...
...
Next Story

গরম ভাতে ঘি খান? মস্তিষ্কে কেমন প্রভাব পড়ে, জানলে অবাক হবেন

ঘি খেলে মাথার মধ্যে কেমন প্রভাব পড়ে? ঘি খাওয়ার আগে ভালো করে জেনে নিন।

Published on: Jan 13, 2026 06:08 PM IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

রান্নাঘরের এক কোণে থাকা সুগন্ধি 'ঘি' কেবল স্বাদ বাড়াতে নয়, বরং মস্তিষ্কের ধার বাড়াতেও অতুলনীয়—এই ধারণাটি ভারতীয় আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে হাজার হাজার বছর ধরে প্রচলিত। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান কী বলছে? ঘি কি সত্যিই মস্তিষ্কের কোষগুলোকে সজীব রাখতে পারে?

গরম ভাতে ঘি খান? মস্তিষ্কে কেমন প্রভাব পড়ে, জানলে অবাক হবেন
গরম ভাতে ঘি খান? মস্তিষ্কে কেমন প্রভাব পড়ে, জানলে অবাক হবেন

২০২৬ সালের আধুনিক জীবনযাত্রায় যেখানে স্মৃতিভ্রম বা 'ব্রেন ফগ'-এর মতো সমস্যা বাড়ছে, সেখানে ঘি কেন আপনার ডায়েটে থাকা জরুরি, জেনে নিন।

ঘি ও মস্তিষ্কের সুস্বাস্থ্য: বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে আসল রহস্য

আয়ুর্বেদে ঘিকে বলা হয় 'মেধ্য রসায়ন', যা স্মৃতিশক্তি ও বুদ্ধি বাড়াতে সাহায্য করে। আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানও এই তথ্যের সমর্থনে বেশ কিছু জোরালো যুক্তি খুঁজে পেয়েছে।

১. ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৯ ফ্যাটি অ্যাসিডের উৎস

আমাদের মস্তিষ্কের প্রায় ৬০ শতাংশই চর্বি বা ফ্যাট দিয়ে তৈরি। ঘি-তে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড (DHA) মস্তিষ্কের কোষের গঠন উন্নত করে। এটি স্নায়বিক সংযোগ বা নিউরোট্রান্সমিশনকে ত্বরান্বিত করে, যার ফলে কোনো বিষয় দ্রুত শেখার বা মনে রাখার ক্ষমতা বাড়ে।

২. বিউটাইরিক অ্যাসিডের ম্যাজিক

ঘি-তে প্রচুর পরিমাণে বিউটাইরিক অ্যাসিড (Butyric Acid) থাকে। এটি শরীরের প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন কমাতে সাহায্য করে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, অন্ত্রের স্বাস্থ্যের সাথে মস্তিষ্কের সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে (Gut-Brain Axis)। ঘি অন্ত্র পরিষ্কার রাখে, যা পরোক্ষভাবে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা এবং মেজাজ (Mood) উন্নত করে।

৩. ভিটামিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট

ঘি-তে থাকা কোলিন (Choline) নামক উপাদানটি মস্তিষ্কের সংকেত আদান-প্রদানে সাহায্য করে। প্রতিদিন সামান্য ঘি খেলে মনোযোগ বা ফোকাস বৃদ্ধি পায় এবং মানসিক অবসাদ দূর হয়।

কীভাবে খাবেন এবং কতটা?

মস্তিষ্কের উপকার পেতে ঘি খাওয়ার কিছু সঠিক নিয়ম রয়েছে:

সকালে খালি পেটে: আয়ুর্বেদ মতে, সকালে এক চামচ হালকা গরম জলে বা খালি পেটে ঘি খেলে তা সরাসরি কোষের পুষ্টি জোগায়।

ভাতের সাথে: দুপুরের খাবারে এক চামচ ঘি মিশিয়ে খেলে এটি খাবারের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কমিয়ে দেয় এবং ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ করে।

পরিমাণ: একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে ১ থেকে ২ চামচ (১০-১৫ মিলি) ঘি খাওয়া নিরাপদ। তবে হৃদরোগ বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

শেষ কথা

ঘি মস্তিষ্কের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে—এই কথাটি কেবল প্রাচীন বিশ্বাস নয়, বরং বৈজ্ঞানিকভাবেও প্রমাণিত। তবে মনে রাখবেন, বাজারচলতি ভেজাল মিশ্রিত ঘি নয়, খাঁটি দেশি গরুর ঘি খেলেই মিলবে আসল উপকার।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON