...
...
Next Story

চিকেন খাওয়ার পরে দুধ খেলে কী হয়? পেটের বিপদ ও ত্বকের রোগ এড়াতে এই তথ্যগুলি এখনই জেনে নিন

সত্যি কি চিকেন ও দুধের সংমিশ্রণ শরীরের জন্য ক্ষতিকর, নাকি এটি কেবলই শতাব্দী প্রাচীন এক লোকবিশ্বাস?

Published on: Aug 17, 2026, 12:29:49 IST
Advertisement

চিকেন বা মুরগির মাংস এবং দুধ—দুটিই আমাদের খাদ্যতালিকায় অতিপরিচিত ও উচ্চ প্রোটিনযুক্ত দুটি পুষ্টিকর খাবার। শরীর গঠন, পেশির শক্তিবৃদ্ধি এবং দৈনন্দিন শক্তির জোগান দিতে এই দুটি খাবারের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তবে লোককথা ও আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে বহুদিন ধরেই একটি বহুল প্রচলিত ধারণা রয়েছে—চিকেন বা মাংস খাওয়ার পর দুধ খেলে নাকি শরীরে বিষক্রিয়া হয়, পেটের মারাত্মক গোলযোগ ঘটে, এমনকি ত্বকে শ্বেতী বা ধবল (Vitiligo) রোগ দেখা দেয়।

চিকেন খাওয়ার পরে দুধ খেলে কী হয়? পেটের বিপদ ও ত্বকের রোগ এড়াতে কী করবেন
চিকেন খাওয়ার পরে দুধ খেলে কী হয়? পেটের বিপদ ও ত্বকের রোগ এড়াতে কী করবেন

কিন্তু আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান ও পুষ্টিবিজ্ঞান এই বিষয়ে ঠিক কী বলছে? সত্যি কি চিকেন ও দুধের সংমিশ্রণ শরীরের জন্য ক্ষতিকর, নাকি এটি কেবলই শতাব্দী প্রাচীন এক লোকবিশ্বাস? চিকেন ও দুধ একসঙ্গে বা পরপর খেলে শরীরে ঠিক কী ঘটে, বিজ্ঞান ও আয়ুর্বেদের মতামত এবং এ বিষয়ে কী কী সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত—জেনে নিন।

১. আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের দৃষ্টিভঙ্গি: ‘বিরুদ্ধ আহার’

প্রাচীন আয়ুর্বেদ অনুযায়ী, দুধ এবং চিকেনকে সম্পূর্ণ বিপরীত প্রকৃতির খাবার বা ‘বিরুদ্ধ আহার’ হিসেবে গণ্য করা হয়।

  • পাচনপ্রক্রিয়ার ভিন্নতা: আয়ুর্বেদ মতে, দুধ একটি হালকা ও শীতল প্রকৃতির খাবার, অন্যদিকে চিকেন হলো ভারী ও উষ্ণ প্রকৃতির। যখন দুটি ভিন্ন ধর্মী ও বিপরীত গুণসম্পন্ন খাবার একসাথে বা খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে পেটে যায়, তখন পরিপাকতন্ত্র বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে।
  • টক্সিন বা ‘আম’ তৈরি: আয়ুর্বেদ শাস্ত্র মনে করে, এই দুটি খাবার একসাথে হজম হতে গিয়ে পেটে প্রাকৃতিকভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে, যা শরীরে ‘আম’ বা বিষাক্ত উপাদান (Toxins) জমাতে সাহায্য করে। দীর্ঘমেয়াদে এই অভ্যাস বজায় রাখলে ত্বকের নানা সমস্যা, অ্যালার্জি ও পেটের অম্বল হতে পারে।

২. আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতামত

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, যদি চিকেন ও দুধের মিশ্রণ ক্ষতিকরই হয়, তবে রেস্তোরাঁর নানা পদ যেমন—চিজি চিকেন, চিকেন রেজালা, হোয়াইট সস চিকেন বা চিকেন মালাই টিক্কায় কীভাবে দুধ, দই বা ক্রিম ব্যবহার করা হয়?

বিজ্ঞান অনুযায়ী, রান্নার সময় যখন মাংসের সাথে দুধ, দই বা মাখন ফুটিয়ে উচ্চ তাপে রান্না করা হয়, তখন প্রোটিনের ভৌত গঠন বা মলিকিউলার স্ট্রাকচার বদলে যায় (Denaturation of Proteins)। ফলে তা সহজে পচ্য হয়ে ওঠে। কিন্তু আলাদাভাবে সেদ্ধ বা কষা চিকেন খাওয়ার পরপরই এক গ্লাস কাঁচা বা হালকা গরম দুধ খেলে তা পাকস্থলীতে গিয়ে ভিন্ন প্রক্রিয়ায় পাচিত হয়, যা সংবেদনশীল পেটে সমস্যার সৃষ্টি করে।

৪. চিকেন ও দুধ খাওয়ার মাঝখানে কতটা ব্যবধান রাখা উচিত?

যাঁদের পেট পরিষ্কার এবং হজমশক্তি ভালো, তাঁদের হয়তো এই কম্বিনেশনে খুব বড় কোনো সমস্যা হবে না। তবে যেকোনো ধরণের পেটের গোলযোগ, বদহজম বা শারীরিক অস্বস্তি এড়াতে পুষ্টিবিদরা কিছু বিশেষ সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দেন:

  • ২ থেকে ৩ ঘণ্টার ব্যবধান: চিকেন বা যেকোনো ভারী অম্লীয় মাংস খাওয়ার পর অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা বিরতি দিয়ে দুধ পান করা সবচেয়ে নিরাপদ।
  • রাতে ঘুমানোর আগে দুধ পানের অভ্যাস: রাতে মাংসের ভারী ডিনার করার সাথে সাথেই দুধ না খেয়ে, ঘুমানোর অন্তত আধ ঘণ্টা আগে হালকা গরম দুধ পান করতে পারেন, যদি ডিনার ও দুধের মাঝে পর্যাপ্ত বিরতি থাকে।
  • সংবেদনশীল পেটের ক্ষেত্রে এড়ানোই শ্রেয়: যাঁদের আইবিএস (IBS), অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের পুরোনো সমস্যা রয়েছে, তাঁদের এই দুটি খাবার পরপর না খাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

চিকেন খাওয়ার পর দুধ খেলে শ্বেতী হয় বা মারাত্মক বিষক্রিয়া ঘটে—এ কথাটি বিজ্ঞানসম্মত নয়। তবে দুটি উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার একসাথে খেলে পেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে বদহজম ও গ্যাস হতে পারে। তাই শরীরকে সুস্থ ও হজমপ্রক্রিয়াকে মসৃণ রাখতে দুটি খাবার খাওয়ার মাঝে অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টার ব্যবধান বজায় রাখাই বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে শ্রেয়।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON