...
...
Next Story

রোজ তুলসী পাতা ভেজানো জল খেলে কী হয়? শুনলে অবাক হয়ে যাবেন

প্রতিদিন সকালে খালি পেটে গ্রহণ করলে শরীরের ওপর বহুবিধ ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তুলসী পাতায় থাকা ইউজেনল (Eugenol), ক্যাম্পফিন এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগ একে একটি প্রাকৃতিক ওষুধে পরিণত করেছে।

Published on: Dec 08, 2025 04:29 PM IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

তুলসী (Holy Basil) কেবল একটি ধর্মীয় উদ্ভিদ নয়, এটি আয়ুর্বেদে 'ওষুধের রানি' হিসেবে পরিচিত। তুলসী পাতা ভেজানো জল (Tulsi Water) পান করা একটি প্রাচীন অভ্যাস, যা প্রতিদিন সকালে খালি পেটে গ্রহণ করলে শরীরের ওপর বহুবিধ ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তুলসী পাতায় থাকা ইউজেনল (Eugenol), ক্যাম্পফিন এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগ একে একটি প্রাকৃতিক ওষুধে পরিণত করেছে।

রোজ তুলসী পাতা ভেজানো জল খেলে কী হয়? শুনলে অবাক হয়ে যাবেন
রোজ তুলসী পাতা ভেজানো জল খেলে কী হয়? শুনলে অবাক হয়ে যাবেন

নিয়মিত তুলসী পাতা ভেজানো জল খেলে শরীরের কী কী উপকার হয়, তা নিয়ে এই প্রতিবেদন:

১. স্ট্রেস এবং উদ্বেগ হ্রাস (Adaptogen Quality)

এটি তুলসীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত সুবিধা।

  • স্ট্রেস-বিরোধী: তুলসীকে একটি শক্তিশালী অ্যাডাপ্টোজেন (Adaptogen) হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অ্যাডাপ্টোজেন হলো সেই সব ভেষজ, যা শরীরকে মানসিক, শারীরিক এবং পরিবেশগত স্ট্রেসের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে।
  • কর্টিসল নিয়ন্ত্রণ: প্রতিদিন তুলসী জল পান করলে তা স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল (Cortisol)-এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। এর ফলে উদ্বেগ কমে এবং মানসিক শান্তি বজায় থাকে।

২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি (Immunity Booster)

তুলসীতে থাকা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য শরীরকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করে।

  • সংক্রমণ প্রতিরোধ: তুলসী পাতায় ইউজেনল এবং অন্যান্য যৌগ থাকার কারণে তা ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং ছত্রাক সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। নিয়মিত পান করলে সর্দি, কাশি এবং ফ্লু-এর মতো সাধারণ অসুস্থতা থেকে সুরক্ষা মেলে।

৩. শ্বাসতন্ত্রের স্বাস্থ্য সুরক্ষা

তুলসী পাতা প্রাকৃতিক ডিটক্সিফায়ার হিসেবে কাজ করে।

  • কিডনি ও লিভার: তুলসী জল লিভার এবং কিডনির কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়তা করে। এর মৃদু মূত্রবর্ধক (Diuretic) বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি কিডনি থেকে বর্জ্য এবং টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করে। এটি কিডনি স্টোন বা বৃক্কে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক হতে পারে।

৫. রক্তে শর্করা এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ

ডায়াবেটিস: কিছু গবেষণা অনুসারে, তুলসী ইনসুলিনের সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।

  • রক্তচাপ: স্ট্রেস কমানোর মাধ্যমে এবং রক্তনালীর প্রদাহ হ্রাস করে তুলসী উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে পরোক্ষভাবে সাহায্য করতে পারে।

৬. তুলসী জল তৈরির সঠিক পদ্ধতি

  • উপাদান: ৫-৭টি পরিষ্কার তুলসী পাতা নিন।
  • প্রস্তুত প্রণালী: রাত্রে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস জলে পাতাগুলি হালকাভাবে ছেঁচে বা চাপ দিয়ে ভিজিয়ে রাখুন।
  • পান: পরদিন সকালে খালি পেটে এই জল ছেঁকে পান করুন।

তুলসী পাতা চিবিয়ে খাওয়া এড়িয়ে চলতে বলা হয়। কারণ তুলসী পাতায় সামান্য পারদ (Mercury) থাকে এবং এর অ্যাসিডিক উপাদান দাঁতের এনামেল বা আবরণের ক্ষতি করতে পারে। তাই পাতাগুলি না চিবিয়ে কেবল ভেজানো জল পান করাই নিরাপদ।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON