সঙ্গম বা যৌন মিলনের পরবর্তী সময়টা সাধারণত প্রশান্তি এবং স্বস্তির হওয়ার কথা। কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রেই এই আনন্দ বিষাদে পরিণত হয় এক তীব্র যন্ত্রণার কারণে—মাথাব্যথা। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘সেক্স হেডেক’ (Sex Headache)। বিষয়টি নিয়ে অধিকাংশ মানুষ লজ্জা বা সংকোচে মুখ খোলেন না, কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে পুরুষদের মধ্যে এই সমস্যা মহিলাদের তুলনায় তিনগুণ বেশি।

কেন হয় এই বিশেষ মাথাব্যথা? এটি কি বড় কোনো বিপদের সংকেত? জেনে নিন।
সঙ্গমের পর কেন মাথাব্যথা হয়?
যৌন মিলনের সময় বা চরম উত্তেজনার মুহূর্তে যে মাথাব্যথা হয়, তাকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়:
১. ধীর গতির মাথাব্যথা: যৌন উত্তেজনা বাড়ার সাথে সাথে ঘাড় এবং মাথায় ভোঁতা একটা ব্যথা শুরু হয়। উত্তেজনা যত বাড়ে, ব্যথার তীব্রতাও তত বাড়ে। এটি মূলত পেশির সংকোচনের কারণে ঘটে।
২. হঠাৎ তীব্র ব্যথা (Thunderclap Headache): অর্গ্যাজম বা চরম তৃপ্তির ঠিক আগ মুহূর্তে বা সেই সময়ে হঠাৎ করে মাথায় প্রচণ্ড বাজ পড়ার মতো তীব্র ব্যথা শুরু হয়। এটি কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
মূল কারণগুলো কী কী?
- রক্তচাপ বৃদ্ধি: যৌন মিলনের সময় শরীরে রক্তচাপ এবং হৃদস্পন্দন দ্রুত বেড়ে যায়। এর ফলে মস্তিষ্কের রক্তনালীগুলো প্রসারিত হয়, যা ব্যথার সৃষ্টি করে।
- পেশির টান: চরম উত্তেজনার সময় ঘাড়, পিঠ এবং মাথার পেশিগুলো শক্ত হয়ে যায়, যা থেকে মাথাব্যথা হতে পারে।
- মস্তিষ্কের ধমনীর গঠন: অনেকের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের ধমনীর বিশেষ গঠনের কারণে এই সমস্যা বারবার হতে পারে।
- স্ট্রেস ও ক্লান্তি: অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা শারীরিক দুর্বলতা থাকলেও এই ধরণের সমস্যা দেখা যায়।
এটি কতটা ভয়ের?
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ‘সেক্স হেডেক’ ক্ষতিকর নয় এবং এটি নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি বড় কোনো স্নায়বিক সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে:
- অ্যানিউরিজম: মস্তিষ্কের কোনো রক্তনালীতে সমস্যা থাকলে এমন তীব্র ব্যথা হতে পারে।
- রক্তক্ষরণ: যদি ব্যথার সাথে বমি বমি ভাব, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া বা জ্ঞান হারানোর মতো লক্ষণ থাকে, তবে তা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের লক্ষণ হতে পারে।
- স্ট্রোকের ঝুঁকি: যদি ব্যথা অসহ্য হয় এবং আগে কখনও এমন না হয়ে থাকে, তবে বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।
প্রতিকার ও সতর্কতা
{{/usCountry}}বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ‘সেক্স হেডেক’ ক্ষতিকর নয় এবং এটি নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি বড় কোনো স্নায়বিক সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে:
- অ্যানিউরিজম: মস্তিষ্কের কোনো রক্তনালীতে সমস্যা থাকলে এমন তীব্র ব্যথা হতে পারে।
- রক্তক্ষরণ: যদি ব্যথার সাথে বমি বমি ভাব, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া বা জ্ঞান হারানোর মতো লক্ষণ থাকে, তবে তা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের লক্ষণ হতে পারে।
- স্ট্রোকের ঝুঁকি: যদি ব্যথা অসহ্য হয় এবং আগে কখনও এমন না হয়ে থাকে, তবে বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।
প্রতিকার ও সতর্কতা
{{/usCountry}}১. বিশ্রাম: ব্যথা শুরু হলে সাথে সাথে সব ধরণের শারীরিক ক্রিয়া বন্ধ করে বিশ্রাম নিন।
২. পজিশন পরিবর্তন: অনেক সময় শোয়ার বা মিলনের ভঙ্গি পরিবর্তন করলে পেশির ওপর চাপ কম পড়ে।
৩. ওষুধ: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথানাশক ওষুধ আগে থেকে খেয়ে রাখা যেতে পারে।
৪. ধীর গতি: উত্তেজনা চরমে পৌঁছানোর প্রক্রিয়াটি ধীরে ধীরে সম্পন্ন করলে রক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
যদি এই মাথাব্যথা আপনার নিয়মিত সঙ্গী হয়ে দাঁড়ায়, তবে লজ্জা ঝেড়ে ফেলে চিকিৎসকের (Neurologist) পরামর্শ নিন। সিটি স্ক্যান বা এমআরআই-এর মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরি যে এর পেছনে অন্য কোনো জটিল রোগ লুকিয়ে নেই। মনে রাখবেন, সচেতনতাই সুস্থ জীবনের প্রথম ধাপ।