ডিম হলো প্রোটিনের এক চমৎকার উৎস, যা প্রায় সব বাড়িতেই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকে। বাজারে সাধারণত দু'ধরনের ডিম পাওয়া যায়—লাল খোসার ডিম (বাদামী/Brown Eggs) এবং সাদা খোসার ডিম (White Eggs)। অনেকেই মনে করেন লাল খোসার ডিম বেশি পুষ্টিকর বা দেশি মুরগির ডিম, আবার কেউ কেউ সাদা ডিমকেই সেরা মনে করেন। কিন্তু এই দুই ধরনের ডিমের খোসার রঙের পার্থক্য সত্ত্বেও পুষ্টিগুণে কি সত্যিই কোনো তারতম্য আছে? এই বিষয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন নিচে দেওয়া হলো।
খোসার রঙের পার্থক্য কেন হয়?

ডিমের খোসার রং ডিম পাড়া মুরগির জাতের ওপর নির্ভর করে।
- লাল/বাদামী ডিম: এগুলো সাধারণত রোড আইল্যান্ড রেড (Rhode Island Red) বা প্লিমথ রক (Plymouth Rock) -এর মতো বড় ও লালচে পালকযুক্ত মুরগি থেকে আসে।
- সাদা ডিম: এগুলো সাধারণত হোয়াইট লেগহর্ন (White Leghorn) -এর মতো সাদা পালকযুক্ত মুরগি থেকে আসে।
খোসার রঙে ভিন্নতা এলেও, এটি ডিমের পুষ্টিগুণ বা স্বাদের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না। খোসার রং শুধুমাত্র মুরগির জেনেটিক বৈশিষ্ট্য।
পুষ্টিগুণ: বিজ্ঞান কী বলছে?
চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং খাদ্য বিশেষজ্ঞরা একমত যে, ডিমের খোসার রঙের সঙ্গে তার পুষ্টিগুণের কোনো সম্পর্ক নেই।
- একই পুষ্টি উপাদান: সাদা ও লাল উভয় ডিমেই একই পরিমাণে প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন এবং মিনারেল থাকে। উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রায় ৬-৭ গ্রাম প্রোটিন, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি১২, সেলেনিয়াম এবং কোলিন (Choline) পাওয়া যায়।
- স্বাদের পার্থক্য: স্বাদের পার্থক্য যদি অনুভূত হয়, তবে তা মুরগির খাদ্যাভ্যাস, তার বয়স এবং ডিমটি কতটা টাটকা—এর ওপর নির্ভর করে, খোসার রঙের ওপর নয়।
- খোসার পুরুত্ব: অনেক সময় বাদামী ডিমের খোসা সাদা ডিমের চেয়ে সামান্য পুরু মনে হতে পারে, তবে এটিও মুরগির বয়স এবং ডায়েটের ওপর নির্ভর করে, রঙের ওপর নয়।
লাল ডিম কেন বেশি দামি?
লাল খোসার ডিম অনেক সময় সাদা ডিমের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়। এর প্রধান কারণ:
- যেসব মুরগি লাল ডিম পাড়ে, তারা সাধারণত আকারে বড় হয় এবং বেশি খাবার খায়। ফলে ডিম উৎপাদনের খরচ বেড়ে যায়।
- কিছু ক্রেতার মধ্যে এই প্রচলিত বিশ্বাস রয়েছে যে লাল ডিম বেশি স্বাস্থ্যকর, যার কারণে চাহিদা ও মূল্য বাড়ে।
লাল খোসার ডিম অনেক সময় সাদা ডিমের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়। এর প্রধান কারণ:
- যেসব মুরগি লাল ডিম পাড়ে, তারা সাধারণত আকারে বড় হয় এবং বেশি খাবার খায়। ফলে ডিম উৎপাদনের খরচ বেড়ে যায়।
- কিছু ক্রেতার মধ্যে এই প্রচলিত বিশ্বাস রয়েছে যে লাল ডিম বেশি স্বাস্থ্যকর, যার কারণে চাহিদা ও মূল্য বাড়ে।
শেষ কথা: পুষ্টিগুণের নিরিখে লাল খোসার ডিম বা সাদা খোসার ডিম— কোনোটাই অন্যটির চেয়ে বেশি উপকারী নয়। স্বাস্থ্য সচেতনতার ক্ষেত্রে ডিমের রং না দেখে, সেটি টাটকা কিনা এবং মুরগিকে কী খাওয়ানো হচ্ছে (যেমন ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ ডায়েট), সেই দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।