...
...
Next Story

কোন কোন খাবার মনখারাপ বাড়িয়ে দিতে পারে? শীতে এগুলো এড়িয়ে চলবেন কেন

সূর্যালোকের অভাব আর শরীরে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে এই সময়ে মন খারাপ বা অস্থিরতা বাড়া স্বাভাবিক। তবে মনোবিদ ও পুষ্টিবিদরা বলছেন, আমাদের খাদ্যাভ্যাস এই অবসাদকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

Published on: Jan 5, 2026, 11:53:12 IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

শীতের ছোট দিন আর দীর্ঘ রাত অনেকের মনেই এক ধরণের বিষণ্ণতা তৈরি করে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় 'সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিসঅর্ডার' (SAD) বা শীতকালীন অবসাদ। সূর্যালোকের অভাব আর শরীরে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে এই সময়ে মন খারাপ বা অস্থিরতা বাড়া স্বাভাবিক। তবে মনোবিদ ও পুষ্টিবিদরা বলছেন, আমাদের খাদ্যাভ্যাস এই অবসাদকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

কোন কোন খাবার মনখারাপ বাড়িয়ে দিতে পারে? শীতে এগুলো এড়িয়ে চলবেন কেন
কোন কোন খাবার মনখারাপ বাড়িয়ে দিতে পারে? শীতে এগুলো এড়িয়ে চলবেন কেন

এমন কিছু খাবার আছে যা সাময়িকভাবে আনন্দ দিলেও শরীরের 'হ্যাপি হরমোন' নিঃসরণে বাধা দেয় এবং মানসিক অবস্থাকে আরও শোচনীয় করে তোলে। শীতকালীন অবসাদ বা মেন্টাল হেলথ চ্যালেঞ্জ এড়াতে কোন খাবারগুলো আজই খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেবেন, জেনে নিন।

সাবধান! এই ৫ খাবার শীতকালীন অবসাদ বা ডিপ্রেশন বাড়িয়ে দিতে পারে

যারা শীতকালে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বা একাকীত্বে ভোগেন, তাদের জন্য নিচের খাবারগুলো বিষের মতো কাজ করতে পারে:

১. অতিরিক্ত চিনি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার

মন খারাপ থাকলে আমরা অনেকেই চকোলেট বা মিষ্টির দিকে ঝুঁকে পড়ি। একে বলা হয় 'সুগার রাশ'। চিনি রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়িয়ে দেয় এবং কিছুক্ষণ পরেই তা দ্রুত কমিয়ে দেয় (Sugar Crash)। এই উত্থান-পতন মানুষের মেজাজ বা মুডকে খিটখিটে করে তোলে এবং দীর্ঘমেয়াদে অবসাদ বাড়ায়।

২. রিফাইনড বা সাদা আটা-ময়দা (Refined Carbs)

শীতের ঠান্ডায় বারবার কফি খাওয়া অনেকেরই অভ্যাস। কিন্তু অতিরিক্ত ক্যাফেইন আপনার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় এবং স্নায়ুকে উত্তেজিত রাখে। ঘুমের অভাব সরাসরি বিষণ্ণতা এবং উদ্বেগের (Anxiety) সাথে যুক্ত। দিনে ২ কাপের বেশি কফি খেলে আপনার অস্থিরতা বাড়তে পারে।

৪. প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত খাবার (Processed Foods)

চিপস, ইনস্ট্যান্ট নুডলস বা হিমায়িত খাবারে প্রচুর পরিমাণে প্রিজারভেটিভ এবং সোডিয়াম থাকে। এগুলো মস্তিষ্কের রাসায়নিক ভারসাম্য বিঘ্নিত করে। বিশেষ করে 'ট্রান্স ফ্যাট' যুক্ত খাবার মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং মন খারাপের অনুভূতি বাড়িয়ে তোলে।

৫. কৃত্রিম মিষ্টিকারক (Artificial Sweeteners)

অনেকে ডায়েট করার জন্য চিনির বদলে কৃত্রিম সুইটেনার ব্যবহার করেন। এতে থাকা 'অ্যাসপার্টাম' নামক উপাদান মস্তিষ্কের ডোপামিন হরমোন তৈরিতে বাধা দেয়। ফলে আনন্দ বা খুশির অনুভূতি কমে গিয়ে মন বিষণ্ণ হয়ে পড়ে।

অবসাদ কাটাতে কী খাবেন?

  • ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড: সামুদ্রিক মাছ, আখরোট এবং তিল মেজাজ ভালো রাখতে সাহায্য করে।
  • ভিটামিন ডি: শীতের সকালে গায়ে রোদ লাগান এবং ডিমের কুসুম বা মাশরুম খান।
  • ডার্ক চকোলেট: সামান্য পরিমাণে ডার্ক চকোলেট স্ট্রেস হরমোন কমাতে কার্যকর।

শীতের এই সময়ে শরীরের পাশাপাশি মনের যত্ন নেওয়াও জরুরি। আপনার থালায় কী থাকছে, তার ওপর নির্ভর করবে আপনার মনের আবহাওয়া। তাই অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলুন এবং মানসিকভাবে সতেজ থাকতে নিয়মিত হাঁটাহাঁটি ও পর্যাপ্ত জল পান করুন।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON