...
Next Story

দুপুরের ঘুম শরীরের জন্য ভালো নাকি খারাপ? বিজ্ঞান কী বলছে

কেউ মনে করেন এটি অলসতার লক্ষণ, আবার কেউ মনে করেন শরীরের সতেজতা ফেরাতে এর বিকল্প নেই। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং ঘুমের বিশেষজ্ঞরা এই বিষয়ে কী বলছেন? দুপুরের ঘুম কি আদোও স্বাস্থ্যকর? জেনে নিন।

Published on: Jan 14, 2026, 06:45:13 IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

দুপুরের খাবারের পর একটু চোখ বুজে আসা বা 'ভাতঘুম' বাঙালির চিরকালীন অভ্যাস। কেউ মনে করেন এটি অলসতার লক্ষণ, আবার কেউ মনে করেন শরীরের সতেজতা ফেরাতে এর বিকল্প নেই। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং ঘুমের বিশেষজ্ঞরা এই বিষয়ে কী বলছেন? দুপুরের ঘুম কি আদোও স্বাস্থ্যকর?

দুপুরের ঘুম শরীরের জন্য ভালো নাকি খারাপ? বিজ্ঞান কী বলছে
দুপুরের ঘুম শরীরের জন্য ভালো নাকি খারাপ? বিজ্ঞান কী বলছে

২০২৬ সালের কর্মব্যস্ত জীবনে 'পাওয়ার ন্যাপ' (Power Nap)-এর গুরুত্ব এবং এর ভালো-মন্দ দিক জেনে নিন।

দুপুরের ঘুম: শরীরের জন্য আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ?

বিজ্ঞান বলছে, দুপুরের ঘুম বা 'ন্যপিং' (Napping) সবার জন্য সমান নয়। এটি নির্ভর করে আপনি কতক্ষণ ঘুমাচ্ছেন এবং কোন সময়ে ঘুমাচ্ছেন তার ওপর।

দুপুরের ঘুমের উপকারিতা (The Pros)

১. মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি: মাত্র ২০-৩০ মিনিটের একটি হালকা ঘুম বা পাওয়ার ন্যাপ মস্তিষ্কের সতর্কতা এবং কর্মদক্ষতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এটি তথ্য মনে রাখার ক্ষমতা এবং সৃজনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে।

২. মানসিক চাপ কমায়: দিনের মাঝপথে অল্প বিশ্রাম শরীরের কর্টিসল হরমোনের মাত্রা কমায়, যা মানসিক চাপ বা স্ট্রেস থেকে মুক্তি দেয় এবং মেজাজ ফুরফুরে রাখে।

৩. হার্টের সুরক্ষা: গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সপ্তাহে অন্তত দু-তিনবার দুপুরে অল্প সময় ঘুমান, তাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি যারা একেবারেই ঘুমান না তাদের তুলনায় কম।

দুপুরের ঘুমের নেতিবাচক দিক (The Cons)

২. রাতের ঘুমে ব্যাঘাত: বিকেলে বা সন্ধ্যার দিকে দীর্ঘক্ষণ ঘুমালে রাতে অনিদ্রা বা ইনসোমনিয়া হতে পারে। এর ফলে শরীরের স্বাভাবিক 'সার্কাডিয়ান রিদম' বা ঘুমের চক্র নষ্ট হয়ে যায়।

৩. ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি: দুপুরে খেয়েই লম্বা সময় ধরে ঘুমানোর অভ্যাস হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়, যা থেকে স্থূলতা এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

বিজ্ঞানের চোখে 'পারফেক্ট' দুপুরের ঘুম কেমন হওয়া উচিত?

বিজ্ঞানীদের মতে, দুপুরের ঘুমের উপকার পেতে হলে ৩টি গোল্ডেন রুল মেনে চলতে হবে:

  • সময়সীমা: ২০ থেকে ৩০ মিনিট হলো আদর্শ সময়। একেই বলা হয় 'পাওয়ার ন্যাপ'। এতে আপনি গভীর ঘুমে প্রবেশ করেন না, ফলে ওঠার পর ঝরঝরে লাগে।
  • সঠিক সময়: দুপুর ১টা থেকে ৩টের মধ্যে ঘুমিয়ে নেওয়া ভালো। বিকেল ৪টের পর ঘুমালে তা রাতের ঘুমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
  • বিশ্রামের ধরণ: বিছানায় লম্বা হয়ে না শুয়ে আরামকেদারায় বা হেলান দিয়ে অল্প সময়ের জন্য বিশ্রাম নেওয়া অনেক সময় বেশি কার্যকর হয়।

শেষ কথা

দুপুরের ঘুম শরীরের জন্য তখনই ভালো যখন তা সীমিত সময়ের জন্য হয়। যারা অফিসে কাজ করেন বা ছাত্রছাত্রী, তাদের জন্য ৩০ মিনিটের পাওয়ার ন্যাপ একটি 'ব্রেন বুস্টার' হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে যাঁদের অনিদ্রার সমস্যা আছে, তাঁদের দুপুরবেলা না ঘুমানোর পরামর্শই দেন চিকিৎসকরা।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON