...
...
Next Story

কম্পিউটারের স্ক্রিন কি আপনার বয়স বাড়িয়ে দিচ্ছে? কীভাবে এই সমস্যা ঠেকাবেন

দীর্ঘ সময় ধরে স্ক্রিনের ব্যবহার শুধু চোখের চাপই বাড়ায় না, এটি আপনার ত্বক এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলে, যা অকাল বার্ধক্য (Premature Aging) ডেকে আনতে পারে।

Published on: Dec 05, 2025 08:50 AM IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

ডিজিটাল যুগে আমাদের জীবনের একটি বড় অংশ কাটে কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা স্মার্টফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে। দীর্ঘ সময় ধরে স্ক্রিনের এই ব্যবহার শুধু চোখের চাপই বাড়ায় না, এটি আপনার ত্বক এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলে, যা অকাল বার্ধক্য (Premature Aging) ডেকে আনতে পারে। এই প্রভাবটি প্রায়শই 'ডিজিটাল এজিং' নামে পরিচিত।

কম্পিউটারের স্ক্রিন কি আপনার বয়স বাড়িয়ে দিচ্ছে? কীভাবে এই সমস্যা ঠেকাবেন
কম্পিউটারের স্ক্রিন কি আপনার বয়স বাড়িয়ে দিচ্ছে? কীভাবে এই সমস্যা ঠেকাবেন

কম্পিউটারের স্ক্রিন কীভাবে আপনার বয়স বাড়িয়ে দেয় এবং এর থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় নিয়ে এই প্রতিবেদন:

১. মূল কারণ: নীল আলো (Blue Light)

আমাদের স্ক্রিনগুলি থেকে যে দৃশ্যমান আলো নির্গত হয়, তার একটি বড় অংশ হলো উচ্চ-শক্তির নীল আলো (High-Energy Visible Light - HEV)। সূর্যের আলোতেও নীল আলো থাকে, তবে ডিজিটাল ডিভাইস থেকে নির্গত নীল আলোর সরাসরি, দীর্ঘস্থায়ী এবং নিকটবর্তী এক্সপোজার ত্বকের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে।

২. স্ক্রিন কীভাবে বার্ধক্যকে ত্বরান্বিত করে?

নীল আলো এবং স্ক্রিন ব্যবহারের সঙ্গে জড়িত অভ্যাসের কারণে শরীরের একাধিক অংশে বার্ধক্যের প্রক্রিয়া দ্রুত হতে পারে:

ক. ত্বকের অকাল বার্ধক্য (Digital Aging)

  • ফ্রি র‍্যাডিক্যালস তৈরি: নীল আলো ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে ফ্রি র‍্যাডিক্যালস (Free Radicals) তৈরি করে। এই ফ্রি র‍্যাডিক্যালস ত্বকের কোষ এবং ডিএনএ-এর ক্ষতি করে।
  • কোলাজেন ভাঙন: ফ্রি র‍্যাডিক্যালস ত্বকের স্থিতিস্থাপকতার জন্য দায়ী কোলাজেন (Collagen) এবং ইলাস্টিন (Elastin) ভেঙে দেয়। এর ফলে ত্বক দ্রুত কুঁচকে যায় এবং অকাল বলিরেখা (Premature Wrinkles) দেখা দেয়।
  • হাইপারপিগমেন্টেশন: নীল আলো ত্বকের মেলানিন উৎপাদনকে উদ্দীপিত করতে পারে, যা কালো ছোপ বা পিগমেন্টেশন (Hyperpigmentation) সৃষ্টি করে।

গ. চোখের বার্ধক্য ও ক্লান্তি

  • শুষ্ক চোখ: স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার সময় আমরা স্বাভাবিকের চেয়ে কম পলক ফেলি। এতে চোখ শুষ্ক হয়ে যায় এবং এটি চোখের উপর দীর্ঘস্থায়ী চাপ সৃষ্টি করে।
  • ডিজিটাল আই স্ট্রেন: দীর্ঘমেয়াদি চোখের চাপ চোখের পেশীগুলিকে ক্লান্ত করে তোলে এবং দৃষ্টিশক্তির উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

ঘ. ভঙ্গিজনিত বার্ধক্য (Tech Neck)

দীর্ঘ সময় ধরে মাথা নিচু করে ল্যাপটপ বা ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকার কারণে ঘাড়ে বলিরেখা সৃষ্টি হয় এবং থুতনির নিচের চামড়া ঝুলে যেতে পারে। এই অবস্থাকে "টেক নেক" (Tech Neck) বলা হয়।

৩. প্রতিরোধ ও সুরক্ষার উপায়

অকাল বার্ধক্য এড়াতে এই সহজ অভ্যাসগুলি রপ্ত করুন:

  • নীল আলো ফিল্টার: কম্পিউটার বা স্মার্টফোনের সেটিংসে 'নাইট মোড' বা নীল আলো ব্লকিং ফিল্টার ব্যবহার করুন।
  • ২০-২০-২০ নিয়ম: প্রতি ২০ মিনিট স্ক্রিনের দিকে তাকানোর পর, ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরের কোনো কিছুর দিকে তাকান।
  • স্ক্রিন বিরতি: ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে সব ধরনের ডিজিটাল স্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ করুন।
  • ভালো ভঙ্গি: স্ক্রিন যেন চোখের সমান্তরালে থাকে, সেইভাবে বসুন। মাথা সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে দেবেন না।
  • অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট: অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ক্রিম বা সিরাম (যেমন ভিটামিন সি) ব্যবহার করুন, যা ত্বকের ফ্রি র‍্যাডিক্যালস-এর বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করবে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON