...
...
Next Story

রাতে ঘুমের মধ্যে বারবার গলা শুকিয়ে যাচ্ছে? জানুন এটি কোন কোন শারীরিক সমস্যার লক্ষণ

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় মুখের ভেতর পর্যাপ্ত লালা (Saliva) তৈরি না হওয়া বা লালাগ্রন্থি শুকিয়ে যাওয়াকে ‘জেরোস্টোমিয়া’ (Xerostomia) বা ড্রাই মাউথ বলা হয়। লালা কেবল মুখ সিক্ত রাখে না, বরং এটি মুখের ভেতর ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে এবং খাবার হজমে সাহায্য করে।

Published on: Aug 3, 2026, 10:52:05 IST
Advertisement

রাতে সুন্দর ও গভীর ঘুম আমাদের সারাদিনের ক্লান্তি দূর করে শরীরকে নতুন করে চাঙ্গা করে তোলে। কিন্তু অনেকেই মধ্যরাতে বা ভোরবেলায় হঠাৎ গলা শুকিয়ে গিয়ে ঘুম ভেঙে যাওয়ার অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। তীব্র তৃষ্ণায় গলা এতটাই খাঁ খাঁ করে যে পাশে রাখা গ্লাস থেকে জল না খেলে কিছুতেই আর আরাম মেলে না। মাঝে সাঝে অতিরিক্ত গরম বা এসি চলার কারণে কিংবা জল কম খাওয়ার ফলে এমনটা হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু এই সমস্যাটি যদি প্রায় প্রতিদিনই ঘটতে থাকে, তবে এটিকে অবহেলা করা একদমই উচিত নয়।

রাতে ঘুমের মধ্যে বারবার গলা শুকিয়ে যাচ্ছে? জানুন এটি কোন কোন সমস্যার লক্ষণ
রাতে ঘুমের মধ্যে বারবার গলা শুকিয়ে যাচ্ছে? জানুন এটি কোন কোন সমস্যার লক্ষণ

রাতে ঘুমের মধ্যে বারবার গলা শুকিয়ে যাওয়া কেবল একটি সাধারণ তৃষ্ণা নয়; এটি আমাদের শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার বা অন্তর্নিহিত রোগের লক্ষণ হতে পারে। রাতে ঘুমের মধ্যে গলা শুকিয়ে যাওয়ার মূল কারণগুলো কী কী এবং কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, তা জেনে নিন।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় মুখের ভেতর পর্যাপ্ত লালা (Saliva) তৈরি না হওয়া বা লালাগ্রন্থি শুকিয়ে যাওয়াকে ‘জেরোস্টোমিয়া’ (Xerostomia) বা ড্রাই মাউথ বলা হয়। লালা কেবল মুখ সিক্ত রাখে না, বরং এটি মুখের ভেতর ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে এবং খাবার হজমে সাহায্য করে। রাতে এই সমস্যাটি বৃদ্ধির পেছনে যে কারণগুলো কাজ করে:

১. মুখে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস (Mouth Breathing) ও নাক ডাকা

অনেকেরই স্বাভাবিকভাবে নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়ার বদলে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস থাকে। বিশেষ করে যাঁদের নাকের হাড় বাঁকা (Deviated Nasal Septum), নাকে সাইনাসের সমস্যা বা অ্যালার্জিজনিত কারণে নাক বন্ধ থাকে, তারা অজান্তেই মুখ দিয়ে শ্বাস নেন। ঘুমের মধ্যে মুখ খোলা থাকলে ভেতরের আর্দ্রতা হাওয়ায় উড়ে যায় এবং গলা পুরোপুরি শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায়।

২. স্লিপ অ্যাপনিয়া (Sleep Apnea)

রক্তে শর্করার মাত্রা বা সুগার লেভেল অতিরিক্ত বেড়ে গেলে কিডনি অতিরিক্ত চিনি প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে। এর ফলে ঘন ঘন প্রস্রাব হয় এবং শরীর দ্রুত ডিহাইড্রেটেড বা জলশূন্য হয়ে পড়ে। রাতে ডায়াবেটিস রোগীদের বারবার জলতেষ্টা পাওয়া এবং গলা শুকিয়ে যাওয়া ডায়াবেটিসের এক অন্যতম প্রাথমিক লক্ষণ।

৪. ডিহাইড্রেশন বা শরীরের জলশূন্যতা

সারাদিনে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান না করলে রাতে শরীর ডিহাইড্রেটেড হয়ে পড়ে। অতিরিক্ত গরম, আর্দ্রতা বা ঘেমে যাওয়ার কারণে শরীরে জলের ঘাটতি দেখা দিলে রাতে লালাগ্রন্থিগুলো পর্যাপ্ত লালা তৈরি করতে পারে না, যার ফলে রাতে গলা শুকিয়ে যায়।

৫. ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (Side Effects of Medications)

যাঁরা উচ্চ রক্তচাপ, বিষন্নতা বা ডিপ্রেশন, উদ্বেগ (Anxiety), অ্যালার্জি কিংবা প্রেসারের জন্য প্রতিদিন নিয়ম করে ওষুধ খান, তাঁদের ক্ষেত্রে ওষুধগুলোর প্রভাব বা সাইড ইফেক্ট হিসেবে রাতে মুখ ও গলা শুকিয়ে যেতে পারে।

৬. এসিড রিফ্লাক্স বা জিইআরডি (GERD)

রাতে ভারী বা অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার খেয়ে শুয়ে পড়লে পাকস্থলীর এসিড উল্টো দিকে প্রবাহিত হয়ে খাদ্যনালী বা গলায় চলে আসে (Acid Reflux)। এতে গলার টিস্যুতে প্রদাহ ও জ্বালাতন তৈরি হয়, যা রাতের বেলায় গলা শুকিয়ে যাওয়া বা গলায় অস্বস্তি তৈরির অন্যতম কারণ।

প্রতিকারের সহজ ঘরোয়া উপায়

  • পর্যাপ্ত জল পান: সারাদিনে অন্তত ২.৫ থেকে ৩ লিটার জল পান করুন। তবে রাতে ঘুমানোর ঠিক আগে অতিরিক্ত জল না খেয়ে সারাদিন ধরে অল্প অল্প করে জল পান করা ভালো।
  • হিউমিডিফায়ার ব্যবহার: ঘরে এসি চললে বা অতিরিক্ত শুষ্ক আবহাওয়া থাকলে ঘরে একটি হিউমিডিফায়ার (Humidifier) ব্যবহার করতে পারেন, যা ঘরের বাতাসে আর্দ্রতা ধরে রাখে।
  • সোজা হয়ে ঘুমানো: কাৎ হয়ে বা চিত হয়ে ঘুমানোর অবস্থান পরিবর্তন করে দেখুন, এতে নাক ডাকা এবং মুখে শ্বাস নেওয়ার প্রবণতা কমে।
  • খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন: রাতে অতিরিক্ত ক্যাফেইন (চা-কফি), অ্যালকোহল ও অতিরিক্ত লবণাক্ত বা ঝাল খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

কখন ডাক্তার দেখাবেন?

যদি গলা শুকিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে প্রবল নাক ডাকা, সকালে উঠে মাথা ব্যথা, সবসময় ক্লান্তিভাব বা তীব্র পেটের সমস্যা দেখা দেয়, তবে অবিলম্বে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষা করানো জরুরি।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON