...
...
Next Story

কথায় কথায় কাঁদেন? আপনার শরীরে এর কেমন প্রভাব পড়ে, সেটা জানেন কি

যাঁরা নিয়মিত বা বেশি পরিমাণে কাঁদেন, তাঁদের শরীরে এর প্রভাব কেমন পড়ে, তা নিয়ে অনেক ভুল ধারণা প্রচলিত আছে।

Published on: Dec 8, 2025, 16:22:06 IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

কান্না হলো মানব মনের একটি স্বাভাবিক এবং গুরুত্বপূর্ণ আবেগ প্রকাশের মাধ্যম। দুঃখ, আনন্দ, হতাশা বা অতিরিক্ত মানসিক চাপ—যেকোনো পরিস্থিতিতেই কান্না আসতে পারে। কিন্তু যারা নিয়মিত বা বেশি পরিমাণে কাঁদেন, তাদের শরীরে এর প্রভাব কেমন পড়ে, তা নিয়ে অনেক ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, কান্না শরীরের জন্য ক্ষতিকর তো নয়ই, বরং মানসিক ও শারীরিকভাবে অত্যন্ত উপকারী হতে পারে।

কথায় কথায় কাঁদেন? আপনার শরীরে এর কেমন প্রভাব পড়ে, সেটা জানেন কি
কথায় কথায় কাঁদেন? আপনার শরীরে এর কেমন প্রভাব পড়ে, সেটা জানেন কি

বেশি কাঁদার ফলে শরীরে এর প্রভাব কেমন পড়ে, তা নিয়ে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হলো:

১. মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব: মানসিক মুক্তির পথ

কান্নাকে সাধারণত দুর্বলতার লক্ষণ হিসেবে দেখা হলেও, মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন এটি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য একটি প্রাকৃতিক টনিক।

  • স্ট্রেস হ্রাস (Stress Reduction): আবেগের বশে কাঁদার সময় (Emotional Tears), শরীর থেকে অতিরিক্ত স্ট্রেস হরমোন (যেমন কর্টিসল) এবং বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থগুলি চোখের জলের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়। এটি শরীরকে একটি প্রাকৃতিক মুক্তির (Release) পথ দেয়।
  • মেজাজের উন্নতি: কান্নার পর শরীর শান্ত হয়ে আসে। গবেষণায় দেখা গেছে, কান্নার পর মস্তিষ্ক এনডরফিন (Endorphin) এবং অক্সিটোসিন (Oxytocin)-এর মতো 'ফিল গুড' হরমোন নিঃসরণ করে, যা মেজাজকে উন্নত করে এবং আরামের অনুভূতি দেয়।
  • সংবেদনশীল সংযোগ: কান্না অন্য মানুষের সঙ্গে সংবেদনশীল সংযোগ স্থাপনে সাহায্য করে এবং সামাজিক সমর্থন বাড়ায়।

২. শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব: স্বস্তি ও সুরক্ষা

যদিও কান্না স্বাস্থ্যের জন্য সামগ্রিকভাবে উপকারী, তবুও কিছু ক্ষেত্রে এর অতিরিক্ত ব্যবহার সাময়িক অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে:

  • জলশূন্যতা (Dehydration): অতিরিক্ত পরিমাণে কাঁদার ফলে শরীর থেকে তরল বেরিয়ে যায়, যা সাময়িক জলশূন্যতা এবং মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।
  • চোখ ফোলা ও লাল হওয়া: চোখের চারপাশের টিস্যুতে রক্ত সঞ্চালন হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় এবং চোখ ঘষার কারণে চোখ ও চোখের পাতা সাময়িকভাবে ফুলে যায় বা লাল হয়ে যায়।
  • সাইনাস ও নাক: অতিরিক্ত কান্নার ফলে নাক দিয়ে জল ঝরা বা সাইনাসে সাময়িক চাপ অনুভব হতে পারে।

৪. কখন এটি চিন্তার বিষয়?

  • যদি কোনো ব্যক্তি সামান্য কারণে বা দীর্ঘ সময় ধরে অনিয়ন্ত্রিতভাবে কাঁদতে থাকেন এবং কান্নার পরে মানসিক স্বস্তি না পেয়ে আরও খারাপ অনুভব করেন, তবে তা বিষণ্ণতা (Depression) বা উদ্বেগজনিত রোগের (Anxiety Disorder) লক্ষণ হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

যারা বেশি কাঁদেন, তাদের শরীর কান্নার মাধ্যমে মানসিক চাপ ও বিষাক্ত হরমোনকে শরীর থেকে বের করে দেয়। তাই কান্না মানসিক মুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া এবং তা শরীরের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলার পরিবর্তে মনকে শান্ত ও শিথিল করতে সাহায্য করে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON