ডান ফুসফুসের ভিতরকার সংক্রমণের সঙ্গে অনেকেই পরিচিত। কিন্তু ফুসফুসের উপর দিয়ে হওয়া সংক্রমণ? সম্প্রতি পাঁচ বছরের আর্য আক্রান্ত হয় এমন এক গুরুতর সমস্যায়। ফুসফুসের উপরিভাগ ও পাঁজরের নিচে পুঁজ জমে গিয়েছিল তার। পুঁজের পরিমাণ বাড়তে বাড়তে রীতিমতো শ্বাসকষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আলিপুয়ারদুয়ারের বাসিন্দাকে আর্যকে সেখানকার হাসপাতাল থেকেই রেফার করা হয়েছিল কলকাতার মণিপাল হাসপাতালে। সেখানেই চিকিৎসক সায়ন্তন ভৌমিক ও শুভাশিষ সাহার চেষ্টায় সুস্থ হয়ে উঠল একরত্তি।
ঠিক কী রোগে আক্রান্ত ছিল আর্য

চিকিৎসাবিজ্ঞানে আর্যর ফুসফুসের সমস্যাটি প্লুরাল এমপাইমা নামে পরিচিত। সাধারণত ফুসফুসের অধিকাংশ রোগ অঙ্গটির ভিতরেই ঘটে থাকে। কিন্তু প্লুরাল এমপাইমার প্রকৃতি কিছুটা আলাদা। এই রোগে ফুসফুসের উপরিভাগে পুঁজ জমতে থাকে। পুঁজ জমতে জমতে পরিস্থিতি এমন হয় যে ফুসফুস অক্সিজেন নিয়ে স্ফীত হতে পারে না। যার ফলে একসময় ফুসফুস কাজ করতে অক্ষম হয়ে পড়ে। ঠিক এই সমস্যাতেই ভুগছিল আর্য। শ্বাসকষ্টের গুরুতর সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তাঁকে দ্রুত ভিডিয়ো অ্যাসিস্টেড থোরাসিক সার্জারি করা হয়।
১০ দিন ভেন্টিলেশনে
তবে এর পরেও সমস্যা ছিল। ছোট্ট আর্যর ডান ফুসফুসে অস্ত্রোপচারের পরেও সম্পূর্ণ স্ফীত হচ্ছিল না। কারণ নিউমোথোরাক্স বা এয়ার লিকেজ। লিকেজের কারণে অক্সিজেন রক্তজালিকার মধ্যে দিয়ে রক্তে মেশার আগেই বেরিয়ে যায়। এর জন্য ১০ দিন মেকানিকাল ভেন্টিলেশনে রাখতে হয় শিশুকে। চিকিৎসক সৌমেন মিউর ও মণিদীপা দত্তের পর্যবেক্ষণে ভেন্টিলেশন পর্ব দ্রুত শেষ হয়। এয়ার লিকেজসহ অন্যান্য সমস্যার সমাধান হওয়ার পর ফের আগের মতো কাজ করতে শুরু করে ফুসফুসটি।
‘শিশুদের মধ্যে এম্পাইমা দ্রুত বাড়ে’
চিকিৎসক শুভাশিস সাহা বলেন, ‘শিশুদের মধ্যে এম্পাইমা দ্রুত বাড়তে পারে এবং সময়মতো চিকিৎসা না হলে তা প্রাণঘাতী হতে পারে। থোরাকোস্কোপিক সার্জারির সাহায্যে একদিকে যেমন দ্রুত অস্ত্রোপচার করা গিয়েছে। তেমনই সংক্রমণ দূর করা গিয়েছে দ্রুত।’
‘আর্যের ফুসফুস পুঁজে ভর্তি ছিল’
{{/usCountry}}চিকিৎসক শুভাশিস সাহা বলেন, ‘শিশুদের মধ্যে এম্পাইমা দ্রুত বাড়তে পারে এবং সময়মতো চিকিৎসা না হলে তা প্রাণঘাতী হতে পারে। থোরাকোস্কোপিক সার্জারির সাহায্যে একদিকে যেমন দ্রুত অস্ত্রোপচার করা গিয়েছে। তেমনই সংক্রমণ দূর করা গিয়েছে দ্রুত।’
‘আর্যের ফুসফুস পুঁজে ভর্তি ছিল’
{{/usCountry}}অন্যদিকে সায়ন্তন ভৌমিক বলেন, ‘যখন কোনও শিশু এমন গুরুতর ফুসফুসের সংক্রমণ নিয়ে আসে, তখন প্রতিটি মিনিট মূল্যবান। আর্যের ফুসফুস পুঁজে ভর্তি ছিল। ফলে তার পক্ষে শ্বাস নেওয়া খুব কঠিন হয়ে গিয়েছিল। অস্ত্রোপচারের সময় একদিকে যেমন অক্সিজেনের মাত্রার দিকে নজর রাখতে হয়েছে, তেমনই অন্যদিকে নতুন কোনও সংক্রমণ যাতে না হয়, সেদিকে নজর রাখতে হয়েছে। অস্ত্রোপচারের পরেও ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে আর্যকে স্বাভাবিক করা হয়।