...
...
Next Story

চায়ের সঙ্গে ভুলেও খাচ্ছেন না তো এই খাবারগুলো? অজান্তেই ডেকে আনবেন পেটের মারাত্মক ক্ষতি

চিকিৎসাবিজ্ঞান ও পুষ্টিবিদদের মতে, চায়ে থাকা বিশেষ কিছু রাসায়নিক উপাদান (যেমন—ট্যানিন ও ক্যাফেইন) নির্দিষ্ট কিছু খাবারের সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া তৈরি করে। এর ফলে পেটে গ্যাস, তীব্র অ্যাসিডিটি, বদহজম এবং পুষ্টি উপাদান শোষণে জটিল বাধা সৃষ্টি হয়।

Published on: Aug 12, 2026, 09:03:06 IST
Advertisement

সকালের ঘুম ভাঙা থেকে শুরু করে বিকেলের আড্ডা কিংবা অফিসের কাজের ক্লান্তি মেটাতে এক কাপ গরম চা যেন বাঙালির নিত্যদিনের সঙ্গী। চায় বা চায়ের চুমুকে আড্ডা জমাতে আমরা প্রায়শই সঙ্গে নানা রকম নোনতা বা মিষ্টি খাবার খেয়ে থাকি। চায়ের সঙ্গে তেলেভাজা সিঙাড়া, পকোড়া, বিস্কুট বা চানাচুর খাওয়া আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে আপনি কি জানেন, কিছু নির্দিষ্ট খাবার চায়ের সঙ্গে পান করলে তা মানবদেহের পরিপাকতন্ত্র ও পুষ্টি শোষণে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে?

চায়ের সঙ্গে ভুলেও খাচ্ছেন না তো এই খাবারগুলো? নাহলে অজান্তেই ডেকে আনবেন ক্ষতি
চায়ের সঙ্গে ভুলেও খাচ্ছেন না তো এই খাবারগুলো? নাহলে অজান্তেই ডেকে আনবেন ক্ষতি

চিকিৎসাবিজ্ঞান ও পুষ্টিবিদদের মতে, চায়ে থাকা বিশেষ কিছু রাসায়নিক উপাদান (যেমন—ট্যানিন ও ক্যাফেইন) নির্দিষ্ট কিছু খাবারের সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া তৈরি করে। এর ফলে পেটে গ্যাস, তীব্র অ্যাসিডিটি, বদহজম এবং পুষ্টি উপাদান শোষণে জটিল বাধা সৃষ্টি হয়। চায়ের সঙ্গে ভুলভুলেও কোন কোন খাবার খাওয়া উচিত নয়, তা নিয়ে একটি বিস্তৃত পুষ্টি ও স্বাস্থ্য প্রতিবেদন নিচে তুলে ধরা হলো।

১. চায়ের সঙ্গে যেসব খাবার খাওয়া একেবারেই ক্ষতিকর

ক) বেসন দিয়ে তৈরি খাবার (Pakora or Besan Snacks):

চায়ের সাথে তাজা গরম পকোড়া, বেগুনি বা সিঙাড়া খাওয়া বাঙালির অত্যন্ত প্রিয় একটি চেনা জুটি। কিন্তু বেসন এবং চা একসাথে পেটে গেলে হজমপ্রক্রিয়া আশঙ্কাজনকভাবে ধীর হয়ে যায়। এর ফলে মুহূর্তের মধ্যে তীব্র পেটে গ্যাস, পেট ফাঁপা এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

খ) আয়রন বা লোহা সমৃদ্ধ খাবার (Iron-rich Foods):

গ) সাইট্রাস ফল বা লেবুজাতীয় উপাদান (Citrus Fruits):

অনেকেরই চায়ের সাথে বা চায়ের পরপরই কমলালেবু, আপেল কিংবা লেবুজাতীয় খাবার খাওয়ার অভ্যাস থাকে। চায়ের ক্যাফেইনের সাথে লেবুর সাইট্রিক অ্যাসিডের মিশ্রণ পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অম্ল বা অ্যাসিড তৈরি করে। এতে তীব্র বুক জ্বালা এবং পেটে অস্বস্তি দেখা দেয়।

ঘ) ঠান্ডা খাবার বা আইসক্রিম (Cold Foods or Ice Cream):

গরম চা পান করার পরপরই কোনো ঠান্ডা পানীয়, ঠান্ডা জল বা আইসক্রিম খাওয়া একদম উচিত নয়। পরিপাকতন্ত্রে হঠাৎ তাপমাত্রার চরম তারতম্য ঘটে। এটি পরিপাক ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয় এবং গা গোলানো বা বমির ভাব তৈরি করতে পারে।

ঙ) অতিরিক্ত হলুদযুক্ত খাবার (Turmeric-rich Foods):

যেসব খাবারে হলুদের পরিমাণ বেশি থাকে, তা চায়ের সাথে খেলে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে। কারণ চায়ের কেমিক্যাল ও হলুদের কারকিউমিন একসাথে মিশে পেটে অম্লতা ও গ্যাস্ট্রিকের সৃষ্টি করে।

চ) দুগ্ধজাত বা চিজযুক্ত খাবার (Cheese and Dairy Products):

কড়া লিকার বা লাল চায়ের সাথে চিজ বা দুধজাতীয় খাবার খেলে চায়ের ক্যাফেইন চিজের প্রোটিন শোষণে বাধা দেয়। এটি হজমে মারাত্মক গণ্ডগোল পাকাতে পারে।

২. চায়ের স্বাস্থ্যকর বিকল্প ও পানের সঠিক নিয়ম

  • হালকা ও সহজপাচ্য স্ন্যাকস: চায়ের সাথে বেসনের তেলে ভাজার বদলে ড্রাই ফ্রুটস (যেমন—ভেজানো কাঠবাদাম), হালকা মুড়ি বা কম চিনির বিস্কুট খেতে পারেন।
  • খাবার ও চায়ের সময়ের ব্যবধান: মূল খাবার (দুপুর বা রাতের খাবার) খাওয়ার অন্তত ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা পর চা পান করা উচিত, যাতে খাবারের পুষ্টিগুণ শরীর ঠিকমতো গ্রহণ করতে পারে।

চা পানের আনন্দ বজায় রেখে সুস্থ থাকতে কেবল সামান্য সচেতনতাই যথেষ্ট। ক্ষতিকর খাবারের সংযোজন এড়িয়ে সঠিক নিয়ম মেনে চা পান করলে শরীর থাকবে রোগমুক্ত ও সতেজ।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON