ক্যানসার এমন এক রোগের নাম, যা শুনলেই মানুষের মনে ভয় জাগে। বিশেষ করে যে দ্রুত গতিতে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ছে, তাতে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও ভয় থাকা স্বাভাবিক। এই পরিস্থিতিতে প্রায়শই মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে, এমন কী করলে এই রোগ হবে না? সত্যি বলতে, এটা সম্ভব, কারণ ক্যানসারের মতো রোগ অনেকাংশেই আমাদের জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসের উপর নির্ভরশীল। যদি এগুলিতে উন্নতি আনা যায়, তবে এই ধরনের রোগ হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়। তাহলে, কোন কোন অভ্যাস মেনে চললে ক্যানসার থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে? বিখ্যাত চিকিৎসক ডঃ এরিক বার্গ কিছু টিপস শেয়ার করেছেন, যা মেনে চললে ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব। আসুন জেনে নেওয়া যাক, ডাক্তার কী বলছেন।

ক্যানসার আসলে হয় কীভাবে?
ডঃ এরিক বলেন, ক্যানসার থেকে কীভাবে বাঁচতে হয়, তা জানার আগে এটা জানা জরুরি যে ক্যানসার আসলে হয় কীভাবে। আসলে, যখন আপনার স্বাভাবিক কোষের মাইটোকন্ড্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখনই ক্যানসার হয়। এটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কোষের নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং এটি অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করে, যাকে ক্যান্সার বলা হয়। তাই ক্যানসার থেকে বাঁচতে হলে এই মাইটোকন্ড্রিয়াকে সুস্থ রাখা অত্যন্ত জরুরি।
কী করলে ক্যানসার হবে না?
১) পরিশোধিত খাবার বর্জন করুন - ডঃ এরিক বলেন, যদি ক্যানসার থেকে বাঁচতে চান, তবে আপনার খাদ্যতালিকা থেকে সব ধরনের পরিশোধিত খাবার বাদ দিন। যেমন - পরিশোধিত চিনি, পরিশোধিত তেল এবং স্টার্চ ইত্যাদি।
২) বেশি করে রোদ পোহান - ডাক্তার পরামর্শ দেন, যত বেশি সম্ভব রোদ পোহানো উচিত। আপনার শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি থাকলে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হবে, ফলে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে। শীতকালে যদি রোদ না পাওয়া যায়, তবে ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট নিতে পারেন। মনে রাখবেন, ক্যানসার প্রতিরোধের জন্য এটি একটি অত্যন্ত জরুরি ভিটামিন।
৩) উপবাস বা ফাস্টিং করুন - আপনার রুটিনে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, যেখানে আপনি আপনার শরীরকে দীর্ঘ সময় ধরে উপবাসের অবস্থায় রাখেন। এছাড়াও আপনি দীর্ঘমেয়াদী উপবাসও করতে পারেন। উপবাস মাইটোকন্ড্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে রক্ষা করে।
{{/usCountry}}৩) উপবাস বা ফাস্টিং করুন - আপনার রুটিনে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, যেখানে আপনি আপনার শরীরকে দীর্ঘ সময় ধরে উপবাসের অবস্থায় রাখেন। এছাড়াও আপনি দীর্ঘমেয়াদী উপবাসও করতে পারেন। উপবাস মাইটোকন্ড্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে রক্ষা করে।
{{/usCountry}}৪) নিয়মিত ব্যায়াম করুন - নিয়মিত ব্যায়াম করলে আপনার মাইটোকন্ড্রিয়া সুস্থ থাকে। শুধু তাই নয়, ব্যায়াম ক্ষতিগ্রস্ত মাইটোকন্ড্রিয়াকেও শরীর থেকে বের করে দিতে সাহায্য করে।
৫) মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকুন - ডঃ এরিক বলেন, যতটা সম্ভব মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকুন। এর জন্য আপনি দীর্ঘক্ষণ হাঁটতে যেতে পারেন, পর্যাপ্ত ঘুমোতে পারেন। এছাড়াও আপনার আশেপাশে যারা বিষাক্ত মানুষ আছেন, তাদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে পারেন।