...
...
Next Story

টয়লেটে ফোন ব্যবহার করছেন? অজান্তেই ডেকে আনছেন মারাত্মক বিপদ! জানুন চিকিৎসকদের ভয়াবহ সতর্কতা

টয়লেটে স্মার্টফোন ব্যবহারের অভ্যাসটি প্রথম দেখায় নির্দোষ মনে হলেও, এটি শরীরে নানা ধরণের সংক্রমণ এবং মারাত্মক ক্রনিক রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

Published on: Aug 1, 2026, 12:15:28 IST
Advertisement

স্মার্টফোন আমাদের আধুনিক দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার মুহূর্ত থেকে শুরু করে রাতে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত ফোন সর্বক্ষণ আমাদের হাতেই থাকে। এমনকি বাথরুম বা টয়লেটেও ফোন সাথে নিয়ে যাওয়ার একটি মারাত্মক অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন কোটি কোটি মানুষ। স্ক্রোলিং করা, সোশ্যাল মিডিয়া দেখা বা গেম খেলার ছলে টয়লেটের কমোডে অতিরিক্ত সময় কাটানো এখন অত্যন্ত সাধারণ দৃশ্য।

টয়লেটে ফোন ব্যবহার করছেন? অজান্তেই ডেকে আনছেন মারাত্মক বিপদ!
টয়লেটে ফোন ব্যবহার করছেন? অজান্তেই ডেকে আনছেন মারাত্মক বিপদ!

তবে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টয়লেটে ফোন ব্যবহার করার এই অভ্যাসটি কেবল সময়ের অপচয় নয়, বরং এটি আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। এটি কীভাবে আমাদের অজান্তেই শরীরের বড় ধরণের ক্ষতি করছে— জেনে নিন।

টয়লেটে স্মার্টফোন ব্যবহারের অভ্যাসটি প্রথম দেখায় নির্দোষ মনে হলেও, এটি শরীরে নানা ধরণের সংক্রমণ এবং মারাত্মক ক্রনিক রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

১. জীবাণু ও ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ডিপো

টয়লেট হলো ক্ষতিকর জীবাণু এবং ব্যাকটেরিয়ার অন্যতম বড় প্রজনন ক্ষেত্র। টয়লেট ফ্লাশ করার সময় ই-কোলাই (E. coli), সালমোনেলা (Salmonella), নরোভাইরাস এবং অন্যান্য ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বায়ুবাহিত হয়ে কয়েক ফুট দূরে ছড়িয়ে পড়ে।

আমরা যখন টয়লেটে ফোন ব্যবহার করি, তখন সেই অদৃশ্য ব্যাকটেরিয়াগুলো সরাসরি ফোনের স্ক্রিন, কভার এবং বডিতে জমে যায়। হাত সাবান দিয়ে ধোওয়া হলেও ফোনে লেগে থাকা সেই জীবাণুগুলো কিন্তু ধোওয়া হয় না। পরবর্তীতে সেই ফোন ব্যবহার করে খাবার খাওয়া বা মুখে হাত দেওয়ার ফলে সেই ক্ষতিকর জীবাণু পেটে প্রবেশ করে ডায়রিয়া, পেটের সংক্রমণ এবং ত্বকের নানা সমস্যা সৃষ্টি করে।

২. পাইলস বা অর্শ রোগের মারাত্মক ঝুঁকি

ফোনে মগ্ন থাকার কারণে মানুষ অজান্তেই কমোডে ১৫ থেকে ৩০ মিনিট বা তারও বেশি সময় বসে থাকে। আধুনিক ওয়েস্টার্ন কমোডে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ফলে শরীরের নিচের অংশ এবং মলদ্বারের শিরাগুলোর ওপর অনাবশ্যক অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এর ফলে মলদ্বারের রক্তনালীগুলো ফুলে যায় ও প্রদাহের সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তীতে পাইলস, ফিশার এবং রক্তপাতের মতো যন্ত্রণাদায়ক ব্যাধির রূপ নেয়।

৩. কোষ্ঠকাঠিন্য ও অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হ্রাস

আমাদের মস্তিষ্ক এবং অন্ত্রের মধ্যে একটি গভীর যোগাযোগ রয়েছে। স্বাভাবিক নিয়মে টয়লেটে গিয়ে শরীর স্বাভাবিকভাবে মলত্যাগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। কিন্তু টয়লেটে ফোন ব্যবহারে মস্তিষ্কের মনোযোগ সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে চলে যায়। এর ফলে অন্ত্রের স্বাভাবিক সংকোচন-প্রসারণ বা পেরিস্টালসিস (Peristalsis) ব্যাহত হয়। দীর্ঘদিন এই অভ্যাস বজায় থাকলে শরীর স্বাভাবিক মলত্যাগের সংকেত হারায়, যা স্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্যের (Constipation) দিকে ঠেলে দেয়।

৪. ঘাড় ও মেরুদণ্ডের সমস্যা

কমোডে বসে নিচু হয়ে দীর্ঘক্ষণ ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে ঘাড়, কাঁধ এবং মেরুদণ্ডের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এটি টেক-নেক (Tech-Neck) সিন্ড্রোম, স্পন্ডিলাইটিস এবং কোমর ব্যথার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয় ও চিকিৎসকের পরামর্শ

  • টয়লেটে যাওয়ার সময় ফোন বাইরে রেখে যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
  • টয়লেটের ভেতরে ১০ মিনিটের বেশি সময় কখনোই কাটাবেন না।
  • নিয়মিত অ্যালকোহল সমৃদ্ধ ওয়াইপস বা স্যানিটাইজার দিয়ে ফোনের স্ক্রিন ও কভার পরিষ্কার করুন।

সাময়িক বিনোদনের জন্য টয়লেটে ফোন ব্যবহারের এই অভ্যাসটি আপনার আয়ু ও সুস্বাস্থ্যকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলছে। সুস্থ ও রোগমুক্ত জীবনযাপন করতে আজই এই ক্ষতিকর অভ্যাস পরিহার করুন এবং টয়লেটকে কেবল শরীরের বর্জ্য নিষ্কাশনের স্থান হিসেবেই ব্যবহার করুন।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON