...
...
Next Story

Foods to avoid with tea: চায়ের আড্ডায় ডেকে আনছেন না তো বড় বিপদ? ভুলেও এই খাবারগুলো চায়ের সাথে খাবেন না

Foods to avoid with tea: বিশেষজ্ঞদের মতে, চায়ের মধ্যে থাকা ক্যাফেইন এবং ট্যানিন নামক উপাদানগুলো কিছু নির্দিষ্ট খাবারের সাথে মিশলে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটায়। এর ফলে খাবারের পুষ্টিগুণ তো নষ্ট হয়ই, উল্টে তা শরীরে বিষাক্ত উপাদান তৈরি করে।

Published on: Jun 04, 2026 03:58 PM IST
Advertisement

Foods to avoid with tea: সকাল হোক বা বিকেল, এক কাপ ধোঁয়া ওঠা গরম চা ছাড়া আমাদের বাঙালির দিনটা যেন পূর্ণতা পায় না। চায়ের আড্ডায় বা কাজের ফাঁকে অলসতা দূর করতে চায়ের জুড়ি মেলা ভার। তবে শুধু চা খাওয়া তো আর হয় না, চায়ের কাপে চুমুক দেওয়ার পাশাপাশি আমাদের অভ্যাস থাকে টা বা স্ন্যাক্স হিসেবে কিছু না কিছু মুখে দেওয়া। বিস্কুট, চানাচুর, সিঙাড়া, পকোড়া থেকে শুরু করে অনেক সময় চায়ের সাথে আমরা ভারী খাবারও খেয়ে ফেলি।

চায়ের আড্ডায় ডেকে আনছেন না তো বড় বিপদ? ভুলেও এই খাবারগুলো চায়ের সাথে খাবেন না
চায়ের আড্ডায় ডেকে আনছেন না তো বড় বিপদ? ভুলেও এই খাবারগুলো চায়ের সাথে খাবেন না

কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং পুষ্টিবিদদের সাম্প্রতিক গবেষণা এই অভ্যাস নিয়ে এক মারাত্মক সতর্কবার্তা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চায়ের মধ্যে থাকা ক্যাফেইন এবং ট্যানিন নামক উপাদানগুলো কিছু নির্দিষ্ট খাবারের সাথে মিশলে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটায়। এর ফলে খাবারের পুষ্টিগুণ তো নষ্ট হয়ই, উল্টে তা শরীরে বিষাক্ত উপাদান তৈরি করে। চায়ের সাথে কোন খাবারগুলো একদমই খাওয়া উচিত নয় এবং কেন, জেনে নিন।

চায়ের নিজস্ব কিছু ওষধি গুণ রয়েছে, যা শরীরের জন্য ভালো। কিন্তু ভুল খাবারের সংমিশ্রণ বা ফুড কম্বিনেশনের কারণে এই অমৃতই শরীরের জন্য বিষে পরিণত হতে পারে। নিচে এমন ৫টি খাবারের তালিকা দেওয়া হলো, যা চায়ের সাথে খাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক।

১. বেসন বা ময়দার তৈরি ভাজাভুজি (পকোড়া ও সিঙাড়া):

চায়ের সাথে গরম-গরম বেসনের পকোড়া বা সিঙাড়া খাওয়া এ দেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি কম্বিনেশন। বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে এর চেয়ে ভালো স্ন্যাক্স আর হয় না। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, বেসন বা ময়দা দিয়ে তৈরি ভাজা খাবার চায়ের সাথে খেলে পরিপাকতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি হয়। চায়ের ট্যানিন বেসনের পুষ্টি উপাদানকে শরীরে শোষণ হতে বাধা দেয়। এর ফলে খাবার ঠিকমতো হজম হতে পারে না, যা থেকে কোষ্ঠকাঠিন্য, তীব্র গ্যাস, পেট ফাঁপা এবং বুক জ্বালার মতো ক্রনিক অ্যাসিডিটির সমস্যা তৈরি হয়।

২. লেবু বা সাইট্রাস জাতীয় ফল:

বাঙালি রান্নায় হলুদ এক অপরিহার্য উপাদান। তবে চা খাওয়ার ঠিক আগে-পরে বা চায়ের সাথে অতিরিক্ত হলুদ রয়েছে এমন খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। হলুদের মধ্যে থাকা ‘কারকিউমিন’ এবং চায়ের ‘ক্যাফেইন’ একসঙ্গে মিশলে রাসায়নিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। এটি লিভার এবং পাকস্থলীর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, যার ফলে তীব্র বদহজম বা পেটের গোলমাল দেখা দিতে পারে।

৪. ঠান্ডা খাবার বা আইসক্রিম:

গরম চায়ের সাথে বা চা খাওয়ার পরপরই কোনো ঠান্ডা খাবার, যেমন—আইসক্রিম, ঠান্ডা জল বা কোল্ড ড্রিংকস খাওয়া একদমই উচিত নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, হঠাৎ করে শরীরের ভেতরের তাপমাত্রার এই তীব্র পরিবর্তন (গরমের পর ঠান্ডা) পরিপাক প্রক্রিয়াকে স্তব্ধ করে দেয়। এটি আমাদের পাচনতন্ত্রের পেশিগুলোকে দুর্বল করে এবং তীব্র বমি বমি ভাব বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা তৈরি করতে পারে।

৫. আয়রন সমৃদ্ধ খাবার (যেমন—সবুজ শাকসবজি বা ডিম):

ডিম বা সবুজ শাকে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে। কিন্তু আপনি যদি এগুলো চায়ের সাথে খান, তবে চায়ের মধ্যে থাকা ‘ট্যানিন’ এবং ‘অক্সালেট’ নামক উপাদানগুলো আয়রনকে শরীরের রক্তে মিশতে বাধা দেয়। ফলে খাবার থেকে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় না। যারা রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়ার সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের চা খাওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা আগে বা পরে আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত।

তাহলে চায়ের সাথে কী খাওয়া নিরাপদ?

চায়ের স্বাদ উপভোগ করতে চাইলে ভারী বা অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার বাদ দিন। চায়ের সাথে সামান্য শুকনো মুড়ি, মাখনা ড্রাই রোস্ট করে অথবা ২-৩টি ভেজানো কাঠবাদাম খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ।

খাবারের অভ্যাস আমাদের স্বাস্থ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। চায়ের কাপে চুমুক দেওয়ার আনন্দ যেন আপনার অসুস্থতার কারণ না হয়ে দাঁড়ায়। তাই আজ থেকেই চায়ের সাথে এই ভুল খাবারগুলো খাওয়ার অভ্যাস বর্জন করুন এবং নিজেকে সুস্থ ও ফিট রাখুন।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON