ব্যস্ততাময় আধুনিক জীবনযাত্রায় রান্নাবান্না ও খাবার ঝটপট গরম করার ক্ষেত্রে মাইক্রোওয়েভ ওভেন (Microwave Oven) আমাদের রান্নাঘরের অন্যতম বিশ্বস্ত সঙ্গী। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ঠাণ্ডা খাবার ধোঁয়া ওঠা গরম করে পরিবেশন করতে এর জুড়ি মেলা ভার। তবে মাইক্রোওয়েভ যতটাই সুবিধাজনক হোক না কেন, এতে সব ধরণের খাবার গরম করা একদমই নিরাপদ নয়।

বিজ্ঞান ও পুষ্টিবিদদের মতে, কিছু নির্দিষ্ট খাবার মাইক্রোওয়েভে গরম করলে সেগুলোর পুষ্টিগুণ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়, ক্ষতিকর বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান তৈরি হয় এবং ক্ষেত্রবিশেষে তা মারাত্মক পেটের রোগ বা পেটের বিষক্রিয়ার (Food Poisoning) কারণ হতে পারে। নিয়মিত মাইক্রোওয়েভ ব্যবহার করার আগে কোন কোন খাবার ভুল করেও গরম করবেন না, জেনে নিন।
মাইক্রোওয়েভ ওভেন মূলত ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গের মাধ্যমে খাবারের জলের অণুকে দ্রুত কম্পিত করে তাপ উৎপন্ন করে। কিন্তু বেশ কিছু খাবারের কোষীয় গঠন এই প্রক্রিয়ায় বিকৃত হয়ে পড়ে বা সমানভাবে উত্তপ্ত হতে পারে না।
১. আস্ত ডিম বা সেদ্ধ ডিম (Boiled Eggs)
আস্ত কাঁচা কিংবা সেদ্ধ ডিম কখনোই মাইক্রোওয়েভে গরম করা উচিত নয়। ডিমের শক্ত খোসা বা সেদ্ধ ডিমের ভেতরের সাদা অংশ মাইক্রোওয়েভের অতিরিক্ত বাষ্প ও তাপ আটকে রাখে। ফলে ডিমের ভেতরে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয় এবং মাইক্রোওয়েভ থেকে বের করার সময় বা কামড় দেওয়ার সাথে সাথে ডিমটি মারাত্মক শব্দে বিস্ফোরিত (Explode) হতে পারে, যা ত্বক বা চোখের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।
২. মুরগির মাংস বা চিকেন (Chicken)
মুরগির মাংসে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে। মাইক্রোওয়েভে মুরগির মাংস পুনরায় গরম করলে প্রোটিনের গঠন বা কম্পোজিশন পুরোপুরি বদলে যায়। অতিরিক্ত তাপের কারণে মাংসের ভেতরের প্রোটিন ঠিকমতো ভাঙে না, যা হজম করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। এ ছাড়া মাইক্রোওয়েভে সমানভাবে তাপ ছড়ায় না বলে কাঁচা বা আধসেদ্ধ অংশে 'সালমোনেলা' (Salmonella) ব্যাকটেরিয়া জীবিত থেকে যেতে পারে, যা পেটের তীব্র ইনফেকশন সৃষ্টি করে।
৩. প্রসেসড বা প্যাকেটজাত মাংস (Processed Meats)
{{/usCountry}}মুরগির মাংসে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে। মাইক্রোওয়েভে মুরগির মাংস পুনরায় গরম করলে প্রোটিনের গঠন বা কম্পোজিশন পুরোপুরি বদলে যায়। অতিরিক্ত তাপের কারণে মাংসের ভেতরের প্রোটিন ঠিকমতো ভাঙে না, যা হজম করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। এ ছাড়া মাইক্রোওয়েভে সমানভাবে তাপ ছড়ায় না বলে কাঁচা বা আধসেদ্ধ অংশে 'সালমোনেলা' (Salmonella) ব্যাকটেরিয়া জীবিত থেকে যেতে পারে, যা পেটের তীব্র ইনফেকশন সৃষ্টি করে।
৩. প্রসেসড বা প্যাকেটজাত মাংস (Processed Meats)
{{/usCountry}}সসেজ, বেকন, পেপারনি বা সালামির মতো প্রসেসড মাংসে খাবার দীর্ঘকাল সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন কেমিক্যাল ও প্রিজারভেটিভস ব্যবহার করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এগুলো মাইক্রোওয়েভে গরম করলে 'কোলেস্টেরল অক্সিডেশন প্রোডাক্টস' (COPs) তৈরি হয়, যা হৃদরোগ এবং ধমনীর মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।
৪. রান্না করা ভাত (Reheated Rice)
শুনে অবাক লাগলেও রান্না করা বা বাসি ভাত মাইক্রোওয়েভে গরম করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। কাঁচা চালে ‘ব্যাসিলাস সিরিয়াস’ (Bacillus cereus) নামক ব্যাকটেরিয়ার স্পোর থাকে, যা ভাত রান্না করার পরও বেঁচে থাকতে পারে। ঘরে সাধারণ তাপমাত্রায় রাখা বাসি ভাত যখন মাইক্রোওয়েভে গরম করা হয়, তখন তাপ সব জায়গায় সমানভাবে না পৌঁছালে সেই ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে এবং বিষাক্ত উপাদান (Toxins) তৈরি করে, যার ফলে ডায়রিয়া ও বমি হতে পারে।
৫. পালং শাক ও নাইট্রেট সমৃদ্ধ সবজি (Spinach and Leafy Greens)
পালং শাক, বিট, সেলারি ও গাজরে উচ্চ মাত্রায় প্রাকৃতিক ‘নাইট্রেট’ থাকে। মাইক্রোওয়েভে এই সবজিগুলো পুনরায় গরম করলে নাইট্রেট রূপ বদলে ‘নাইট্রোসামাইন’ (Nitrosamines)-এ পরিণত হতে পারে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে ক্যানসার সৃষ্টিকারী বা কার্সিনোজেনিক উপাদান হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়া পালং শাক গরম করলে এর আয়রন পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়।
৬. শিশুদের ফরমুলা মিল্ক (Infant Formula)
শিশুর দুধ কখনোই মাইক্রোওয়েভে গরম করা ঠিক নয়। প্রথমত, এতে দুধের প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডি ও পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়। দ্বিতীয়ত, দুধের পাত্রের ভেতরের তাপমাত্রা সব জায়গায় একরকম থাকে না; ফলে পাত্র বাইরে থেকে হালকা গরম মনে হলেও ভেতরে দুধের কিছু অংশ অতিরিক্ত ফুটন্ত গরম (Hot Spots) হয়ে থেকে যেতে পারে, যা শিশুর সংবেদনশীল মুখ ও গলা পুড়িয়ে দিতে পারে।
৭. কাঁচা লঙ্কা বা ক্যাপসিকাম (Chili Peppers)
কাঁচা লঙ্কায় ‘ক্যাপসাইসিন’ (Capsaicin) নামক উপাদান থাকে, যা ঝালের জন্য দায়ী। মাইক্রোওয়েভে লঙ্কা গরম করলে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ক্যাফসাইসিন বাষ্পীভূত হয়ে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। ওভেনের দরজা খোলার সাথে সাথেই সেই ঝাঁজালো বাষ্প চোখে-মুখে লেগে চোখ জ্বালা এবং শ্বাসকষ্টের সৃষ্টি করতে পারে।