...
...
Next Story

ঘি নাকি মাখন, কোনটি রোজ খাওয়া যেতে পারে? কোনটি বেশি উপকারি, জানেন কি

প্রতিদিনের ডায়েটে ঘি নাকি মাখন, কোনটি রাখা বেশি নিরাপদ? দুটোরই উৎস দুধ হলেও এদের পুষ্টিগুণ এবং শরীরের ওপর প্রভাব কিন্তু একেবারেই আলাদা।

Published on: Jan 20, 2026 09:09 AM IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

গরম ভাতে এক চামচ ঘি আর টোস্ট বিস্কুটে মাখনের প্রলেপ—দুটোই আমাদের খাদ্যতালিকায় বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু স্বাস্থ্য সচেতনদের মনে প্রায়ই একটি প্রশ্ন উঁকি দেয়, প্রতিদিনের ডায়েটে ঘি নাকি মাখন, কোনটি রাখা বেশি নিরাপদ? দুটোরই উৎস দুধ হলেও এদের পুষ্টিগুণ এবং শরীরের ওপর প্রভাব কিন্তু একেবারেই আলাদা।

ঘি নাকি মাখন, কোনটি রোজ খাওয়া যেতে পারে? কোনটি বেশি উপকারি, জানেন কি
ঘি নাকি মাখন, কোনটি রোজ খাওয়া যেতে পারে? কোনটি বেশি উপকারি, জানেন কি

২০২৬-এর আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানের নিরিখে ঘি ও মাখনের কোনটি কেমন, জেনে নিন।

ঘি বনাম মাখন: পুষ্টির লড়াইয়ে কে এগিয়ে?

ঘি এবং মাখনের মূল পার্থক্যের জায়গাটি হলো এদের প্রস্তুতি প্রণালী এবং উপাদানের ঘনত্ব।

১. ল্যাকটোজ এবং ক্যাসিন মুক্ত ঘি

মাখন গরম করে তার জলীয় অংশ এবং দুধের কঠিন অংশ (Milk solids) বের করে দিয়ে ঘি তৈরি করা হয়। ফলে ঘিতে ল্যাকটোজ (Lactose) এবং ক্যাসিন (Casein) থাকে না। যাদের দুগ্ধজাত পণ্যে অ্যালার্জি বা ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স আছে, তাদের জন্য ঘিয়ের চেয়ে নিরাপদ আর কিছু নেই। অন্যদিকে মাখনে সামান্য পরিমাণে ল্যাকটোজ থেকে যায়।

২. স্মোক পয়েন্ট (Smoke Point)

রান্নার ক্ষেত্রে ঘি অনেক বেশি নিরাপদ। ঘি-এর স্মোক পয়েন্ট অনেক বেশি (প্রায় ২৫০°C), যার অর্থ উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করলেও ঘি সহজে বিষাক্ত ধোঁয়া তৈরি করে না। কিন্তু মাখনের স্মোক পয়েন্ট কম (১৫০°C), তাই কড়াইতে মাখন দিলে তা দ্রুত পুড়ে কালো হয়ে যায় এবং ক্ষতিকর ফ্রি-র‍্যাডিক্যাল তৈরি করতে পারে।

ঘিতে রয়েছে 'বিউটাইরিক অ্যাসিড' (Butyric acid), যা অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং হজম শক্তি বাড়ায়। আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুযায়ী, ঘি শরীরের অগ্নি বা মেটাবলিজম বাড়াতে সাহায্য করে। মাখনও এনার্জি দেয়, তবে এতে থাকা ফ্যাটি অ্যাসিড সরাসরি চর্বি হিসেবে জমার প্রবণতা একটু বেশি থাকে।

৪. ভিটামিনের ভাণ্ডার

ঘি-তে ভিটামিন A, D, E এবং K-এর মতো ফ্যাটে দ্রবণীয় ভিটামিন প্রচুর থাকে, যা ত্বকের উজ্জ্বলতা এবং হাড়ের মজবুতি বজায় রাখে। মাখনেও এই ভিটামিনগুলো আছে, তবে জলীয় অংশ থাকায় এর ঘনত্ব কম।

কোনটি রোজ খাওয়া যেতে পারে?

উত্তরটি নির্ভর করছে আপনার জীবনযাত্রার ওপর:

  • ওজন কমাতে চাইলে: অবিশ্বাস্য মনে হলেও, পরিমিত ঘি ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে কারণ এটি শরীরের জমে থাকা ফ্যাট পোড়াতে সাহায্য করে। তবে মাখনে নুন (Salted Butter) থাকায় তা শরীরে জল জমিয়ে ওজন বাড়াতে পারে।
  • হৃদরোগের ঝুঁকি থাকলে: যদি আপনার কোলেস্টেরল বেশি থাকে, তবে ঘি বা মাখন দুটোই খুব সামান্য পরিমাণে খাওয়া উচিত। তবে সরাসরি মাখনের চেয়ে রান্নায় ঘি ব্যবহার করা তুলনামূলক শ্রেয়।
  • সাধারণ সুস্থ মানুষের জন্য: প্রতিদিন ১-২ চা চামচ ঘি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। মাখন মাঝেমধ্যে জলখাবারে খাওয়া যেতে পারে, তবে রোজকার রান্নায় ঘি-ই শ্রেষ্ঠ।

শুদ্ধতা এবং পুষ্টির নিরিখে ঘি মাখনের চেয়ে কয়েক ধাপ এগিয়ে। তবে মনে রাখবেন, সেটি যেন বাড়ির তৈরি বা খাঁটি গাওয়া ঘি হয়। বাজারের ডালডা বা ভেজাল মিশ্রিত ঘি শরীরের উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করবে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON