সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা, পেশী বা মাসল (Muscle) তৈরি করা কিংবা দৈনন্দিন শক্তি ধরে রাখা—সবকিছুর জন্যই প্রোটিন আমাদের শরীরের এক অপরিহার্য উপাদান। কিন্তু যখনই উচ্চমানের প্রোটিনের কথা আসে, তখন পুষ্টির পাতে দুটি নামই সবচেয়ে আগে উঠে আসে—ডিম এবং চিকেন (মুরগির মাংস)। জিম ট্রেনার থেকে শুরু করে পুষ্টিবিদরা দুটিরই প্রশংসা করেন। তবে প্রশ্ন হলো, প্রোটিনের গুনাগুণ, শোষণ ক্ষমতা এবং সার্বিক উপকারের বিচারে আসলে কোনটি বেশি কার্যকরী বা 'বেটার' উৎস?

বিজ্ঞান ও পুষ্টিগুণের নিরিখে ডিম ও চিকেনের একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ তুলনা এবং আপনার জন্য কোনটি সবচেয়ে উপযোগী, তা জেনে নিন।
১. প্রোটিনের গুণমান ও পরিমাণের তুলনা
- প্রোটিনের পরিমাণ:
পরিমাণের দিক থেকে চিকেন অনেকটাই এগিয়ে। প্রতি ১০০ গ্রাম সেদ্ধ চিকেন ব্রেস্টে (Chicken Breast) প্রায় ৩০-৩১ গ্রাম উচ্চমানের প্রোটিন পাওয়া যায়। অন্যদিকে, একটি সাধারণ মাঝারি আকারের সেদ্ধ ডিমে মাত্র ৬-৭ গ্রাম প্রোটিন থাকে। অর্থাৎ প্রোটিনের ঘনত্বের বিচারে চিকেন অনেক বেশি কার্যকর।
- প্রোটিনের জৈবিক মান (Biological Value):
প্রোটিন কতটা সহজে আমাদের শরীর শুষে নিতে বা হজম করতে পারে, তা মাপা হয় 'বায়োলজিক্যাল ভ্যালু' বা BV দিয়ে। বিজ্ঞানের নিয়মে ডিমকে প্রোটিনের 'গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড' (Gold Standard) বলা হয়, কারণ এর বায়োলজিক্যাল ভ্যালু ১০০ (সম্পূর্ণ শোষণে সক্ষম)। অন্যদিকে, চিকেনের বায়োলজিক্যাল ভ্যালু প্রায় ৭৯। অর্থাৎ ডিমের প্রোটিন শরীর অনেক বেশি দ্রুত ও সহজে শোষণ করতে পারে।
২. অন্যান্য পুষ্টিগুণ ও ক্যালরির তফাত
- ডিমের পুষ্টিগুণ (Powerhouse of Micronutrients):
ডিম কেবল প্রোটিন নয়, এটি সুষম পুষ্টির পাওয়ার হাউস। ডিমের কুসুমে রয়েছে ভিটামিন এ, ডি, ই, বি১২, কোলিন (যা মস্তিষ্কের বিকাশে সাহায্য করে), সেলেনিয়াম এবং লুটেইন। কম খরচে এতগুলো প্রয়োজনীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস অন্য কোনো একক খাবারে পাওয়া কঠিন। তবে ডিমের কুসুমে সামান্য কোলেস্টেরল ও ফ্যাট থাকে।
- চিকেনের পুষ্টিগুণ (Lean Protein Source):
ডিম কেবল প্রোটিন নয়, এটি সুষম পুষ্টির পাওয়ার হাউস। ডিমের কুসুমে রয়েছে ভিটামিন এ, ডি, ই, বি১২, কোলিন (যা মস্তিষ্কের বিকাশে সাহায্য করে), সেলেনিয়াম এবং লুটেইন। কম খরচে এতগুলো প্রয়োজনীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস অন্য কোনো একক খাবারে পাওয়া কঠিন। তবে ডিমের কুসুমে সামান্য কোলেস্টেরল ও ফ্যাট থাকে।
- চিকেনের পুষ্টিগুণ (Lean Protein Source):
চিকেন, বিশেষ করে স্কিনলেস চিকেন ব্রেস্ট হলো ফ্যাতমুক্ত লিন প্রোটিনের (Lean Protein) দুর্দান্ত উৎস। এতে প্রোটিনের মাত্রা বেশি কিন্তু ক্যালরি ও ফ্যাটের পরিমাণ অনেক কম। এ ছাড়া এতে নিয়াসিন, ভিটামিন বি৬, ফসফরাস এবং জিঙ্ক থাকে, যা মেটাবলিজম ও পেশীর ক্ষমতা বাড়ায়।
৩. কোনটা কার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত?
- ওজন কমানো ও মাসল বিল্ডিং: যাঁরা জিম করেন বা বডি বিল্ডিং করছেন, তাঁদের দৈনিক প্রোটিনের চাহিদা অনেক বেশি থাকে। অল্প পরিমাণে বেশি প্রোটিন এবং কম ফ্যাট পাওয়ার জন্য তাঁদের জন্য চিকেন আদর্শ।
- সহজ পচ্য ও দৈনন্দিন বাজেট: যাঁরা কম খরচে, সহজে রান্নাযোগ্য এবং দ্রুত হজম হয় এমন প্রোটিনের উৎস খুঁজছেন, তাঁদের জন্য ডিম সেরা। এটি শিশু থেকে প্রবীণ—সবার জন্যই অত্যন্ত নিরাপদ।
পুষ্টিবিজ্ঞানের বিচারে ডিম ও চিকেন—দুটিই নিজ নিজ জায়গায় সেরা। ডিম হলো সহজে শোষিত ও পুষ্টিতে ভরপুর 'কমপ্লিট প্রোটিন', আর চিকেন হলো বেশি পরিমাণের 'লিন প্রোটিন'। তাই কোনো একটিকে বাদ না দিয়ে নিজের দৈনন্দিন কায়িক পরিশ্রম, শারীরিক চাহিদা ও বাজেট অনুযায়ী খাদ্যতালিকায় দুটিরই ভারসাম্য রেখে ব্যবহার করাই সুস্থতার আসল চাবিকাঠি।