...
...
Next Story

এই খাবারগুলোই কমিয়ে দিচ্ছে আপনার প্রজনন ক্ষমতা! এখনই সাবধান হন

চিকিৎসকদের মতে, কেবল বংশগতি বা পরিবেশ দূষণ নয়, আমাদের রোজকার খাদ্যতালিকায় থাকা বেশ কিছু পরিচিত খাবার অজান্তেই শুক্রাণুর সংখ্যা (Sperm count) এবং গুণমান কমিয়ে দিচ্ছে।

Published on: Jan 17, 2026, 12:34:39 IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

বর্তমান বিশ্বে পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতা বা ফার্টিলিটি হ্ৰাস পাওয়া একটি বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, কেবল বংশগতি বা পরিবেশ দূষণ নয়, আমাদের রোজকার খাদ্যতালিকায় থাকা বেশ কিছু পরিচিত খাবার অজান্তেই শুক্রাণুর সংখ্যা (Sperm count) এবং গুণমান কমিয়ে দিচ্ছে। ২০২৬ সালের আধুনিক জীবনযাত্রায় সুস্থ থাকতে এবং বাবা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে কোন খাবারগুলো এড়িয়ে চলবেন, জেনে নিন।

পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতার শত্রু: আজই খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিন এই ৫ খাবার

এই খাবারগুলোই কমিয়ে দিচ্ছে আপনার প্রজনন ক্ষমতা! এখনই সাবধান হন
এই খাবারগুলোই কমিয়ে দিচ্ছে আপনার প্রজনন ক্ষমতা! এখনই সাবধান হন

গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু নির্দিষ্ট খাবার টেস্টোস্টেরন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং প্রজনন ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

১. প্রসেসড বা প্রক্রিয়াজাত মাংস

সসেজ, সালামি, বেকন বা ক্যানবন্দি মাংস পুরুষদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এই ধরনের খাবারে প্রচুর পরিমাণে প্রিজারভেটিভ এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত প্রক্রিয়াজাত মাংস খান, তাদের শুক্রাণুর স্বাভাবিক গঠন বা মরফোলজি অন্যদের তুলনায় অনেকটাই দুর্বল হয়।

২. অতিরিক্ত চিনি ও সফট ড্রিঙ্কস

সোডা, এনার্জি ড্রিঙ্কস এবং অতিরিক্ত মিষ্টি জাতীয় খাবার শরীরে 'ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স' তৈরি করে। এটি সরাসরি শুক্রাণুর গতিশীলতা (Motility) কমিয়ে দেয়। এছাড়া চিনির কারণে হওয়া স্থূলতা বা মেদ টেস্টোস্টেরন হরমোন কমিয়ে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা প্রজনন ক্ষমতার জন্য অন্তরায়।

৩. সয়াবিন ও সয়া জাতীয় পণ্য

সয়াবিনে রয়েছে ‘আইসোফ্ল্যাভোনস’ (Isoflavones), যা এক ধরণের উদ্ভিদজাত ইস্ট্রোজেন। অতিরিক্ত পরিমাণে সয়া মিল্ক, সয়াবিন বা সয়া প্রোটিন খেলে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। যদিও পরিমিত সয়াবিন ক্ষতিকর নয়, তবে মাত্রাতিরিক্ত সেবন শুক্রাণুর ঘনত্ব কমিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি থাকে।

ফাস্ট ফুড, পিৎজা, বার্গার এবং কড়া তেলে ভাজা খাবারে প্রচুর ট্রান্স ফ্যাট থাকে। এই ফ্যাট রক্ত সঞ্চালনে বাধা দেয় এবং প্রজনন অঙ্গের কোষগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। যারা নিয়মিত জাঙ্ক ফুড খান, তাদের বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।

৫. প্লাস্টিক প্যাকেটের খাবার ও বিসফেনল-এ (BPA)

খাবারের তালিকার পাশাপাশি খাবার রাখার পাত্রটিও গুরুত্বপূর্ণ। প্লাস্টিকের কন্টেনার বা ক্যানে থাকা BPA নামক রাসায়নিক হরমোনের কার্যকারিতা নষ্ট করে। প্লাস্টিক পাত্রে খাবার গরম করে খাওয়া বা প্লাস্টিকের বোতলে জল পান করা পুরুষদের প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

প্রজনন ক্ষমতা বাড়াতে কী করবেন?

  • জিঙ্ক ও ফলিক অ্যাসিড: খাদ্যতালিকায় কুমড়োর বীজ, ডিম, কলা এবং সবুজ শাকসবজি রাখুন।
  • অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট: রঙিন ফল এবং বাদাম শুক্রাণুর গুণমান বাড়াতে সাহায্য করে।
  • ব্যায়াম: ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং নিয়মিত যোগব্যায়াম করুন।

প্রজনন ক্ষমতা কমে যাওয়া কোনো স্থায়ী সমস্যা নয় যদি সময়মতো খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করা যায়। ধূমপান ও মদ্যপান বর্জন করার পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করলে মাত্র ৩ মাসের মধ্যেই শুক্রাণুর স্বাস্থ্যের উল্লেখযোগ্য উন্নতি সম্ভব।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON