...
...
Next Story

টেনশন হলেই মূত্রের বেগ আসে? কাদের এই সমস্যা বেশি হয়? কীভাবে সামলাবেন এটি

মনের উপর চাপ বাড়লে মূত্রত্যাগের প্রবণতা বাড়ে অনেকের ক্ষেত্রেই। এটি কি কোনও রোগের লক্ষণ? জেনে নিন।

Published on: Dec 14, 2025 09:57 AM IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

অনেক মানুষের মধ্যে একটি সাধারণ প্রবণতা দেখা যায়—যখন তারা কোনো মানসিক চাপ, উদ্বেগ (Anxiety), বা উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে থাকেন, তখন স্বাভাবিকের চেয়ে ঘন ঘন মূত্রত্যাগের (Frequent Urination) প্রয়োজন হয়। এই সমস্যাটিকে ইংরেজিতে স্ট্রেস-ইনডিউসড ফ্রিকোয়েন্সি (Stress-Induced Frequency) বলা হয়। যদিও এটি খুব গুরুতর কোনো রোগ নয়, তবে এটি দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বেশ অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে।

টেনশন হলেই মূত্রের বেগ আসে? কাদের এই সমস্যা বেশি হয়? কীভাবে সামলাবেন এটি
টেনশন হলেই মূত্রের বেগ আসে? কাদের এই সমস্যা বেশি হয়? কীভাবে সামলাবেন এটি

টেনশন বা উদ্বেগ বাড়লে মূত্রত্যাগের প্রবণতা বাড়ার কারণ, কীভাবে এটি কমাবেন এবং কোন ধরনের খাবার এড়িয়ে চলবেন, জেনে নিন।

১. টেনশন হলেই কেন মূত্রত্যাগের প্রবণতা বাড়ে? (বৈজ্ঞানিক কারণ)

এই সমস্যার মূল কারণ হলো মস্তিষ্ক এবং মূত্রাশয়ের মধ্যে সংযোগকারী স্নায়ুতন্ত্রের ওপর মানসিক চাপের প্রভাব।

ক. 'লড়াই বা পালানো' প্রতিক্রিয়া (Fight or Flight Response)

  • যখন আমরা উদ্বিগ্ন হই বা ভয় পাই, তখন আমাদের শরীর স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র (Autonomic Nervous System)-এর মাধ্যমে 'লড়াই বা পালানো' (Fight or Flight) প্রতিক্রিয়া সক্রিয় করে।
  • এই প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে অ্যাড্রেনালিন (Adrenaline) হরমোন দ্রুত নিঃসৃত হয়। অ্যাড্রেনালিন মস্তিষ্ককে নির্দেশ দেয় যে শরীরের অপ্রয়োজনীয় কাজগুলি থেকে মনোযোগ সরিয়ে জরুরি কাজগুলিতে মনোযোগ দিতে হবে।

খ. মূত্রাশয়ের পেশীর সংকোচন

  • স্ট্রেস হরমোনগুলি মূত্রাশয়ের পেশীগুলিকে (Bladder Muscles) সংকুচিত করে তুলতে পারে। এর ফলে সামান্য প্রস্রাব থাকলেও মস্তিষ্ককে পূর্ণ মূত্রাশয়ের সংকেত পাঠায়, যার কারণে ঘন ঘন বাথরুমে যেতে হয়।
  • এছাড়াও, অ্যাড্রেনালিন হৃৎপিণ্ডের গতি বাড়ায়, যা কিডনি ও রক্তনালীতে রক্ত প্রবাহ বাড়িয়ে দেয়, ফলে কিডনি দ্রুত প্রস্রাব তৈরি করতে শুরু করে।

ঘন ঘন মূত্রত্যাগের সমস্যা কমাতে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং মূত্রাশয়ের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।

  • স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট: যোগা, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম (Deep Breathing), এবং মেডিটেশন উদ্বেগ কমাতে অত্যন্ত কার্যকর। নিয়মিত অভ্যাস করলে স্নায়ুতন্ত্র শান্ত হয়।
  • মূত্রাশয় প্রশিক্ষণ (Bladder Training): ধীরে ধীরে প্রস্রাব করার সময় বাড়ানোর চেষ্টা করুন। প্রথমে প্রতি ৩০ মিনিট পর বাথরুমে যান, তারপর সেটা ৪৫ মিনিট এবং ১ ঘণ্টা করুন। এতে মূত্রাশয় দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্রাব ধরে রাখতে অভ্যস্ত হবে।
  • কেগেল ব্যায়াম (Kegel Exercises): পেলভিক ফ্লোর পেশী শক্তিশালী করার জন্য কেগেল ব্যায়াম নিয়মিত করা উচিত। এটি মূত্রাশয়ের নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে সাহায্য করে।

৩. কোন ধরনের খাবার থেকে দূরে থাকবেন? (ডায়েটরি সতর্কতা)

কিছু পানীয় এবং খাবার মূত্রাশয়কে উদ্দীপিত করে এবং ঘন ঘন প্রস্রাবের প্রবণতা বাড়ায়। টেনশনজনিত সমস্যায় এই খাবারগুলি এড়িয়ে চলা উচিত:

  • ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়: কফি, চা (বিশেষ করে গ্রিন টি) এবং কোমল পানীয় (Sodas) প্রাকৃতিক মূত্রবর্ধক (Diuretics) হিসেবে কাজ করে। এগুলি প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।
  • অ্যালকোহল: অ্যালকোহল একটি শক্তিশালী মূত্রবর্ধক। এটি যত বেশি পরিমাণে পান করা হবে, তত ঘন ঘন বাথরুমে যাওয়ার প্রয়োজন হবে।
  • কৃত্রিম মিষ্টি (Artificial Sweeteners): কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে কৃত্রিম মিষ্টি মূত্রাশয়ের দেয়ালকে বিরক্ত করে সংবেদনশীলতা বাড়াতে পারে।
  • অম্লযুক্ত খাবার: টমেটো, টমেটো সস এবং সাইট্রাস ফল (কমলা, লেবু) মূত্রাশয়কে উত্তেজিত করতে পারে, বিশেষ করে যদি মূত্রাশয়ের সংবেদনশীলতা বেশি থাকে।

টেনশন বা উদ্বেগজনিত কারণে ঘন ঘন মূত্রত্যাগ একটি মনস্তাত্ত্বিক-শারীরিক প্রতিক্রিয়া। এই সমস্যা কমাতে জীবনযাত্রার পরিবর্তন, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং মূত্রাশয়কে উদ্দীপিত করে এমন খাবার এড়িয়ে চলা জরুরি।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON