কিডনি আমাদের দেহ পরিশ্রুত করার একটি ব্যবস্থা। যা প্রতিদিন দেহের বিষাক্ত পদার্থ ছেঁকে ফেলে, দেহের তরলের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। তবে, ডায়াবিটিস এবং উচ্চ রক্তচাপে (হাইপারটেনশন) আক্রান্ত মানুষদের কিডনি বেশি বিপদে থাকে। সম্প্রতি এই নিয়েই আলোচনা করলেন অজিতকুমার সিং (সিনিয়র কনসালটেন্ট, নেফ্রোলজি, মণিপাল হাসপাতাল, শিলিগুড়ি)
ডায়াবিটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের কেন ঝুঁকি বেশি

রক্তে অতিরিক্ত সুগার কিডনির সূক্ষ্ম রক্তনালীগুলিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। যার ফলে সেগুলি রক্ত পরিশ্রুত করার ক্ষমতা হারায়। অন্যদিকে, উচ্চ রক্তচাপ কিডনির রক্তনালী তন্ত্রের উপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে। যার ফলে দ্রুত ক্ষত তৈরি হয় এবং কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়। যখন এই দুটি অবস্থা একসাথে থাকে, তখন ঝুঁকি দ্বিগুণ হয়ে যায়।
প্রাথমিক শনাক্তকরণ গুরুত্বপূর্ণ
কিডনি রোগের একটি সমস্যা হলো এটি নীরবে বিকশিত হতে পারে। বেশিরভাগ মানুষের শরীরে লক্ষণ দেখা যায় না যতক্ষণ না প্রচুর ক্ষতি হয়ে যায়। এই কারণেই নিয়মিত স্ক্রিনিং গুরুত্বপূর্ণ। প্রোটিনের জন্য প্রস্রাব পরীক্ষা, কিডনির কার্যকারিতা অনুমান করতে ক্রিয়েটিনিনের () রক্ত পরীক্ষা, এবং আনুমানিক গ্লোমেরুলার পরিস্রাবণ হার (eGFR) গণনা করার মতো নিয়মিত পরীক্ষাগুলি প্রাথমিক পর্যায়ে সমস্যাগুলি সনাক্ত করতে পারে। eGFR হলো ক্রিয়েটিনিন স্তর, বয়স, লিঙ্গ এবং অন্যান্য কারণের উপর ভিত্তি করে তৈরি একটি সূত্র যা রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থগুলি অপসারণে কিডনি কতটা কার্যকর, তার একটি সঠিক চিত্র দেয়। এই পরীক্ষাগুলির পাশাপাশি রক্তে শর্করা এবং রক্তচাপ পর্যবেক্ষণ করলে সময়মতো হস্তক্ষেপ করা সম্ভব হয়, যা রোগের অগ্রগতিকে ধীর করে এবং ভবিষ্যতের জন্য কিডনির কার্যক্ষমতাকে রক্ষা করে।
প্রতিরক্ষার প্রথম স্তর হিসেবে জীবনধারা
কিডনি রোগ প্রতিরোধের জন্য জীবনধারা একটি মূল চাবিকাঠি। লবণ, পরিশোধিত শর্করা () এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার কম, এবং তাজা ফল, শাকসবজি, গোটা শস্য () এবং চর্বিহীন প্রোটিন বেশি—এমন খাদ্য কিডনি এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য উভয়কেই ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখলে কিডনির উপর চাপ কমে, আর হাঁটা, সাইকেল চালানো বা ন্যূনতম ৩০ মিনিটের মাঝারি ব্যায়ামের মতো নিয়মিত শরীরচর্চা রক্তে শর্করা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ উন্নত করে। ধূমপান না করা এবং অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন এড়িয়ে চলাও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ উভয়ই কিডনির রক্তনালী সহ অন্যান্য রক্তনালীগুলির ক্ষতিকে ত্বরান্বিত করতে পারে।
চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদী যত্ন
{{/usCountry}}কিডনি রোগ প্রতিরোধের জন্য জীবনধারা একটি মূল চাবিকাঠি। লবণ, পরিশোধিত শর্করা () এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার কম, এবং তাজা ফল, শাকসবজি, গোটা শস্য () এবং চর্বিহীন প্রোটিন বেশি—এমন খাদ্য কিডনি এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য উভয়কেই ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখলে কিডনির উপর চাপ কমে, আর হাঁটা, সাইকেল চালানো বা ন্যূনতম ৩০ মিনিটের মাঝারি ব্যায়ামের মতো নিয়মিত শরীরচর্চা রক্তে শর্করা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ উন্নত করে। ধূমপান না করা এবং অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন এড়িয়ে চলাও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ উভয়ই কিডনির রক্তনালী সহ অন্যান্য রক্তনালীগুলির ক্ষতিকে ত্বরান্বিত করতে পারে।
চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদী যত্ন
{{/usCountry}}যেসব ব্যক্তির ডায়াবিটিস বা উচ্চ রক্তচাপ ইতিমধ্যেই নির্ণীত হয়েছে, তাদের জন্য নির্ধারিত ঔষধ সেবন করা অপরিহার্য। কিছু ওষুধ শুধুমাত্র রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে না, কিডনিকেও রক্ষা করে। উদাহরণস্বরূপ, এসিই ইনহিবিটর বা এআরবি (অ্যাঞ্জিওটেনসিন রিসেপ্টর ব্লকার) প্রস্রাবে প্রোটিনের ক্ষরণ কমায়, যা কিডনি ক্ষতির একটি প্রাথমিক লক্ষণ। মুখে খাওয়ার ওষুধ, ইনসুলিন, বা নতুন ওষুধের মাধ্যমে রক্তে শর্করা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করলে তা দীর্ঘমেয়াদে কিডনির কার্যকারিতাকে রক্ষা করতে পারে। এছাড়াও, কিডনির উপর কাজের চাপ না বাড়াতে রোগীর চিকিৎসার অবস্থার উপর নির্ভর করে রক্তচাপকে সাধারণত ১৩০/৮০ mmHg বা তার কমের মতো অনুকূল স্তরে বজায় রাখতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের সাথে ঘন ঘন পরামর্শের মাধ্যমে চিকিৎসায় সময়মতো পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়, এবং নেফ্রোলজিস্ট, ডায়াবেটোলজিস্ট ও কার্ডিওলজিস্টদের দ্বারা সম্মিলিত যত্ন দীর্ঘমেয়াদী কিডনির স্বাস্থ্য নিশ্চিত করে।