...
...
Next Story

এসে গেল ধনু সংক্রান্তি, এর পিছনে রয়েছে বিরাট সাংস্কৃতিক ইতিহাস! জানেন কি

এই সংক্রান্তি একটি বিশেষ তিথি, যা সাধারণত প্রতি বছর ডিসেম্বরের ১৪ বা ১৫ তারিখে পড়ে এবং ভারতীয় পঞ্জিকা অনুসারে এটি পবিত্র পৌষ মাসের (Poush Maas) সূচনা করে।

Published on: Dec 15, 2025 08:39 PM IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

'সংক্রান্তি' শব্দটি জ্যোতির্বিজ্ঞানের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি সূর্যের এক রাশি থেকে অন্য রাশিতে গমনকালকে বোঝায়। যখন সূর্য বৃশ্চিক রাশি থেকে ধনু রাশিতে প্রবেশ করে, তখন সেই দিনটিকে ধনু সংক্রান্তি (Dhanu Sankranti) হিসেবে পালন করা হয়। এই সংক্রান্তি একটি বিশেষ তিথি, যা সাধারণত প্রতি বছর ডিসেম্বরের ১৪ বা ১৫ তারিখে পড়ে এবং ভারতীয় পঞ্জিকা অনুসারে এটি পবিত্র পৌষ মাসের (Poush Maas) সূচনা করে।

আগামিকাল ধনু সংক্রান্তি, এর পিছনে রয়েছে বিরাট সাংস্কৃতিক ইতিহাস
আগামিকাল ধনু সংক্রান্তি, এর পিছনে রয়েছে বিরাট সাংস্কৃতিক ইতিহাস

ধনু সংক্রান্তি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ, এর ইতিহাস এবং কীভাবে এই উৎসব পালন করা হয়, জেনে নিন।

১. ধনু সংক্রান্তির কারণ ও তাৎপর্য

ধনু সংক্রান্তি মূলত একটি জ্যোতির্বিজ্ঞানের ঘটনা, যার গভীর ধর্মীয় ও কৃষিভিত্তিক তাৎপর্য রয়েছে।

  • সূর্যের রাশি পরিবর্তন: এই দিনে সূর্য ধনু রাশিতে প্রবেশ করে। হিন্দু জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, সূর্যের এই ধনু রাশিতে অবস্থানকে ধনু মাস (Dhanu Maas) বলা হয়। এই পুরো মাসটিকে অত্যন্ত পবিত্র মনে করা হয়, কারণ সূর্যকে 'দেবগুরু' বৃহস্পতির ঘরে (ধনু রাশি) অবস্থান করতে দেখা যায়।
  • শুভ কাজের নিষেধাজ্ঞা: ঐতিহ্যগতভাবে, ধনু সংক্রান্তির পর থেকে পৌষ মাস শেষ না হওয়া পর্যন্ত সাধারণত বিয়ে, উপনয়ন, গৃহ প্রবেশ বা বড় কোনো শুভ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় না। মনে করা হয়, এই সময়ে গ্রহের অবস্থান শুভ ফল দেয় না। তবে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, উপবাস এবং দাতব্য কাজ এই সময়ে চলতে পারে।
  • কৃষি ও ফসল: এই সংক্রান্তি শীতের মাঝামাঝি সময়ে আসে, যখন প্রধান ফসল (বিশেষ করে ধান) কাটা শেষ হয়। তাই এটি নতুন ফসলের প্রথম অংশ দেবতাকে নিবেদন করার একটি উৎসবও বটে।

২. ইতিহাস ও ক্ষেত্রীয় প্রভাব

এই সংক্রান্তির দিনে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হয়:

  • পবিত্র স্নান ও দান: এই দিনে সূর্যোদয়ের আগে ঘুম থেকে উঠে নদী বা জলাশয়ে পবিত্র স্নান (তীর্থস্নান) করার রেওয়াজ আছে। স্নানের পর সূর্য দেবতাকে (Surya Devta) জল অর্পণ করা হয় এবং পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করা হয়। এরপর দরিদ্রদের অন্ন, বস্ত্র বা অর্থ দান করা হয়।
  • পূজা ও উপবাস: অনেক ভক্ত এই দিনে উপবাস রাখেন এবং লক্ষ্মী-নারায়ণ বা শ্রীকৃষ্ণের বিশেষ পূজা করেন। মন্দিরে গিয়ে বিশেষ করে ভগবান জগন্নাথের আরাধনা করা হয়।
  • ধনু মুয়াঁ (Dhanu Muaan): ওড়িশাতে এই দিনে 'ধনু মুয়াঁ' নামে এক ধরনের মিষ্টি তৈরি করা হয়, যা চালের গুঁড়ো, গুড় এবং মশলা দিয়ে তৈরি হয়। এটি এই উৎসবের প্রধান প্রসাদ হিসেবে পরিচিত।
  • পিঠে তৈরি: পশ্চিমবঙ্গসহ অন্যান্য অঞ্চলে নতুন ফসলের চালের গুঁড়ো দিয়ে বিভিন্ন ধরনের পিঠে-পুলি তৈরির প্রস্তুতি শুরু হয়।

ধনু সংক্রান্তি কেবল একটি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পরিবর্তন নয়, এটি ভারতীয় সংস্কৃতিতে ধর্মীয় পবিত্রতা, কৃষিভিত্তিক আনন্দ এবং সামাজিক রীতিনীতির সংমিশ্রণ। এই দিনে পবিত্রতা বজায় রাখা এবং দান-ধ্যানের মাধ্যমে নতুন মাসকে স্বাগত জানানো হয়।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON