একটি সিদ্ধান্তই পাল্টে দিতে পারে একটি পরিবারের ভবিষ্যত। মানিকতলার ঘোষ পরিবারের কাহিনি অনেকটা তেমনই। পরিবারের একমাত্র ছেলে ছিল ২৪ বছরের অনিকেত। বান্ধবীর সঙ্গে অশান্তির পর ২০২৪ সালের এক ঝড়জলের রাতে জীবনের চরম সিদ্ধান্ত নেয়। প্রবল ঝড় ওঠে বাবা-মায়ের জীবনেও। যাকে ঘিরে এত স্বপ্ন, এত কিছু, অকালেই ঝরে গেল সেই প্রাণ। প্রায় গোটা এক বছর নানা টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে গিয়েছিলেন ওই দম্পতি। শেষ পর্যন্ত তারা সিদ্ধান্ত নিলেন অনিকেতের স্মৃতিগুলি বাঁচিয়ে তোলার। সিদ্ধান্ত নিলেন পরবর্তী সন্তানের মধ্যে দিয়ে পৃথিবীতে তাঁকে ফিরিয়ে আনার। সম্প্রতি ২৩ অক্টোবর সেই দম্পতিরই কোল আলো করে এল তৃষিণ। সে যেন অনিকেতের দ্বিতীয় জন্ম। আর এই ভাঙা সংসারকে ফের সুন্দর স্বাভাবিক করে তোলার কাজে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেন মণিপাল হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ অভিনিবেশ চট্টোপাধ্যায়।
সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত

খোকন ও অনামিকার প্রথম সন্তান অনিকেতের জন্ম যখন হয়, তখন অনামিকার বয়স ছিল ২০। সদ্য তরুণীর অবস্থায় সহজ হলেও ৪৪ বছরের অনামিকার পক্ষে গর্ভধারণ করা ছিল কিছুটা কঠিন। মানসিকভাবে ভীষণ ভেঙে পড়েছিলেন অনামিকা। অবসাদগ্রস্ত অবস্থায় হঠাৎ ধরা পড়ে তাঁর জরায়ুর টিউমার। রক্তক্ষরণের সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যেতেই চিকিৎসক জানতে পারেন প্রথম সন্তান হারানোর কথা। এরপরই অনামিকার কাউন্সেলিং শুরু হয়। শেষমেশ সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ঘোষ দম্পতি।
গর্ভধারণে ছিল নানা জটিলতা
কিন্তু এর পরের প্রক্রিয়াও বেশ জটিল ছিল। বেশি বয়সে গর্ভধারণের কারণে একাধিক সমস্যা দেখা যায়। যার মধ্যে অন্যতম প্রিএকল্যাম্পসিয়া, উচ্চ রক্তচাপ, সুগারের সমস্যা। আইভিএফ পদ্ধতিতে গর্ভধারণের পর এই সব দিকেই কড়া নজর রাখা হয়েছিল। বাড়তি সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় প্লাসেন্টা প্রিভিয়া। তবে এই সব সমস্যাই একে একে অনামিকা কাটিয়ে ওঠেন চিকিৎসকের সহায়তায়। জন্ম হয় তৃষিণের।
কী বললেন চিকিৎসক
তৃষিণকে কোলে পাওয়ার পরেই অনামিকা-খোকনের অনুভূতি, যেন হারিয়ে যাওয়া সন্তানই ফিরে এল তাদের কোলে। অনিকেতের যেন দ্বিতীয় জন্ম হল তৃষিণের মধ্যে দিয়ে। চিকিৎসক অভিনেবেশর কথায়, ‘সবটা শোনার পর মনে হয়েছিল, আরেকটি সন্তানই দম্পতির জীবনে ফের আনন্দ ফিরিয়ে আনতে পারে। তাই অনামিকার বারবার কাউন্সেলিং করা হচ্ছিল।’ অন্যদিকে দ্বিতীয় পুত্রসন্তানকে কোলে নিয়ে তাই অনামিকা প্রথমেই বলেছিলেন, ‘কে বলে তুই হারিয়ে গিয়েছিস? আমার রনিই তো তৃষিণ হয়ে ফিরে এসেছে।’
{{/usCountry}}তৃষিণকে কোলে পাওয়ার পরেই অনামিকা-খোকনের অনুভূতি, যেন হারিয়ে যাওয়া সন্তানই ফিরে এল তাদের কোলে। অনিকেতের যেন দ্বিতীয় জন্ম হল তৃষিণের মধ্যে দিয়ে। চিকিৎসক অভিনেবেশর কথায়, ‘সবটা শোনার পর মনে হয়েছিল, আরেকটি সন্তানই দম্পতির জীবনে ফের আনন্দ ফিরিয়ে আনতে পারে। তাই অনামিকার বারবার কাউন্সেলিং করা হচ্ছিল।’ অন্যদিকে দ্বিতীয় পুত্রসন্তানকে কোলে নিয়ে তাই অনামিকা প্রথমেই বলেছিলেন, ‘কে বলে তুই হারিয়ে গিয়েছিস? আমার রনিই তো তৃষিণ হয়ে ফিরে এসেছে।’
{{/usCountry}}