দাঁত শুধু খাবার চিবনোর কাজেই সাহায্য করে না, সৌন্দর্যও বজায় রাখে। কিন্তু অনেক সময় ব্রাশ করার সময় মাড়ি থেকে রক্ত পড়ার মতো সমস্যার সম্মুখীন হন অনেকেই। যার প্রধান কারণ হল মুখের স্বাস্থ্যের প্রতি অবহেলা। প্রকৃতপক্ষে, মাড়ির প্রদাহের একটি লক্ষণ হল মাড়ি থেকে রক্তপাত। যার কারণে মানুষ দাঁতে ব্যথা, নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ, দাঁতে সংবেদনশীলতার মতো নানা ধরনের সমস্যা অনুভব করতে থাকে। আপনিও যদি এই একই ধরনের সমস্যায় ভুগে থাকেন, তাহলে আসুন জেনে নেই কীভাবে কিছু ঘরোয়া উপায়ে মাড়ির সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।
মাড়ি ফুলে যায় কেন?

মাড়ি ফুলে যাওয়ার পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে, যাকে ইংরেজিতে গাম ডিজিজ (Gum disease)-ও বলা হয়। ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ, ছত্রাক সংক্রমণ, পুষ্টির ঘাটতি, গর্ভাবস্থা, ভিটামিন-সি-এর ঘাটতি বা দাঁতে খাবার আটকে থাকা মাড়ি ফুলে যাওয়ার প্রধান কারণ। এমনকী সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা না পেলেও এটি মুখের স্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
মাড়ির সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে এই ঘরোয়া উপায়গুলি মেনে চলুন-
- ইউক্যালিপটাস অয়েল: ইউক্যালিপটাসের তেল হল মাড়ির প্রদাহ কমায়, জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে, যা দুর্বল মাড়িকে ঠিক করতে সাহায্য করে এবং মাড়ির নতুন কোষ তৈরি করতেও সাহায্য করে।
- নুন: মুখের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে নুন জল খুবই উপকারী। নুুন জল দিয়ে গার্গেল করলে তা মুখের সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে, যা মাড়ি ফুলে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হয়।
- সরষের তেল: সরষের তেলে রয়েছে অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য। যা প্রদাহ উপশম করতে এবং মাড়ির ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। সরষের তেলে একটু নুন মিশিয়ে মাড়িতে লাগান। এই ট্রিটমেন্ট আপনি দিনে ৩-৪ বার করতে পারেন বারবার ব্যবহার করলে শীঘ্রই আপনি সংক্রমণ থেকে মুক্তি পাবেন।
- অ্যালোভেরা জেল: ঔষধি গুণে সমৃদ্ধ, অ্যালোভেরা জেল প্রকৃতিতে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল (Antibacterial) এবং অ্যান্টি-ফাঙ্গাল (Antifungal) হিসেবে কাজ করে। মাড়ির ফোলাভাব, মাড়ি থেকে রক্ত পড়া এবং মুখের সংক্রমণের মতো সমস্যা দূর করতে এটি সহায়ক।
- হলুদ: হলুদে কারকিউমিন অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে বলে জানা যায়। ২০১৫ সালের একটি গবেষণা অনুসারে, হলুদ মাড়ির প্রদাহ কমাতে কাজ করে।