শীতের ছোট দিন আর দীর্ঘ রাত অনেকের মনেই এক ধরণের বিষণ্ণতা তৈরি করে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় 'সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিসঅর্ডার' (SAD) বা শীতকালীন অবসাদ। সূর্যালোকের অভাব আর শরীরে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে এই সময়ে মন খারাপ বা অস্থিরতা বাড়া স্বাভাবিক। তবে মনোবিদ ও পুষ্টিবিদরা বলছেন, আমাদের খাদ্যাভ্যাস এই অবসাদকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

এমন কিছু খাবার আছে যা সাময়িকভাবে আনন্দ দিলেও শরীরের 'হ্যাপি হরমোন' নিঃসরণে বাধা দেয় এবং মানসিক অবস্থাকে আরও শোচনীয় করে তোলে। শীতকালীন অবসাদ বা মেন্টাল হেলথ চ্যালেঞ্জ এড়াতে কোন খাবারগুলো আজই খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেবেন, জেনে নিন।
সাবধান! এই ৫ খাবার শীতকালীন অবসাদ বা ডিপ্রেশন বাড়িয়ে দিতে পারে
যারা শীতকালে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বা একাকীত্বে ভোগেন, তাদের জন্য নিচের খাবারগুলো বিষের মতো কাজ করতে পারে:
১. অতিরিক্ত চিনি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার
মন খারাপ থাকলে আমরা অনেকেই চকোলেট বা মিষ্টির দিকে ঝুঁকে পড়ি। একে বলা হয় 'সুগার রাশ'। চিনি রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়িয়ে দেয় এবং কিছুক্ষণ পরেই তা দ্রুত কমিয়ে দেয় (Sugar Crash)। এই উত্থান-পতন মানুষের মেজাজ বা মুডকে খিটখিটে করে তোলে এবং দীর্ঘমেয়াদে অবসাদ বাড়ায়।
২. রিফাইনড বা সাদা আটা-ময়দা (Refined Carbs)
সাদা পাস্তা, সাদা পাউরুটি বা ময়দার তৈরি লুচি-পরোটা শরীরে প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন তৈরি করে। গবেষণায় দেখা গেছে, রিফাইনড কার্বোহাইড্রেট বেশি খেলে রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা বেড়ে যায়, যা অবসাদের লক্ষণগুলোকে আরও প্রকট করে তোলে।
৩. অতিরিক্ত ক্যাফেইন (চা ও কফি)
{{/usCountry}}সাদা পাস্তা, সাদা পাউরুটি বা ময়দার তৈরি লুচি-পরোটা শরীরে প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন তৈরি করে। গবেষণায় দেখা গেছে, রিফাইনড কার্বোহাইড্রেট বেশি খেলে রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা বেড়ে যায়, যা অবসাদের লক্ষণগুলোকে আরও প্রকট করে তোলে।
৩. অতিরিক্ত ক্যাফেইন (চা ও কফি)
{{/usCountry}}শীতের ঠান্ডায় বারবার কফি খাওয়া অনেকেরই অভ্যাস। কিন্তু অতিরিক্ত ক্যাফেইন আপনার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় এবং স্নায়ুকে উত্তেজিত রাখে। ঘুমের অভাব সরাসরি বিষণ্ণতা এবং উদ্বেগের (Anxiety) সাথে যুক্ত। দিনে ২ কাপের বেশি কফি খেলে আপনার অস্থিরতা বাড়তে পারে।
৪. প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত খাবার (Processed Foods)
চিপস, ইনস্ট্যান্ট নুডলস বা হিমায়িত খাবারে প্রচুর পরিমাণে প্রিজারভেটিভ এবং সোডিয়াম থাকে। এগুলো মস্তিষ্কের রাসায়নিক ভারসাম্য বিঘ্নিত করে। বিশেষ করে 'ট্রান্স ফ্যাট' যুক্ত খাবার মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং মন খারাপের অনুভূতি বাড়িয়ে তোলে।
৫. কৃত্রিম মিষ্টিকারক (Artificial Sweeteners)
অনেকে ডায়েট করার জন্য চিনির বদলে কৃত্রিম সুইটেনার ব্যবহার করেন। এতে থাকা 'অ্যাসপার্টাম' নামক উপাদান মস্তিষ্কের ডোপামিন হরমোন তৈরিতে বাধা দেয়। ফলে আনন্দ বা খুশির অনুভূতি কমে গিয়ে মন বিষণ্ণ হয়ে পড়ে।
অবসাদ কাটাতে কী খাবেন?
- ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড: সামুদ্রিক মাছ, আখরোট এবং তিল মেজাজ ভালো রাখতে সাহায্য করে।
- ভিটামিন ডি: শীতের সকালে গায়ে রোদ লাগান এবং ডিমের কুসুম বা মাশরুম খান।
- ডার্ক চকোলেট: সামান্য পরিমাণে ডার্ক চকোলেট স্ট্রেস হরমোন কমাতে কার্যকর।
শীতের এই সময়ে শরীরের পাশাপাশি মনের যত্ন নেওয়াও জরুরি। আপনার থালায় কী থাকছে, তার ওপর নির্ভর করবে আপনার মনের আবহাওয়া। তাই অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলুন এবং মানসিকভাবে সতেজ থাকতে নিয়মিত হাঁটাহাঁটি ও পর্যাপ্ত জল পান করুন।