...
...
Next Story

সিটিসি চা নাকি পাতা চা, কোনটা আপনার খাওয়া উচিত? জেনে নিয়ে খাচ্ছেন তো

আপনার স্বাস্থ্যের জন্য কোন ধরনের চা সবচেয়ে উপকারী এবং কাদের কোন চা বেছে নেওয়া উচিত, তা জেনে নিন।

Published on: Jan 06, 2026 10:38 AM IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

চায়ের কাপে চুমুক না দিলে অনেকেরই দিন শুরু হয় না। বাঙালির আড্ডায় হোক বা অফিসের কাজের চাপে—এক কাপ গরম চা সব ক্লান্তি দূর করে দেয়। কিন্তু চা কিনতে গেলে আমরা প্রায়ই দ্বন্দ্বে পড়ি; সিটিসি (CTC) চা বা দানা চা নেব নাকি পাতা চা (Orthodox Tea)? স্বাদে-গন্ধে যেমন এদের তফাৎ রয়েছে, তেমনি শরীরের ওপর এদের প্রভাবও আলাদা।

সিটিসি চা নাকি পাতা চা, কোনটা আপনার খাওয়া উচিত? জেনে নিয়ে খাচ্ছেন তো
সিটিসি চা নাকি পাতা চা, কোনটা আপনার খাওয়া উচিত? জেনে নিয়ে খাচ্ছেন তো

আপনার স্বাস্থ্যের জন্য কোন ধরনের চা সবচেয়ে উপকারী এবং কাদের কোন চা বেছে নেওয়া উচিত, তা জেনে নিন।

সিটিসি চা বনাম পাতা চা: পার্থক্য ঠিক কোথায়?

১. সিটিসি চা (CTC Tea): সিটিসি-র পূর্ণরূপ হলো 'Crush, Tear, and Curl'। এই পদ্ধতিতে চা পাতাকে মেশিনে পিষে ছোট ছোট দানা বা দানাদার আকারে তৈরি করা হয়। এটি সাধারণত কড়া স্বাদের হয় এবং লিকার খুব দ্রুত বের হয়। বাজারে আমরা সচরাচর যে দানাদার চা দেখি, সেগুলোই সিটিসি।

২. পাতা চা বা অর্থোডক্স চা (Orthodox Tea): এই পদ্ধতিতে চা পাতাকে মেশিনে পিষে ফেলা হয় না, বরং আলতো করে পাকিয়ে রোদে শুকানো হয়। এতে চায়ের পাতার গুণাগুণ এবং সুগন্ধ অক্ষুণ্ণ থাকে। এই চা সাধারণত হালকা লিকারের হয় এবং অত্যন্ত সুগন্ধি।

শরীরের জন্য কোনটি বেশি ভালো?

পুষ্টিবিদদের মতে, স্বাস্থ্যের বিচারে পাতা চা বা অর্থোডক্স চা অনেক বেশি এগিয়ে। এর কারণগুলো হলো:

  • অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের মাত্রা: পাতা চা তৈরির পদ্ধতিতে পাতার কোষগুলো নষ্ট হয় না, ফলে এতে পলিফেনল এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের মাত্রা সিটিসি চায়ের তুলনায় অনেক বেশি থাকে। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং অকাল বার্ধক্য রোধে সাহায্য করে।
  • মানসিক প্রশান্তি: পাতা চায়ে 'এল-থিয়ানিন' নামক অ্যামিনো অ্যাসিডের মাত্রা সঠিক থাকে, যা মানসিক চাপ (Stress) কমাতে এবং মনকে শান্ত রাখতে সাহায্য করে।
  • ওজন নিয়ন্ত্রণ: চিনি ছাড়া পাতা চায়ের লিকার মেদ ঝরাতে এবং বিপাক হার (Metabolism) বাড়াতে সিটিসি চায়ের চেয়ে বেশি কার্যকর।
  • হৃদরোগের ঝুঁকি: দীর্ঘমেয়াদে পাতা চা পান করলে হার্টের ধমনী পরিষ্কার থাকে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সুবিধা হয়।

কাদের কোন ধরনের চা খাওয়া উচিত?

  • পাতা চা কাদের জন্য সেরা?

২. যাদের হার্টের সমস্যা বা উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে।

৩. যারা চায়ের সূক্ষ্ম স্বাদ ও সুগন্ধ পছন্দ করেন (লিটার টি প্রেমী)।

৪. যারা গ্রিন টি বা হোয়াইট টি-র বিকল্প খুঁজছেন।

  • সিটিসি চা কাদের জন্য?

১. যারা খুব কড়া বা কড়া লিকারের চা ছাড়া তৃপ্তি পান না।

২. যারা দুধ-চিনি দিয়ে চা খেতে ভালোবাসেন। সিটিসি চা দুধের সাথে খুব ভালো মেশে, যা পাতা চায়ে সম্ভব হয় না।

৩. যারা দ্রুত এনার্জি পেতে চান, কারণ কড়া লিকার শরীরে ক্যাফেইনের মাত্রা দ্রুত বাড়ায়।

স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রাখলে অবশ্যই পাতা চা শ্রেষ্ঠ। তবে আপনি যদি দুধ-চা বা কড়া স্বাদের ভক্ত হন, তবে ভালো মানের সিটিসি চা বেছে নিতে পারেন। মনে রাখবেন, চায়ের আসল গুণ পেতে হলে তা অতিরিক্ত ফোটানো চলবে না এবং অতিরিক্ত চিনি ব্যবহার এড়িয়ে চলতে হবে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON