Birbhum Loba Maa Kali Puja: তিন কালীমূর্তি পুজো পান একত্রে! বীরভূমের লোবা মায়ের আরাধনায় আজও রয়েছে এই রহস্য

Birbhum Loba Maa Kali Puja 2025: বীরভূমে প্রায় ৩০০ বছর ধরে পূজিত হচ্ছেন মা লোবা কালী। তিন কালীমূর্তি এখানে একত্রে পুজো পান। এই পুজো ঘিরেই রয়েছে বেশ কিছু রহস্য।

Published on: Oct 18, 2025, 07:30:18 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বীরভূম জেলার দুবরাজপুর ব্লকের লোবা গ্রামের লোবা কালীপুজো প্রায় ৩০০ বছরের এক প্রাচীন ঐতিহ্য বহন করে চলেছে। স্থানীয়দের কাছে এই পুজো 'লোবা মায়ের পুজো' নামেই পরিচিত এবং এটি এই অঞ্চলের অন্যতম জাগ্রত কালী মন্দির।

বীরভূমের লোবা মায়ের আরাধনায় আজও রয়েছে এই রহস্য
বীরভূমের লোবা মায়ের আরাধনায় আজও রয়েছে এই রহস্য

পুজোর ইতিহাস ও প্রতিষ্ঠা

কথিত আছে, প্রায় ৩০০ বছর আগে সাধক রামেশ্বর ডণ্ডী হিংলো নদীর তীরে তাঁর আরাধ্যা দেবী 'লোবা মা'-এর প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীকালে তিনি কাশী চলে যাওয়ার আগে লোবা গ্রামের ঘোষ পরিবারকে পুজোর দায়িত্ব এবং চক্রবর্তী পরিবারকে সেবায়েত হিসেবে নিযুক্ত করে যান। সেই সময় থেকেই এই দুটি পরিবার নিষ্ঠার সঙ্গে বংশ পরম্পরায় এই পুজো চালিয়ে আসছেন।

তিন বোনের পুজোয় যা রহস্য

লোবা কালীপুজোর একটি অন্যতম বিশেষত্ব হল তিনটি কালী প্রতিমার একসঙ্গে পুজো ও বিসর্জন। এই তিন দেবীকে তিন বোন হিসেবে মানা হয়— লোবা মা (বড় বোন), বাবুপুরের মা (মেজ বোন) এবং বরাড়ির মা (ছোট বোন)। দীপান্বিতা অমাবস্যার রাতে পুজো শেষে পরদিন স্থানীয় কালীভাসা পুকুরে একসঙ্গে তিন দেবীর নিরঞ্জন হয়। লোবা মায়ের বেদীতে একটি শিলাখণ্ড রয়েছে, যা সারা বছর ধরে পূজিত হয়। কথিত আছে, এই শিলাখণ্ডটি একসময় যুব সম্প্রদায়ের মানুষ পুকুর থেকে পেয়েছিলেন। তবে এই শিলাখণ্ড আজও রহস্য অনেকের কাছে। এর অলৌকিক ক্ষমতা রয়েছে বলে বিশ্বাস করেন বহু মানুষ।

আরও পড়ুন - Dhanteras 2025 Puja Timings: ধনতেরাসে কুবের, লক্ষ্মী ও ধন্বন্তরী পুজোর মাহেন্দ্রক্ষণ কখন? জানুন পঞ্জিকামত

আরও পড়ুন - Dhanteras 2025 Buying Tips: সোনা রূপো বাদে ধনতেরাসে এই দ্রব্যাদি কিনলেও পুণ্য হয় সমান সমান! রইল তালিকা

দেবী লোবা না-ডাকলে

স্থানীয়দের মধ্যে প্রবল বিশ্বাস যে, এই দেবী অত্যন্ত জাগ্রত এবং "দেবী লোবা না-ডাকলে, ভক্তরা মন্দিরে পৌঁছতে পারেন না"। মায়ের কাছে মনস্কামনা জানালে তা পূরণ হয়, তাই কালীপুজোর সময় দূর দূরান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম ঘটে।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি

মূর্তি তৈরি থেকে পুজো পর্যন্ত বিভিন্ন পরিবারের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। মূর্তি তৈরির কাঠামোর বাবুই দড়ি বংশপরম্পরায় বাউরি পরিবারের সদস্যরা সরবরাহ করেন এবং সূত্রধর পরিবারের সদস্যরা মূর্তি তৈরির কাজে হাত লাগান। মায়ের অলংকার পরানোর দায়িত্ব থাকে ঘোষ পরিবারের উপর। প্রতি বছর দীপান্বিতা অমাবস্যার রাতে লোবা মায়ের পুজো অনুষ্ঠিত হয়, যা লোবা গ্রামকে ভক্তদের এক মিলনমেলায় পরিণত করে।