Gabriel Attal: সমকামী বলেন নিজেকে, মাত্র ৩৪-এই ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী গ্যাব্রিয়েল! কোন রহস্যে?
Gabriel Attal France 1st Gay PM: নিজের সমকামী পরিচয় নিয়ে যথেষ্ট খোলামেলা। অতি অল্প বয়স থেকেই রাজনীতিসচেতন। মাত্র ৩৪ বছর বয়সেই ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী গ্যাব্রিয়েল। কোন রহস্যে?
মাত্র ৩৪ বছর বয়সে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী। তবে শুধু বয়সের দিক থেকে নয়, গ্যাব্রিয়েল অ্যাটাল নজির গড়েছেন আরও এক কারণে। তা হল তাঁর যৌনপছন্দের অভিমুখ নিয়ে স্বীকারোক্তি। ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর গ্যাব্রিয়েল অ্যাটাল বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন ইতিহাস তৈরি করেন। তিনি একদিকে যেমন আধুনিক ফ্রান্সের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী, অন্যদিকে প্রথম সেই দেশের প্রকাশ্য সমকামী প্রধানমন্ত্রী। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর এই সাহসী নিয়োগ ফ্রান্সে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়।

কে এই গ্যাব্রিয়েল অ্যাটাল?
প্যারিসের এক ধনী পরিবারে ১৯৮৯ সালে জন্ম। অ্যাটাল অল্প বয়স থেকেই রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। সোশালিস্ট পার্টির মাধ্যমে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু। পরে ২০১৭ সালে ম্যাক্রোঁর 'লা রিপাবলিক এন মার্চ' (বর্তমানে রেনেসাঁ) দলে যোগ দেন।
রাজনীতিতে দ্রুত ও চমকপ্রদ উত্থান
মাত্র ২৯ বছর বয়সে তিনি জাতীয় শিক্ষা ও যুব মন্ত্রীর কনিষ্ঠ প্রতিমন্ত্রী হন। ফ্রান্সের পঞ্চম প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে সরকারের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য ছিলেন তিনিই। কোভিডের সময় ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সরকারের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। কোভিড-১৯ মহামারীর কঠিন সময়ে সরকারি তথ্য কার্যকরভাবে জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে দিতেই দ্রুত একজন জনপ্রিয় ও পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। ২০২৩ সালের জুলাই মাসে শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন। এই পদে থাকাকালীন স্কুলগুলিতে মুসলিমদের আবায়া (Abaya) পোশাক নিষিদ্ধ করে রক্ষণশীল ভোটারদের মধ্যে বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করেন।
আরও পড়ুন - HT Bangla Exclusive: জেমিমা বলেছিলেন 'অ্যাংজাইটি'র কথা…সামাল দেওয়ার উপায় কী? HT বাংলায় জানালেন মনোবিদ
আরও পড়ুন - ডিম খেলে কি হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে? দিনে কতগুলি ডিম খাওয়া নিরাপদ
কেন তাঁকেই প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করা হল?
বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী এলিজাবেথ বর্নের পদত্যাগের পর অ্যাটালের নিয়োগ ম্যাক্রোঁর তরফে একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত। জনমত বোঝার ব্যাপারে অ্যাটাল ফ্রান্সের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ। ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে দেশের সামগ্রিক ভাবমূর্তি ও ম্যাক্রোঁর মধ্যপন্থী দলের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর জন্যই তাঁকে প্রধানমন্ত্রী পদে বসানো হয়। সমালোচকদের কেউ কেউ এটিকে 'ম্যাক্রোঁর নিজস্ব ক্লোন' বলেন। তবে তারুণ্য, স্পষ্টবাদিতা এবং মিডিয়া সচেতনতা দিক থেকে গ্যাব্রিয়েল অ্যাটাল ফ্রান্সের রাজনীতিতে এক নতুন ধারার সূচনা করেছেন। তাঁর নিয়োগ শুধু ফ্রান্সের জন্য নয়, বরং বিশ্বজুড়ে এলবিজিটিকিউ সম্প্রদায়ের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী বিজয়।
E-Paper

