...
...
Next Story

সিজারের দাগ দূর করার সহজ ৫টি ঘরোয়া উপায়! জানুন নতুন মায়েদের ত্বকের যত্নে নিরাপদ সমাধান

সি সেকশনের পর যেকোনো ঘরোয়া রূপচর্চা শুরু করার আগে অবশ্যই নিশ্চিত হতে হবে যে অস্ত্রোপচারের ক্ষতস্থান ভেতর ও বাইর থেকে সম্পূর্ণ শুষ্ক ও নিরাময় হয়েছে। সাধারণত সেলাই কাটার বা শুকানোর কয়েক সপ্তাহ পর চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এই প্রাকৃতিক উপায়গুলো অনুসরণ করা উচিত।

Published on: Aug 2, 2026, 16:01:10 IST
Advertisement

গর্ভধারণ এবং সন্তানের জন্মদান প্রতিটি নারীর জীবনেই এক পরম অলৌকিক ও আনন্দঘন অনুভূতি। তবে অনেক ক্ষেত্রে প্রসূতি ও সন্তানের জীবনের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সিজারিয়ান সেকশন বা সি সেকশন (C-Section) অস্ত্রোপচারের পথ বেছে নিতে হয়। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্মের পর তলপেটে থেকে যাওয়া সিজারের দাগ বা স্কার (C-Section Scar) নিয়ে অনেক নতুন মা-ই মানসিক অস্বস্তিতে ভোগেন।

সিজারের দাগ দূর করার সহজ ৫টি ঘরোয়া উপায়! জানুন ত্বকের যত্নে নিরাপদ সমাধান
সিজারের দাগ দূর করার সহজ ৫টি ঘরোয়া উপায়! জানুন ত্বকের যত্নে নিরাপদ সমাধান

অস্ত্রোপচারের পর ক্ষত পুরোপুরি শুকিয়ে যেতে কিছুটা সময় লাগে। তবে ক্ষত একবার পুরোপুরি সেরে উঠলে এবং চিকিৎসকের অনুমতি মিললে কিছু নিরাপদ ও সহজ প্রাকৃতিক উপাদানের সাহায্যে এই জেদি দাগ ধীরে ধীরে অনেকটাই হালকা করে ফেলা সম্ভব। সিজারের দাগ দূর করার সেরা ও নিরাপদ ঘরোয়া উপায়গুলো জেনে নিন।

সি সেকশনের পর যেকোনো ঘরোয়া রূপচর্চা শুরু করার আগে অবশ্যই নিশ্চিত হতে হবে যে অস্ত্রোপচারের ক্ষতস্থান ভেতর ও বাইর থেকে সম্পূর্ণ শুষ্ক ও নিরাময় হয়েছে। সাধারণত সেলাই কাটার বা শুকানোর কয়েক সপ্তাহ পর চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এই প্রাকৃতিক উপায়গুলো অনুসরণ করা উচিত।

১. খাঁটি নারকেল তেল ও ভিটামিন ই

ত্বকের গভীর আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং কোলাজেন ফাইবার পুনর্গঠনে নারকেল তেল অতুলনীয়। এতে থাকা ফ্যাটি অ্যাসিড এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বকের উপরিভাগের কোষকে পুনরুজ্জীবিত করতে সাহায্য করে।

  • ব্যবহার পদ্ধতি: ১ চামচ খাঁটি ইষদুষ্ণ নারকেল তেলের সাথে ১টি ভিটামিন ই ক্যাপসুলের তেল ভালো করে মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি সিজারের দাগের ওপর হালকা হাতে গোলাকার (Circular) গতিতে ৫-১০ মিনিট মাসাজ করুন। নিয়মিত প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে এটি ব্যবহার করলে দাগ দ্রুত হালকা হয়।

২. ফ্রেশ অ্যালোভেরা জেল

কাঁচা হলুদে রয়েছে 'কারকিউমিন' নামক শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-সেপ্টিক উপাদান, যা ত্বকের রঞ্জক পদার্থ বা পিগমেন্টেশন কমায়। অন্যদিকে মধু ত্বককে কোমল ও আর্দ্র রাখে।

  • ব্যবহার পদ্ধতি: আধ চা চামচ কাঁচা হলুদ বাটার সাথে ১ চা চামচ খাঁটি মধু মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্টটি দাগের ওপর লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর হালকা গরম জলে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ৩-৪ দিন এটি ব্যবহার করতে পারেন।

৪. কোকো বাটার বা শিয়া বাটার

কোকো বাটার এবং শিয়া বাটার চমৎকার ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে, যা সেলাইয়ের শক্ত হয়ে যাওয়া স্কার টিস্যুকে (Scar Tissue) নরম করতে দারুণ কার্যকরী।

  • ব্যবহার পদ্ধতি: সামান্য কোকো বাটার আঙুলে নিয়ে সিজারের দাগের ওপর দিনে দুইবার আলতো করে মাসাজ করুন। এটি নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বা ইলাস্টিসিটি ফিরে আসে এবং দাগের গাঢ় ভাব কমে যায়।

৫. পাতিলেবুর রস ও গোলাপ জল (সতর্কতার সাথে)

পাতিলেবুর রসে থাকা প্রাকৃতিক সাইট্রিক অ্যাসিড ত্বককে উজ্জ্বল করতে এবং দাগের রঙ হালকা করতে সাহায্য করে। তবে কাটা বা খোলা ক্ষতে এটি কখনোই লাগানো যাবে না।

  • ব্যবহার পদ্ধতি: সমপরিমাণ পাতিলেবুর রস ও গোলাপ জল একসাথে মিশিয়ে তুলো দিয়ে দাগের ওপর আলতো করে লাগান। ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। ত্বক যদি অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয় তবে লেবুর রস এড়িয়ে চলাই ভালো।

জরুরি কিছু সতর্কতা ও নিয়ম

  • ক্ষত সম্পূর্ণ শুকাতে দিন: কোনো অবস্থায় ক্ষত কাঁচা থাকা অবস্থায় বা সেলাই সম্পূর্ণ না শুকানো পর্যন্ত কোনো তেল বা প্যাক লাগাবেন না।
  • হালকা মাসাজ: মাসাজ করার সময় পেটে কখনোই অতিরিক্ত চাপ দেবেন না।
  • পুষ্টিকর খাবার ও জল: ভেতর থেকে ত্বক পুনর্গঠনের জন্য প্রচুর জল, ভিটামিন সি এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খান।

সিজারের দাগ এক দিনে দূর হওয়া সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন ধৈর্য এবং ধারাবাহিক পরিচর্যা। মাতৃত্বের এই সুন্দর স্মারককে ভয় না পেয়ে নিয়মিত ঘরোয়া পরিচর্যা ও সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেই দাগ অনেকটাই স্বাভাবিক ত্বকের সাথে মিশে যাবে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON